Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১২, ২০২৫

দিল্লির বুকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ৪তলা আবাসিক ভবন। উদ্ধার শিশুসহ ৮, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে অনেকে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লির বুকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ৪তলা আবাসিক ভবন। উদ্ধার শিশুসহ ৮, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে অনেকে

শনিবার রাজধানীর ঘুম ভাঙল বিকট শব্দে। ধুলোয় ঢেকে গেল গোটা একটি পাড়া। উত্তর-পূর্ব দিল্লির সিলামপুরের জনতা কলোনিতে ভেঙে পড়ল একটি চারতলা আবাসিক ভবন। এখনো পর্যন্ত শিশুসহ আটজনকে উদ্ধার করা গেলেও, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন আরো কয়েকজন বলে আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল।

সকাল ঠিক ৭টা। অনেকেই তখন বিছানায়। কেউ বা বেরিয়েছেন সকালবেলা হাঁটতে। ঠিক সে সময় হঠাৎ করে কেঁপে উঠল এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ৫-এ গলির পুড়ো বাড়িটি। ইদগাহ রোড সংলগ্ন জনতা কলোনিতে ভয়াবহ এই ঘটনায়, ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তেই। জানা যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একে একে উদ্ধার করা হয়েছে ১৪ মাসের শিশু আহমদ, পারভেজ (৩২), নাভেদ (১৯), সিজা (২১), দীপা (৫৬), গোবিন্দ (৬০), রবি কাশ্যপ (২৭) ও জ্যোতি (২৭)-কে। শিশু আহমদকে ভর্তি করা হয়েছে জিটিবি হাসপাতালে। বাকি সকলকে জেপিসি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় বাসিন্দা আসমা জানিয়েছেন, ‘একটা বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। জানলার বাইরে তাকাতেই দেখি, ধুলোর কুয়াশায় চারদিক ঢেকে গেছে। নিচে নেমে দেখি পাশের বাড়িটা ভেঙে পড়েছে। সেখানে ১০ জনের একটি পরিবার থাকতেন। এখনো সবাইকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।’ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যায় দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইঞ্জিন। তৎপরতার সাথে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এনডিআরএফ, পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে উদ্ধারকাজে বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকার সংকীর্ণ গলি। বিশাল যন্ত্রপাতি বা ক্রেন ঢোকানো সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাতেই মাটি-ইট সরিয়ে চলছে চাপা পড়া ব্যক্তিদের খোঁজ চলছে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের প্রধান অতুল গর্গ জানিয়েছেন, ‘সকাল ৭টা ৫ মিনিটে খবর পাই। সঙ্গে সঙ্গেই পাঠানো হয় দমকলের ৭টি ইঞ্জিন। এ পর্যন্ত ৮ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি কেউ ভিতরে আটকে রয়েছেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।’

ভয়াবহ এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যেখানে দেখা যাচ্ছে, এলাকার বাসিন্দারা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ইট, কংক্রিটের টুকরো সরাচ্ছেন। স্থানীয়রাই প্রথম উদ্ধারকাজ শুরু করেন। অনেকেই তখন রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়েছিলেন, তাঁরাই প্রথম শব্দ শুনে ছুটে যান। ধসের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বহু পুরনো বাড়ি নিয়মিত মেরামতি ছাড়াই বছরের পর বছর ব্যবহার করা হয়। তার উপর নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত তলা তৈরি করা হয়। এর ফলেই ঘটে এমন বিপর্যয়।

প্রসঙ্গত, এপ্রিল মাসেও দিল্লির মুস্তাফাবাদে একটি ৪তলা ভবন ধসে প্রাণ গিয়েছিল ৪জনের। দিল্লির পুরনো এলাকাগুলিতে ভবন ধসের ঘটনা নতুন নয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে, আজাদ মার্কেট এলাকায় ধসে পড়েছিল একটি ২ তলা বাড়ি, ঘটনায় প্রাণ হারান এক ব্যক্তির। সেটিও মেট্রোর টানেল নির্মাণের ‘ইনফ্লুয়েন্স জোন’-এর মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। নিয়মিত বাড়িগুলি পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, নির্মাণ অনুমোদনের নামে দুর্নীতি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত প্রাথমিক গুরুত্ব পাচ্ছে উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে রয়েছে পুলিশ ও দমকলের উচ্চপদস্থ কর্তারা। পরবর্তী সময়ে নির্মাণ সংক্রান্ত নথিপত্র ও মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনও ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!