Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১০, ২০২৩

প্রাথমিকের নিয়োগে দুর্নীতি। ফুরফুরা থেকে শহিদ মিনার, লংমার্চ চাকরি-প্রার্থীদের। হাতে হাতে মাকড়সার জাল আর ফেস্টুন

মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন সহমর্মী পিরজাদার, এদের সঙ্গে বসুন।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রাথমিকের নিয়োগে দুর্নীতি। ফুরফুরা থেকে শহিদ মিনার, লংমার্চ চাকরি-প্রার্থীদের। হাতে হাতে মাকড়সার জাল আর ফেস্টুন

মঙ্গলবার হুগলির ফুরফুরা শরিফ থেকে শুরু হল টেট পাস প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চাকরি-প্রার্থীদের নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিবাদে লংমার্চ। বুধবার ধর্মতলার শহিদ মিনারে অবস্থানরত  চাকরি প্রার্থীদের মঞ্চে  লংমার্চটি এসে পৌঁছবে।

২০১৪ প্রাইমারি টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ট্রেন্ড নন ইনক্লুডেড চাকরি-প্রার্থীদের একতা মঞ্চের  উদ্যোগে লংমার্চ হচ্ছে। ফুরফুরা শরীফের তালতলা থেকে তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে পায়ে হেঁটেই তারা ধর্মতলার উদ্দেশ্যে চাকরির দাবিতে যাত্রা শুরু করেন।  মিছিলে যাঁরা পা মিলিয়েছেন তাঁদের কারও হাতে মাকড়সার জাল আঁকা  দুর্নীতির চেনা ছবি রয়েছে,  যা দুর্নীতির রহস্যমোচনের জন্য প্রাক্তন  তৃণমূল মন্ত্রী উপেন বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমকে দেখিয়েছিলেন । এ ছাড়াও  রয়েছে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ফেস্টুন।  মিছিল বুধবার পৌঁছবে হাওড়ায় হয়ে ধর্মতলা শহিদ মিনারে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে চাকরির দাবিতে অনশন করছেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা।  লংমার্চ বুঝিয়ে দিচ্ছে চাকরির দাবিতে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।

২০২০ সালের  ১১ নভেম্বর নবান্নে প্রেস কনফারেন্স করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, প্রাইমারি টেট উত্তীর্ণ যে কুড়ি হাজার চাকরিপ্রার্থী আছেন, তাদের   ১৬,৫০০ জনকে প্রথমে নিয়োগ করা হবে। বাকিদের ধাপে-ধাপে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর ১২ হাজারের মতো প্রার্থী চাকরি পেয়েছেন। বাকিদের এখনও নিয়োগ করা হয়নি।  লংমার্চ থেকে দাবি উঠছে,  যত দ্রুত সম্ভব বাকিদের নিয়োগ করতে হবে। সবার মুখে শ্লোগান,  নিয়োগ, নিয়োগ নিয়োগ চাই।

চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ,  যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।  টাকার বিনিময়ে  চাকরি বিক্রি হল।  দুর্নীতিগ্রস্তদের  একাংশের সহযোগিতায় কিছুসংখ্যাক নিয়োগ হয়েছে।

কয়েকজন চাকরি প্রার্থী ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা ত্বহা সিদ্দিকির সঙ্গে দেখা করে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন।  ত্বহা তাঁদের  প্রতি সহমর্মী । পিরজাদা  বলেছেন, “এরা ঝড়বৃষ্টি মাথায় করে রাস্তায় বসে আছেন। এটা দুঃখজনক ঘটনা।” মুখ্যমন্ত্রীর  উদ্দেশে তাঁর  আবেদন, “এরা চাকরি পাবে কি পাবে না, আপনি নিশ্চয়ই জানেন, নিশ্চয়ই তার বিচার করবেন। আমার অনুরোধ,  এদের সঙ্গে বসে এদের সমস্যা আপনি শুনুন।”

ভাঙড়ের  বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও  আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, “ন্যায্য দাবি নিয়ে এরা আদালতে গেছে, এই গরমেও  সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যপথে নেমেছেন। আমি এদের  ন্যায্য দাবিকে সমর্থন করে লংমার্চের দাবির প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।”

মঙ্গলবার রাতে ডোমজুরে পৌঁছন মিছিলকারীরা। হাওড়ায় পৌঁছবার আগেই কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। মিছিলে অ্যাম্বুল্যান্স ছিল, সেখানেই তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। আজ বুধবার হাওড়া ব্রিজ হয়ে তাঁরা ধর্মতলার শহিদ মিনার ময়দানে পৌঁছবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!