- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৪, ২০২৩
কেন্দ্রের টাকা আর সরাসরি পাবে না রাজ্য। নতুন সিদ্ধান্তে বাড়তে পারে কেন্দ্রে-রাজ্য মতবিরোধ
কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড়ো পরিবর্তন আসন্ন। বন্ধ হতে চলেছে রাজ্য সরকারকে সরাসরি টাকা দেওয়ার চিরাচরিত রীতি। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক সূত্রে খবর, রাজ্যের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বরাদ্দ টাকা এবার থেকে জমা থাকবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কে। অর্থাৎ এতদিন বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কে রাজ্য সরকারের নানা রকম দপ্তরের অ্যাকাউণ্টে কেন্দ্রের টাকা আসত। সে পদ্ধতি আর চলবে না। নতুন নিয়মে, যখন প্রয়োজন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলা যাবে। তবে, প্রকল্পের প্রতিটি পর্বের জন্য টকা নেওয়ার সময় আগের বারের নেওয়া অর্থের হিসাব বুঝিয়েই তা নেওয়া যাবে। পশ্চিমবঙ্গ সহ সমস্ত রাজ্যের জন্যই একই নিয়ম চালু করতে চাইছে কেন্দ্র।
অর্থমন্ত্রকের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে এ ব্যাপারে প্রতিটি রাজ্যকে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বলা হয়েছে একটি করে নোডাল এজেন্সি তৈরি করা হবে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে তাদের একটি করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। বরাদ্দের পর ‘পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিস’-এর মাধ্যমে টাকা পাঠাবে কেন্দ্রীয় অর্থ দপ্তর। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পর কাজ কেমন চলচ্ছে তার উপরে নির্ভর করে টাকা দেবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এখন এই নিয়ম আপাতত সীমাবদ্ধ থাকবে পুরোপুরি কেন্দ্রীয় অর্থে পরিচালিত প্রকল্পগুলিতে। পরে কেন্দ্রীয় অনুদান প্রকল্পগুলিতেও একই নিয়ম আনা হবে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ নিয়ম চালু হলে, কেন্দ্রীয় বরাদ্দের যে টাকা ব্যবহার করা হয়নি, তা প্রাথমিক ভাবে কেন্দ্রের অভিন্ন তহবিলে ফিরে আসবে। আর এতে বাজেটে যে খরচ করার কথা বলা হয়েছিল সে নিয়েও সব তথ্য মন্ত্রকের হাতে থাকবে। এতে বাজেট সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। বিষয়টি এখনো পরিকলপনার স্তরে রয়েছে। কীভাবে কী করা হবে তা নিয়ে চূড়ান্ত বিধি নিষেধ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে এসিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বারবার অভিযোগ উঠেছে, এক খাতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করছে রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গেই সরকারের বিরুদ্ধ রয়েছে এমন অভিযোগ । শুধু তা-ই নয়, অব্যবহৃত টাকা শুধু অ্যাকাউন্টে রেখে দেওয়া নয়, জমা টাকা পাওয়া বাবদ পাওয়া সুদও ‘অনৈতিক ভাবে’ ব্যবহার করেছে রাজ্য সরকার। এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নতুন নিয়ম চালু হলে এ কাজগুলি করা সব রাজ্যের পক্ষেই কঠিন হবে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।
রেল দুর্ঘটনার পরে ক্ষতিপূরণ দিতে মিড-ডে মিলের টাকা ব্যবহার করেছে রাজ্য। শুধু তাই নয়, জমা দেওয়া অব্যবহৃত টাকা শুধুমাত্র অ্যাকাউন্টে রেখে দেওয়ার জন্য বিপুল টাকা সুদও ‘অনৈতিক ভাবে’ ব্যবহার করেছে রাজ্য সরকার। এবার সেই পথ আটকাতেই তৎপর হল কেন্দ্রের সরকার। বিপাকে ঘাসফুল শিবির বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একংশ।
❤ Support Us







