- দে । শ ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- মার্চ ৩১, ২০২৩
বই মানুষের বই বাগানে পাঠকের ঢল! নিরাপত্তারক্ষীর অভাবনীয় উদ্যোগে পুস্তক পাঠের চিরাচরিত প্রথা ভাঙার ইঙ্গিত
এ যেন প্রথা ভাঙার মধ্যে দিয়ে মননের উদযাপন। উদ্যানের নির্মল শান্ত পরিবেশে ওঠা পাঠাগার পাঠককে যোগাচ্ছে চিন্তার নতুন রসদ। নেই কোনো প্রবেশ মূল্য, নেই কোনো লাইব্রেরী কার্ড। শুধু রয়েছে পাঠকের অবাধ আনাগোনা ও তাদের সংযত অথচ নির্ভেজাল আড্ডা। বাগবাজারের পাঠাগার বিভিন্ন বয়সের বিদ্যোৎসাহীদের সমারোহে সারস্বত সাধনার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলছে।
জগৎ মুখার্জি পার্ক চিল্ড্রেনস পার্ক নামে এলাকায় পরিচিত। কিন্তু এখন তাঁর পরিচিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে। টবে সাজানো সারি সারি গাছ আর তাঁর পাশে একটি ছাউনি দেওয়া ঘরে প্রতিটি তাকে ও টেবিলে বইয়ের বিপুল সম্ভার। প্রতি ঘন্টায় পার্কে আসা ভ্রমণকারীদের কেউ না কেউ নেড়েচেড়ে দেখছেন কোনো না কোনো বই বা পত্রিকা। এলাকাবাসীরা অভাবনীয় উদ্যোগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অনেকেই তাঁদের বাচ্চাদের নিয়ে উদ্যানে আসেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, পার্কে এলে ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গে পুস্তক পাঠেরও নির্মল আনন্দ পাওয়া যায়। পাঠক ও ভ্রমণকারীদের জন্য এ যেন এক অনাবিল আনন্দ।
পাঠাগারটিকে সুনিপুণ কর্মকুশলতায় সাজিয়ে রয়েছেন সত্যরঞ্জন দলুই। পেশায় নিরাপত্তারক্ষী। দীর্ঘদিন ধরে পাঠাগার সংলগ্ন জগৎ মুখার্জি পার্কের সুরক্ষার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁর নিজের পড়াশোনা মাধ্যমিকের পর বেশিদূর গড়ায়নি। সাংসারিক দায়-দায়িত্ব বইয়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়িয়েছে কিন্তু জ্ঞানচর্চার প্রতি প্রবল আগ্রহই বিদ্যাচর্চাকেন্দ্রের নব নিকেতন নির্মাণে তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। সত্যরঞ্জনের কথায়, বই পড়বার বিশেষ সুযোগ হয় না। কিন্তু পাঠকরা এখানে এসে বই সংগ্রহ করেন এবং তা নিয়ে যে আলোচনার আসর বসান তাতে ঋদ্ধ হয় তাঁর মনন ও চেতনা। জ্ঞানপিপাসু এ ব্যক্তি সারস্বত সাধনাকে অব্যাহত রাখতে,সহজ করে তুলতে বিনামূল্যে বই দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। নেই প্রথাগত লাইব্রেরীর বিধিনিষেধ। জ্ঞান ও চিন্তাকে কোনো সংকীর্ণ গণ্ডীর মধ্যে আবদ্ধ রাখার প্রবণতা এখানে অনুপস্থিত।
বই সংগ্রহ করেন কীভাবে? তাঁরও এক অনন্য জবাব দিলেন অক্লান্ত এ প্রৌঢ়। সাইকেলে চেপে যান কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ। সেখানে জোকায় যান, ফিরে আসেন ক্যারিয়ারে পুরোনো বই ও পত্র পত্রিকার বোঝা নিয়ে। এভাবেই বেড়ে ওঠে বই মানুষের পুস্তক উদ্যান।
❤ Support Us






