Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৪, ২০২৫

মধ্যপ্রদেশে আধার কার্ডের ছবি বদলিয়ে পুলিশ নিয়োগ। ‘সলভার গ্যাং’-এর কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মধ্যপ্রদেশে আধার কার্ডের ছবি বদলিয়ে পুলিশ নিয়োগ। ‘সলভার গ্যাং’-এর কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় ভয়ঙ্কর জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় মধ্যপ্রদেশ । ‘সলভার গ্যাং’ নামে একটি দুষ্কৃতী চক্র পরিক্ষার্থীদের আধার কার্ডের বায়োমেট্রিক তথ্য ও ছবি বদলে দিয়েছিল, যাতে অন্য কেউ তাঁদের হয়ে পরীক্ষা দিতে পারে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে মোরেনার শারীরিক পরীক্ষার সময় পুলিশের নজরে আসে অস্বাভাবিক ব্যাপার, দেখা যায় একাধিকবার আধার তথ্য পরিবর্তনের ঘটনা। শুরু হয় গোপন তদন্ত। জানা যায়, লিখিত পরীক্ষার আগে অনেক পরীক্ষার্থীর আধার ছবিও আঙুলের ছাপও বদলে দেওয়া হইয়ছে।

তদন্তে উঠে আসে ‘সলভার গ্যাং’-এর পাঠানো ভুয়ো পরীক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছিল, আশ্চর্যজনকভাবে তাঁরা সফলও হয়। পরীক্ষা শেষে আসল পরীক্ষার্থীদের আবার আধার আপডেট করানো হয়েছিল যাতে পরবর্তীতে তাঁরা নিজের পরিচয় ফিরে পায়। অর্থাৎ, লিখিত পরীক্ষা দিতো প্রক্সিরা, শারীরিক পরীক্ষা দিতে হতো আসল পরীক্ষার্থীদেরই। চমকপ্রদ এই জাতিয়াতির জাল মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র, মোরেনা, শেওপুর, শিবপুরি, শাহদোল ও আলিরাজপুর জেলা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। ভিটারওয়ার, মোরেনা আর শেওপুরের আধার সেন্টারগুলো এই জালিয়াতির মূল কেন্দ্র ছিল বলে জানা গেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, একজন ‘সলভার’ একবারে ৬ জনের বদলে পরীক্ষায় বসেছিল, তাদের মধ্যে ৫ জনই পাশ করেছিল। বেশিরভাগ সলভার ছিলেন বিহার থেকে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে এই প্রতারণা চক্র ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা নেয়, আর কখনো কখনো লেনদেনের অঙ্ক পৌঁছে যেত ১৫ লাখের কাছাকাছি।

ঘটনার তদন্তে এ পর্যন্ত ১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে সলভার বা নকল পরীক্ষার্থী ও আধার অপারেটর। আরও শতাধিক সন্দেহভাজনের খোঁজ চলছে। তদন্তকারীরা বলছেন, প্রতারণার এই জাল বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকতে পারে। দুর্নীতির শিকার, কালেক্টর অফিসে পিয়নের ছেলে, পরীক্ষার্থী আরবাজ আলি, চোখের জল জল মুছে তিনি বলেন, ‘আধার যাচাই সঠিকভাবে হলে আজ আমি ইউনিফর্ম পরে বাবাকে স্যালুট জানাতাম।’ অন্য একজন শিকার অভিষেক চন্দেল বললেন, ‘আমি সাত বছর ধরে এই স্বপ্নে অপেক্ষা করেছি। কেউ আমার নামে পরীক্ষা দিচ্ছে, আমি কীভাবে সফল হব?’ পান্নার শৈলেন্দ্র মিশ্রার কান্নাভেজা কথা, ‘আমরা সব কিছু ছেড়েছি কেবল একটা সরকারি চাকরি পাবো বলে। কিন্তু এই সিস্টেম আমাদের আশা বারবার ভেঙে দেয়।’ চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস পাওয়া গেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!