- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ২৮, ২০২৩
২৪ এর লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে মোদি বার্তা পুতিনের
আগামী বছরের লোকসভা নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, “আমাদের বন্ধুদের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি। রাজনৈতিক শক্তির সমীকরণ যাই হোক না কেন নয়াদিল্লি এবং মস্কোর মধ্যে ঐতিহ্যগত ও প্রচলিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবেই।”
পুতিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে বৈঠকের সময় এই মন্তব্য করেন, পুতিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাশিয়া সফরের জন্য আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।
পুতিন ইউক্রেনের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান। পুতিন বলেন, “অনেকবার, আমি নরেন্দ্র মোদিকে পরামর্শ দিয়েছি যে সেখানে কী পরিস্থিতি চলছে এবং আমি জানি যে মোদি এই বিষয়ে তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে ইচ্ছুক যাতে সমস্যাটি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা যায়।”
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “বিশ্বব্যাপী ঘটছে এমন সব অশান্তি সত্ত্বেও এশিয়ায় আমাদের প্রকৃত বন্ধু ভারতের সাথে সম্পর্ক ক্রমবর্ধমানভাবে অগ্রসর হচ্ছে, এটা দেখে মস্কো সন্তুষ্ট।”
পুতিন বলেন, “আমাদের প্রিয় বন্ধু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাশিয়া সফরে এলে আমরা অবশ্যই আনন্দিত হব, আমরা সমস্ত বর্তমান প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারব এবং রাশিয়া ও ভারতের সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে পারব।”
রুশ প্রেসিডেন্ট এস জয়শঙ্করকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমার শুভেচ্ছা জানাবেন। পুতিন বলেন, “অনুগ্রহ করে তাঁকে বলুন যে আমরা তাঁকে দেখতে চাই।” তবে পুতিন এরই মধ্যে অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে “আগামী বছর ভারতের একটি ব্যস্ত রাজনৈতিক সময়সূচী থাকবে, ২০২৪ সাল সাধারণ নির্বাচন আগামী বছরের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। আমরা আমাদের বন্ধুদের এই নির্বাচনে সার্বিক সাফল্য কামনা করি এবং আমরা আশা করি… যেভাবেই হোক, রাজনৈতিক শক্তির সমীকরণ যাই হোক না কেন, আমাদের দেশের সঙ্গে ভারতের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে।”
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বলে আসছে যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। নয়াদিল্লি পুতিন এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেছে এবং দেখা করেছে এবং সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছে। এই বছরের শুরুতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির সাথে নরেন্দ্র মোদির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন যে ভারত বিরোধ সমাধানের জন্য যা যা করা যায় তা করবে। ২০২১ সালে সমরকন্দে পুতিনের সাথে সাক্ষাতের সময়, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছিলেন যে এটা “যুদ্ধের যুগ নয়”।
মস্কোর বিরুদ্ধ শিবিরে যোগ দিতে পশ্চিমাদের চাপও প্রতিহত করেছে ভারত। বিশ্বব্যাপী সমালোচনা সত্ত্বেও, ইউক্রেন আক্রমণের জন্য পশ্চিমারা মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আনার পর ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ক্রয় করা অব্যাহত রেখেছে। এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী তাঁকে দেশের উপকারের জন্য যা প্রয়োজন তাই করতে বলেছেন।”
এস জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের অবশ্যই বিশ্বের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে কিন্তু সুবিধার কথা চিন্তা করে এক্ষেত্রে পিছিয়ে আসা মোটেই উচিত নয়। আমরা যদি দেশের জনগণকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে রেহাই দিতে পারি, সেই কাজ অবশ্যই করব। প্রধানমন্ত্রী আমায় বলেছেন, এক্ষেত্রে এমন একটি অবস্থান নিন যাতে ভারতের উপকার হয়, আমরা সেটাই করেছি।”
❤ Support Us






