- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১৬, ২০২৫
বকেয়া মাহর্ঘ ভাতার অন্তত ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে, রাজ্যকে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
রাজ্য কর্মচারীদের প্রাপ্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে মামলা চলছে দেশের শীর্ষ আদালতে । সেই মামলার শুনানিতেই এবার রাজ্যকে বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ । ডিএ সংক্রান্ত বাকি বিষয় আশয় নিয়ে পরবর্তী শুনানি হবে অগস্ট মাসে ।
২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের সরকারি কর্মচারিদের প্রাপ্য বকেয়া নিয়ে ২০১৬ সালে মামলা শুরু হয় ট্রাইবুনাল আদালতে । পরে সেই মামলা স্থানান্তরিত হয়ে হাইকোর্টে যায় । দুই ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের পক্ষে রায় দেয় বিচারবিভাগ । রায়ের বিরোধিতা করে সুপ্রিমকোর্টের দারস্থ হয় রাজ্য সরকার । এরপর ২০২২ থেকে এপর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে বেশ কয়েকবার মামলা শুনানির দিন পিছোতে থাকে । অবশেষে শুক্রবার, ১৬ মে সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চের পক্ষে বলা হয়,
মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে সমস্ত রায় খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ডিএর পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে। তাই অবিলম্বে বকেয়া ডিএর অন্তত ৫০ শতাংশ টাকা দিয়ে দেওয়ার কথা বল হয়। তার প্রেক্ষিতে রাজ্যের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এদিন আদালতে বলেন, রাজ্যের পক্ষে ৫০ শতাংশ বকেয়া ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়। তাতে রাজ্যের তহবিল ফাঁকা হয়ে যাবে। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চের তরফে বলা হয়, ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, ২০০৯ সালের রোপা অনুযায়ি যে বকেয়া মহার্ঘভাতা রাজ্যের সরকারি কর্মচারিদের প্রাপ্য, তার ২৫ শতাংশ টাকা চার সপ্তাহের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে।
রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এদিন বলেন, ডিএ দেওয়ার জন্য রাজ্যের হাতে পর্যাপ্ত টাকা নেই, এপ্রসঙ্গে আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্তত ২৫ শতাংশ হারে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এই রায়ে রাজ্যের কর্মচারীরা তাঁদের অধিকারের স্বীকৃতি পেলেন। কলকাতা হাইকোর্টের রায় অনুসারেই প্রাপ্য বকেয়া মেটানোর সময় নির্দষ্ট করা হয়েছে সুপ্রিমকোর্টের তরফে।
পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মচারীরা এই মূহুর্তে ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পান। কেন্দ্রের সঙ্গে সেই মহার্ঘভাতার ফারাক ৩৭ শতাংশ।দীর্ঘদিন ধরেই সেই ফারাক মেটানোর দাবিও জানিয়ে আসছেন রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা। তবে সেই সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তিপেশের শুনানি হবে চলতি বছরের অগস্ট মাসে, একথা জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতের তরফে।
প্রসঙ্গত ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর ডিএ মামলার শুনানি শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টে। গত বছর ডিসেম্বর থেকে বেশ কয়েকবার পিছিয়ে যায় মামলার শুনানি। অবশেষে শুক্রবার মামলার শুনানিতে বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল নির্ভুল, বলে হয় শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চ।
❤ Support Us







