Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ২০, ২০২৩

মণিপুরে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল। ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্মৃতি। অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি বিরোধীদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মণিপুরে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল। ঘটনায় ক্ষুব্ধ  স্মৃতি। অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি বিরোধীদের

মণিপুর এবার সাক্ষী রইল মধ্যযুগীয় বর্বরতার। জাতিগত হিংসায় মণিপুরের পরিস্থিতি যে কতটা খারাপ সেটা প্রথম থেকেই বিরোধীরা বলে আসছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মণিপুর নিয়ে তাঁর মৌনতা ভাঙেননি। ওই রাজ্যে হিংসা শুরু হয় ৩ মে, আর ৪ মে তিনজন মহিলাকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানো হয়, তার আগে তাদের গণধর্ষণ করা হয়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও  ভাইরাল হওয়ার তোলপাড় সারা দেশ। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে দুই মহিলাকে নগ্ন করে হাঁটানো হচ্ছে রাস্তা দিয়ে। দুই নির্যাতিতা মহিলাকে ঘিরে রয়েছে এক দল পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি। স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনের অভিযোগ দুই মহিলাকে একটি মাঠে গণধর্ষণ করা হয়েছে। তারপরই তাঁদের রাস্তা দিয়ে হাঁটানো হয়েছে। গোটা ঘটনার নিন্দা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন অনেকেই। মণিপুরে হিংসার সময়ই এই ঘটনা ঘটে। প্রশ্ন উঠছে এর পরেও কেন মণিপুরের হিংসা থামাতে প্রধানমন্ত্রী কোনও হস্তক্ষেপ করছেন না?

দেশের পক্ষে লজ্জার এই নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ মে। অর্থাৎ মণিপুরে হিংসা শুরুর ঠিক পরের দিন।  সেই ঘটনায় এবার উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় নারী  ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। এই নিয়ে একটি টুইট করেছেন সাংসদ স্মৃতি ইরানি। টুইট তিনি লিখেছেন, “মণিপুরে ২ জন মহিলার যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ যে ভিডিয়ো সামনে এসেছে, তা নিন্দনীয় এবং সম্পূর্ণ অমানবিক।” স্মৃতি জানান, এই ঘটনা নিয়ে তিনি মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের সঙ্গে কথাও বলেছেন। স্মৃতি টুইট বার্তায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লিখেছেন , “মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং আমাকে জানিয়েছেন যে ঘটনার তদন্ত চলছে। অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে আনার জন্য সব রকম ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।”

এদিকে এই ঘটনার পর মণিপুরের উপজাতী নেতাদের ফোরাম এই বিষয় নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নির্মাণ ও অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ মে। রাজধানী ইম্ফল থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে কাংপোকপি জেলায়। এই ঘটনায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল কাংপোকপি জেলা প্রশাসনের কাছে। ওই বিবৃতিতে অভিযোগ করে লেখা হয়েছে, স্থানীয় এক জননেতার সামনে তিন মহিলাকে নগ্ন করে হাঁটানো হয়েছে। এই ঘটনা পাঁচ জনের একটি দলকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। যারা মণিপুর হিংসার ঘটনাতেও জড়িত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ দুই মহিলাকে ৪ মে, গণধর্ষণ করা হয়। যার মধ্যে এক জনের বয়স ১৯। তার ভাই মহিলাকে উদ্ধার করতে এলে তাকেও খুন করে ধর্ষকরা।

এই ভয়াবহ ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই মণিপুরের বিজেপি সরকার তৎপরতা শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং পুলিসকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছে, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও তাঁর মন্ত্রকের মুখ্য সচিবের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। সমগ্র ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।” ভিডিওটি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের তরফে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশের অভিযোগ,গত ৪ মে কাংপোকপি জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। ২১ জুন থৌবাল জেলায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ, গণধর্ষণ ও হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এফআইআর-এ বলা হয়েছে তিন জন মহিলাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে তাদের পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। জনতার সামনে প্রকাশ্য রাজপথ দিয়ে উলঙ্গ অবস্থা হাঁটতে বাধ্য করা হয়েছিল ওই মহিলাদের।

পুলিশ জানিয়েছে, মণিপুরে ৩ মে হিংসার ঘটনা শুরু হয়। তার ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ৪ মে এই ঘটনা ঘটেছিল। একে ৪৭ রাইফেলস, এসএলআর , ইনসাস এবং ৩০৩ রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত প্রায় ৮০০ থেকে এক হাজার জনের একটি দল মণিপুরের একটি গ্রামে প্রবেশ করে দোকানপাট লুঠ করে। বাড়িঘরে ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। তারা মেইতি সম্প্রদায়ের সদস্য বলেও  পুলিশের অনুমান। পুলিশের অনুমান এই দলটি মেইতি লিপুন, কাংলেইপাক কানবা লুপ, আরামবাই টেঙ্গোল ও ওয়ার্ল্ড মেইতি কাউন্সিলের মত সংগঠনের সদস্য।

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি। তিনি বলেছেন, মণিপুরের ঘটনা হৃদয় বিদাকর। মহিলাদের প্রতি হিংসার একটি ভয়াবহ ঘটনা। এই ঘটনার নিন্দা করার কোনও ভাষা নেই। মহিলা ও শিশুদের মনে গোটা ঘটনার প্রবল প্রভাব পড়বে। ত্রিপুরার টিপরা মোথা পার্টির প্রধান বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, মণিপুরের একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মহিলাদের নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটিয়েছে, এই ঘটনা রীতিমত লজ্জার। এই ঘটনা দুটি সম্প্রদায়ের মানুষকে আরও দূরে ঠেলে দেবে। আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, মণিপুরের ঘটনা লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়। ভারতীয় সমাজ এই ঘটনা সহ্য করে না। তৃণমূলের পক্ষ থেকে টুইট করে গোটা ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিবৃতি চাওয়া হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!