- দে । শ
- আগস্ট ১৭, ২০২৩
যাদবপুর হস্টেলে ৯ অগাস্ট রাতে কী ঘটেছিল? পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে নৃশংস, বিকৃত, চাঞ্চল্যকর অত্যাচারের পরিকল্পিত তথ্য
৯ অগাস্ট, ২০২৩। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলে কী ঘটেছিল সেই রাতে? পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক সেই নৃশংস, বিকৃত অত্যাচারের ভয়াবহ কাহিনী ! এখনও পর্যন্ত এই ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ৯ জনকে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। তাদের জেরা করে পুলিশের দাবি, ৯ অগাস্ট রাতে নৃশংস ব়্যাগিং হয় মৃত পড়ুয়ার সঙ্গে। তাঁকে দিয়ে জোর করে চিঠি লেখানো হয়। তাঁকে বিবস্ত্র করে ঘোরানো হয় সিনিয়ার হস্টেলের ঘরে ঘরে। ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট ধরে যত রকম বিকৃত রুচি চরিতার্থ করার পদ্ধতি আছে, সব ঘটে গিয়েছে ওই ছাত্রের সঙ্গে ! পুলিশের অনুমান, এই অবর্ণনীয় অত্যাচারের ঘটনায় মাত্র ৯ জন নয়, আরও অনেকে যুক্ত আছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ৯ অগাস্ট, রাত ১০.০৫ মিনিটে ডিন অফ স্টুডেন্টসের কাছে একটি ফোন আসে। যেখানে নাকি বলা হয়, একজন ছাত্র অস্বাভাবিক ব্যবহার করছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, একটা চিত্রনাট্য তৈরি করে ওই ছেলেটির উপর হাড়হিম করা অত্যাচার করা হয়। সন্দেহ করা হচ্ছে, ব়্যাগিংয়ে যুক্ত একদলের ফোন গিয়েছিল ডিন অফ স্টুডেন্টস-এর কাছে। আরেকদল ব্যস্ত ছিল র্যাগিংয়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০.০৫ টায় ডিন অফ স্টুডেন্টসের কাছে একজনের ফোন যায়। সেই ফোনে ট্রু-কলারে নাম নোট করে তিনি ফোন করেন হস্টেল সুপারকে। জিগ্যেস করেন, এই নামে হস্টেলে কেউ আছে কি না। সেই অনুসারে, তাঁকে বিষয়টি দেখতে বলেন। এগিয়ে চলছিল ঘড়ির কাঁটা। অন্যদিকে চলছিল অমানুষিক নির্যাতন। রাত ১১.৩০ টা নাগাদ পরিচয়পর্বের নাম করে একটা ঘরের মধ্যে চলতে থাকে মানসিক নির্যাতন। জানা যায়, তাঁকে বিবস্ত্র করে ইন্ট্রো নেওয়ার নাম করে করা হচ্ছিল নির্মম শারীরিক অত্যাচার,বাদ যায়নি যৌন অত্যাচারও। রাত ১১.৪৫-য় ওই ছাত্রকে হস্টেলের নিচ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এদিকে ডিন অফ স্টুডেন্টস ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, যেদিন সকালে ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়, সেদিন সংবাদ মাধ্যমের কাছে ডিন অফ স্টুডেন্টস রজত রায় বলেন, বুধবার রাত ১০ টা ৫ মিনিটে তাঁর কাছে একটা ফোন আসে হস্টেল থেকে। তাতে একজন বলে, হস্টেলে থাকলে ওপর থেকে ঝাঁপ দিতে হয়, বলা হচ্ছে। রজত রায় তারপর বলেন, আমি ওই ফোন পেয়ে বিষয়টা হস্টেল সুপারকে জানিয়ে রাতের খাবার খেতে চলে যাই। তার অনেক পরে সুপার আমায় জানান, একটা ছাত্র পড়ে গেছে, তাঁকে কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি তারপর গাড়ি চালিয়ে কেপিসি হাসপাতালে যাই। এর মধ্যে আমার কাছে আরও ফোন আসে, আমি গাড়ি চালাচ্ছিলাম, তাই ধরতে পারিনি। ডিন অফ স্টুডেন্টস কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টি ব়্যাগিং কমিটির আহ্বায়ক। প্রশ্ন উঠছে, প্রথম ফোন পেয়ে দায়টা সুপারের ওপর না চাপিয়ে তিনি কেন মেন হস্টেলে গেলেন না? কেন সুপার, রেজিস্ট্রার ঘটনার রাতে মেন হস্টেলে এলেন না? কাজেই এই মৃত্যুর দায় কী এড়াতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, ডিন অফ স্টুডেন্টস এবং সুপার?
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের জেরা করে ৯ অগাস্টের রাতের অত্যাচারের হাড়হিম করা তথ্য জানা গেছে। ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে চলেছিল সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত নির্যাতন। এরপর ৩ তলা থেকে পড়ে ওই ছাত্রের মৃত্যু ঘটে। সূত্রের খবর, প্রথমে ৪ তলার ঘরে শুরু হয় নির্যাতন। এরপরে ৪ তলা থেকে ৩ তলার একের পর এক ঘরে এনে নগ্ন অবস্থায় শুরু হয় পরিচয়পর্ব। ৯ তারিখের আগের দিনও র্যাগিং হয়, পরের দিনও হয় এই নির্মম অত্যাচার। জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম করে চিঠি লেখানোয় মুখ্য ভূমিকা ছিল সৌরভ ও সপ্তকের।
❤ Support Us






