- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২৫, ২০২৫
একাদশ-দ্বাদশের বৃত্তিমূলক বিষয়ের পঠন-পাঠন নিয়ে সমস্যা, নম্বর বিভাজন নিয়ে চিন্তায় শিক্ষক ও পড়ুয়ারা
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, একাদশ এবং দ্বাদশের বৃত্তিমূলক বিষয়ের পরীক্ষা মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে থিয়োরি পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরে এবং প্র্যাকটিক্যাল হবে ৫০ নম্বরে। এদিকে এই নম্বর বিভাজন নিয়ে চিন্তায় শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে পড়ুয়া-অভিভাবক সবাই।
শিক্ষক-শিক্ষিকারা বলছেন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বৃত্তিমূলক পরীক্ষায় নতুন করে যে সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে তার জন্য না আছে বই, না আছে স্কুলগুলোতে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক- শিক্ষিকা। ফলে একদিকে যেমন স্কুল অন্যদিকে পড়ুয়া উভয়েরই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
মথুরাপুর কৃষ্ণচন্দ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন,”স্কুলে সঠিক সংখ্যায় শিক্ষক, শিক্ষিকা নেই বৃত্তিমূলক শিক্ষাদানের জন্য। অথচ ৪টি থেকে ১৬টি বিষয়কে বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সিলেবাস কি, নম্বরের কতটা থিয়োরি কতটা প্র্যাক্টিক্যাল, কতটা প্রজেক্টের জন্য নির্ধারিত সেটাও সঠিক ভাবে সংসদ উল্লেখ করেনি বা জানায়নি। অনেক স্কুলে বাইরে থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা এসে পড়াচ্ছেন বৃত্তিমূলক বিষয়গুলো। তার মধ্যে নতুন সমস্যা হল সিলেবাসে অনেক জিনিস ঢোকানো হলেও বই নেই। সংসদ থেকে আগে বই দেওয়ার রীতি ছিল, তাও এখন নেই। কাজেই কে পড়াবেন, কি পড়াবেন ? কোন বিষয়ের জন্য কত নম্বর নির্ধারিত সেটা বুঝে উঠতে পারছি না। এর ফলে বৃত্তিমূলক শিক্ষা একটা চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অথচ আমাদের স্কুল থেকে বিগত দিনে বৃত্তিমূলক বিষয় নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বহু ছাত্র-ছাত্রী এখন কেউ উচ্চ শিক্ষায় আছে কেউ ভালো চাকরি করছে।”
এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক বৃত্তিমূলক শিক্ষায় আগে কটা বিষয় ছিল, এখন কটা বিষয় নতুন করে এসেছে। ২০১৩-তে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের অধীনে বৃত্তিমূলক বিষয়ে চারটি বিষয়ে পঠনপাঠনের ব্যবস্থা ছিল। এখন পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসা বৃত্তিমূলক পাঠক্রমে মোট ১৬টি বিষয় সংয়ুক্ত করেছে একাদশ এবং দ্বাদশে পড়ানোর জন্য। এই বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ইনফর্মেশন টেকনোলজি, অটোমোবাইল, রিটেল, সিকিওরিটি, হেলথকেয়ার, ইলেকট্রনিক্স, প্লাম্বিং, কনস্ট্রাকশন, অ্যাপারেল, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস, অর্গানাইজড রিটেলিং এবং ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট।
কেন বৃত্তিমূলক শিক্ষায় একাদশ দ্বাদশ শেণির পাঠক্রমে নম্বরে পরিবর্তন আনা হল? এই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল মথুরাপুর কৃষ্ণপুর হাই স্কুলের বৃত্তিমূলক বিষয়ের শিক্ষিকা মিতালী পালের কাছে। তিনি বলেন, “আমরা এখনও জানি না সঠিক ভাবে বৃত্তিমূলক শিক্ষায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির নম্বরে কেন এবং কি রকম বিভাজন আনা হয়েছে। কখনও শুনছি থিয়োরিটিক্যালে ৭০ নম্বর, বাকি প্র্যাক্টিক্যালে ৩০ নম্বর আছে। আবার কখনও শুনছি থিয়োরিতে ৫০ নম্বর এবং বাকি ৫০ নম্বরের ৩০ প্র্যাক্টিক্যালে আর বাকি ২০ নম্বর প্রজেক্টের জন্য নির্ধারিত। আবার একটা সিলেবাস আমাদের কাছে এসেছে তাতে তৃতীয় এবং চতুর্থ সেমেস্টারের নম্বর যে কি ভাবে বিভাজন করা হয়েছে সেটা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। পাশাপাশি সেই সিলেবাসে পড়ানোর জন্য যে ভাবে প্রশ্ন ও নম্বরের বিন্যাস দেখানো হয়েছে সেটাও স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না। এই নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নোডাল অফিসারের সঙ্গে কথা বলেও কোনও সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।”
পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সূত্রে জানা গেছে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বৃত্তিমূলক পাঠক্রমের সেমিস্টার পদ্ধতিতে ৯(২) রেগুলেশন অনুযায়ী ছাত্র ছাত্রীদের বাংলা, ইংরেজি-সহ অন্য তিনটি বিষয়ে উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঐচ্ছিক বিষয় হিসাবে নেওয়া বৃত্তিমূলক বিষয়ের নম্বর ‘বেস্ট অফ ফাইভ’-এর অন্তর্ভুক্ত হবে না,এটাই সংসদের সিদ্ধান্ত। তবে এই নিয়মের রদবদল হওয়ায় পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে অভিভাবকদের মধ্যেও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় নম্বর বিভাজন, সিলেবাস বুঝে উঠতে না পারা ও সঠিক বই না পাওয়ার ফলে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। প্রথমত সব স্কুলে বৃত্তিমূলক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা নেই। যে সব স্কুলে এই বিষয় পড়ানো হয় সেখানেও সিলেবাস সংক্রান্ত সঠিক নির্দেশ সংসদ থেকে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। তার ওপর নম্বর বিভাজন নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও বৃত্তিমূলক পাঠক্রমের সিলেবাসের সঙ্গে খাপ খায় এমন পাঠ্য বই না থাকা সর্বোপরি বহু স্কুলে বৃত্তিমূলক শিক্ষাদানের জন্য বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকা না থাকার ফলে সমস্যা বাড়ছে। ফলে পড়ুয়া থেকে অভিভাবক এই বিষয়গুলো নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত।
সাধারণ পাঠক্রমে পড়ার চাইতে বৃত্তিমূলক বিষয় নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে যেমন সুবিধা পাওয়া যায় তেমনই চাকরি ভিত্তিক উচ্চ শিক্ষায় পড়ার সুযোও থাকে। তাই বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ঢিলেঢালা ভাব শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সকলকেই যথেষ্ট চিন্তায় ফেলেছে। তাঁরা তাকিয়ে আছে কবে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এই জটিলতা কাটিয়ে সঠিক দিশা দেয় সেই দিকে।
❤ Support Us






