- দে । শ
- জুলাই ২৪, ২০২৩
পাঁচ দশক পর আইনসভায় অনিশ্চয়তা। নির্বাচন ফলাফলে ত্রিশঙ্কু স্পেন
ক্ষমতা হারাতে পারেন স্পেনের সমাজবাদীরা। সম্প্রতি, সে দেশের নির্বাচনে যে ফলাফল ঘোষিত হয়েছে তাতে কোনো দলই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ৩৫০ আসনের জাতীয় আইনভার অবস্থা এখন ত্রিশঙ্কু। প্রধানমন্ত্রী পেড্রো স্যাঞ্চেজের দল সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি যারা দীর্ঘ সময় দেশের শাসনভার সামলেছেন তাঁরা মাত্র ১২২ আসন নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছে। অপরদিকে দক্ষিণপন্থী বলে পরিচিত পিপলস পার্টির ঝুলিতে রয়েছে ১৩৬টি আসন। জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৭৬-এর ম্যাজিক ফিগার পার করা যা দুই দলই করতে ব্যর্থ হয়েছে।
নির্বাচন পরবর্তী যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাতে দুই দলেরই সরকার গড়তে হলে অন্য দলের সঙ্গে জোট গড়ে তোলা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। দেশে অতি দক্ষিণপন্থী বলে পরিচিত ভিওএক্স ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, পিপি-র পাশে দাঁড়াতে তাঁরা তৈরি। যদিও তাতে বিশেষ সুবিধা হবে না। কারণে যারা সমর্থন করতে চাইছে তাঁদের আসন সংখ্যা ৩৩। যার ভিত্তিতেও ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে আরো ছোটো ছোটো আঞ্চলিক দলের সঙ্গে বোঝাপড়া গড়ে তোলা যায় কিনা সে ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা চলছে। শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রচেষ্টা যদি সফল হল, তাহলে ১৯৭০-এর পর আবার স্পেনের শাসন ক্ষমতা দখল করবে রক্ষণশীলরা।
সমাজবাদীদের সমর্থন করছিল ১৫টি বামপন্থি দলের জোট। তারা ৩১টি আসন পেয়েছে। তাই সমাজবাদী ও বামপন্থী মিলিয়ে ১৫৩টি আসন হচ্ছে। আরো অন্যান্য আঞ্চলিক দল সমর্থন করলে তাঁদের সংসদে আসন সংখ্যা হবে ১৭২। অপরদিকে দক্ষিণ পন্থীদের তা দাঁড়াবে গিয়ে ১৭০-এ। ফলাফলকে অবশ্য বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না দেশের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্যাঞ্চেজ। তাঁর দাবি, তাঁর দলই জয়ী হয়েছে। কারণ শতাংশের বিচারে পিছিয়ে রয়েছেন। যার পালটা দাবি করে পিপি নেতা ফেইজো বলেছেন, দল সবচেয়ে বেশি আসন জিতেছে, তাদের নেতা হিসাবে আমার সরকার গঠনের চেষ্টা করা উচিত বলে আমি মনে করি। এব্যাপারে আলোচনার জন্য ১৭ আগস্ট ঠিক করা হয়েছে। সেদিনই সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন।
স্পেনের ভোট হওয়ার কথা ছিল ডিসেম্বরে। স্যাঞ্চেজ তা এগিয়ে এনেছিলেন। কারণ, পুর নির্বাচনে তিনি এবং তাঁর বামপন্থী জোটসঙ্গীদের ফল খুবই খারাপ হয়েছিল। তব, তাতেও খুব বেশি সুবিধা করতে পারল না তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী বহুবার নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষকে পিপি ও ভিওএক্স জোটের সরকার গড়লে কী হতে পারে সে সম্পর্কে সচেতন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই লাভ হয় নি। বরং বিভিন্ন প্রগতিশীল দাবিকে হাতিয়ার করায় দক্ষিণপন্থী বলে পরিচিত পিপি বহু ভোট নিজের দখলে আনতে পেরেছে। এখন ক্ষমতা দখল তাঁদের পক্ষে সম্ভব কিনা তা নির্ভর করছে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ওপর।
❤ Support Us






