- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ৩, ২০২৩
উর্ধমুখী জনসংখ্যার যোগে চ্যালেঞ্জের মুখে জনস্বাস্থ্য। হাল ফেরানোর উপায় নিয়ে জমাট বাঁধছে সংশয়ের মেঘ
জনবহুল দেশের তালিকায় শীর্ষে ভারত। চিনের থেকেও বর্তমানে ৫০ লক্ষ বেশি জনসংখ্যা ভারতের। ১৯৫০ সালে জাতীয় জনগণনা বিন্যাসের সূচনা হওয়ার পর প্রথম ১ নম্বরে উঠে এল ভারত। যদিও জনবিস্ফোরণ দেশের জনস্বাস্থ্যের হাল কতটা ফেরাতে পারল তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি দেশের বিপুল জনসংখ্যা সে দেশের সম্পদের সমানুপাতিক না হলে তা কখনো দেশের সার্বিক বিকাশের উপযোগী হয় না। অর্থনীতিবিদ জ্যাঁ দ্রেজ বলেছেন, ভারতের অর্থনীতি ২০৬৪ সালের মধ্যে আরো বিকশিত হবে। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের পরিসংখ্যানবিদরা জানাচ্ছেন, সেই সময়ের মধ্যে ভারতের জনসংখ্যাও ১৭০ কোটির কাছাকাছি এসে পৌঁছাবে। ভারতের সম্পদের পরিমাণ যদি বৃদ্ধি না পায় তাহলে এক গভীর সংকটে পড়বে ভারতের অর্থনীতি।
ভারতের জনসংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে তাল রেখে বেড়ে চলেছে খাদ্যের বিশেষত পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা। প্রয়োজন পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর। এখন দেখার বিষয় সেই অভাব কি পূরণ হচ্ছে ? ২০২৩-২৪ অর্থবাজেটে ভারত সরকার অন্যান্য বছরের তুলনায় স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়ানো হলেও হাসপাতাল ও ক্লিনিক তৈরিতে ব্যয় বরাদ্দ জাতীয় আয়ের ৪ থেকে ৫ শতাংশের কম।
খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি তথৈবচ।জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের দুটি ক্ষেত্রেই বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এফসিআইকে ভর্তুকির পরিমাণ গত বাজেটে ছিল ১,৪৫,৯২০ কোটি টাকা। তা এবার নামিয়ে আনা হয়েছে ১,৩৭,২০৭ কোটি টাকায়। একই জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুসারে খাদ্যশস্য সংগ্রহে ভর্তুকির পরিমাণও কমানো হয়েছে। গত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৬০,৫৬১কোটি টাকা। এর প্রভাব পড়ছে মিড ডে মিলে ব্যয় বরাদ্দেও ।বহু শিশু পাচ্ছে না পুষ্টিকর খাবার। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে প্রত্যেকে ছজন চার বছরের কম শিশুর মধ্যে একজন করে অপুষ্টির শিকার। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি আশাজনক নয়। অনেক শিশুই রয়েছে যাদের শারীরিক উচ্চতা ও ওজনের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য মিড ডে মিল নিয়ে গাল ভরা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব চিত্র বড়োই করুণ। বহু শিশুই দুপুরের দৈনিক আহারের জন্য পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে না। অপুষ্টি গ্রাস করছে শৈশব ও কিশোরকে। যার দরুণ ভারত বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১২৬ দেশের মধ্যে ১০৯ নম্বর স্থানে।
অর্থনৈতিক দুরবস্থার পাল্লা ভারী করছে মহামারীর প্রাদুর্ভাব। ফলে বাড়তি জনসংখ্যা দেশের জনস্বাস্থ্যকে আরো বড়ো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। শিক্ষা গিয়েছে, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর অবস্থা সঙ্গীন। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ভারতের উৎপাদনকে যতটা না বৃদ্ধি করছে তাঁর থেকে বেশি বাড়াচ্ছে আর্থিক অসাম্য। পরিশেষে কবীর সুমনের ভাষায় একটাই কথা বলার-‘কেউ যদি বেশি খাও, খাবার হিসাব নাও কেননা অনেক লোক ভালো করে খায় না।’ আজকে সময় এসেছে রাষ্ট্রব্যবস্থার কাছে হিসেব চাওয়ার। অসাম্য, দারিদ্র, ক্ষুধা , অপুষ্টি প্রতিরোধে ভারতের সরকার সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে কি আদৌ আগ্রহী? ২০৬৪ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্তিশালী করতে হলে দেশের সরকারকে এ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করানো আজ একান্তভাবে অপরিহার্য।
❤ Support Us





