- দে । শ
- জুন ১১, ২০২৫
দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ মহেশতলা! দোকানে ভাঙচুর, ইট-পাথরবৃষ্টিতে রক্তাক্ত পুলিশ
ফলের দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনায় অগ্নিগর্ভ দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা। দুই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিবাদ রীতিমতো সংঘর্ষের চেহারা নেয়। দফায় দফায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে আক্রান্ত হয় পুলিশও। বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইট-পাথরে জখম হয়েছেন একাধিক পুলিশকর্মী, যার মধ্যে রয়েছেন এক মহিলা কনস্টেবলও। তাঁর আঘাত গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার সকালে সন্তোষপুর এলাকার আক্রা মোড় সংলগ্ন অঞ্চলে দোকান বসানো নিয়ে বচসা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, প্রথমে কথাকাটাকাটি, তার পর হাতাহাতি, আর তারপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দ্রুত খবর পৌঁছোয় স্থানীয় থানায়। পুলিশ পৌঁছতেই শুরু হয় ইটবৃষ্টি। একের পর এক বাড়ির ছাদ থেকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হতে থাকে পাথর। আক্রান্ত হন বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী। বিক্ষোভকারীদের থামাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছোঁড়া হয় কাঁদানে গ্যাসের শেলও। তাতেও থামানো যায়নি উত্তেজনা। রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে মহেশতলার রাস্তাঘাট। রবীন্দ্রনগর থানার সামনে পুলিশের একটি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেয় ক্ষিপ্ত জনতা।। একাধিক দোকানে ভাঙচুর, গাড়ির কাচ ভাঙা, এমনকি বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশসূত্রে খবর, প্রথমে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় কিছুক্ষণের জন্য পিছু হটতে বাধ্য হয় বাহিনী। এরপর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামানো হয় র্যাফ ও অতিরিক্ত বাহিনী। মাঠে নামেন দক্ষিণবঙ্গের এডিজি, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি-সহ পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। পুলিশের তরফ থেকে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত, সেখানে বেশ কিছু রাস্তাঘাট এখনো অবরুদ্ধ। আতঙ্কে ঘরবন্দি বহু বাসিন্দা। স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, ‘প্রশাসন আগেভাগে হস্তক্ষেপ করলে কি এমন পরিস্থিতি এড়ানো যেত না?’ পুলিশের দাবি, উত্তেজনা এতটাই হঠাৎ করে ছড়ায় যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে অশান্তির সূত্রপাত, কারা কারা এতে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই রেহাই না পায়, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
❤ Support Us






