Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫

ডিএ মামলায় সুপ্রিম শুনানি ৮ সেপ্টেম্বর, শীর্ষ আদালতে ৬২ পাতার লিখিত জবাব পেশ রাজ্যের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ডিএ মামলায় সুপ্রিম শুনানি ৮ সেপ্টেম্বর,  শীর্ষ আদালতে  ৬২ পাতার লিখিত জবাব পেশ রাজ্যের

বহু প্রতীক্ষিত বকেয়া ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানি ৮ সেপ্টেম্বর। তার ঠিক আগেই সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফ থেকে ৬২ পাতার লিখিত জবাব পেশ করলেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। ওই লিখিত জবাবে রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘভাতা  দেওয়ার কোনও সাংবিধানিক বা আইনি বাধ্যবাধকতা রাজ্যের নেই।

লিখিত জবাবে রাজ্যের তরফে যুক্তি 

৬২ পাতার লিখিত জবাব পেশে মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে রাজ্যের পক্ষ থেকে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর যুক্তি তুলে ধরে বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজ্যের আর্থিক অবস্থা ভিন্ন। তাই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কলকাতা হাইকোর্ট ও স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (SAT)-ও আগে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার কোনও নির্দেশ দেয়নি।

দ্বিতীয়ত, রাজ্যের দাবি, বর্তমানে ভারতের প্রায় ১৩টি রাজ্য কেন্দ্রের নির্ধারিত হারে ডিএ দেয় না। তাই শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গকে এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হলে, তা দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্যও নজির হয়ে দাঁড়াবে। রাজ্যের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গও তাদের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ীই ডিএ দিচ্ছে।

‘মহাজনের’ মতো আচরণ ! রাজ্য সরকার করছে বলে এর আগে শীর্ষ আদালতের তিরস্কার এর মুখে পড়েছিল রাজ্য সরকার, রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। পঞ্চম বেতন কমিশন অনুযায়ী বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই নির্দেশ মানেনি রাজ্য সরকার। এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি সঞ্জয় করোল মন্তব্য করেছিলেন, “আপনারা যে কোনও পরিমাণ ডিএ দিতে পারেন। কিন্তু দয়া করে দিন। রাজ্য যেন আগেকার দিনের মহাজনের মতো আচরণ করছে। টাকা জমিয়ে রেখে অন্যত্র খাটানো হচ্ছে।”

তখন রাজ্যের তরফে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছিল রাজ্য সরকারের বাড়তি ডিএ দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ অর্থ লাগবে সেই পরিমাণ অর্থের অভাব রয়েছে। এই বক্তব্যের পক্ষে রাজ্যের যুক্তি ছিল, এই পরিমাণ টাকা মেটাতে হলে রিজার্ভ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিতে হবে, বিধানসভায় অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল পাশ করাতে হবে—এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। তাই বকেয়া মেটানোর সময়সীমা বাড়ানোর আবেদনও জানায় রাজ্য।

ডিএ মামলার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৬ সালে। মামলাটি প্রথমে এসএটি, পরে কলকাতা হাইকোর্ট এবং এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজ্য সরকারি কর্মীরা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে এখনও পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে জয়লাভ করেছেন।

আগে কী বলেছিল রাজ্য 

এর আগে রাজ্য জানায়, তারা ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া ডিএ মেনে নিচ্ছে। কিন্তু তা পরিশোধে আর্থিক সংকটের যুক্তি তুলে ধরছে।

তবে সবার নজর এখন ৮ সেপ্টেম্বরের শুনানির দিকে। সুপ্রিম কোর্টের রায় কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশের অন্যান্য রাজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!