Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ২৫, ২০২৫

এসএসসি ভবনের সামনে থেকে চাকরিহারাদের আন্দোলন প্রত্যাহার। যোগ্য-অযোগ্য নির্ধারন নিয়ে বিবাদ, একাংশের অবস্থান এবার শহীদ মিনারে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এসএসসি ভবনের সামনে থেকে চাকরিহারাদের আন্দোলন প্রত্যাহার। যোগ্য-অযোগ্য নির্ধারন নিয়ে বিবাদ, একাংশের অবস্থান এবার শহীদ মিনারে

‘যোগ্য’-‘অযোগ্য’ তালিকা নিয়ে বিভাজন? এসএসসি ভবনের সামনে থেকে সাময়িকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহার করলেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। শহিদ মিনারে অবস্থান জারি রাখবেন তাঁরা। সুপ্রিম কোর্টে রিভিউয়ের প্রস্তুতি।

এসএসসি ভবন ঘেরাও আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। শুক্রবার সকালে চলমান আন্দোলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানালেন চাকরিহারাদের প্রতিনিধিরা। তবে আন্দোলন পুরোপুরি প্রত্যাহার করছেন না তাঁরা, আগামী রবিবার পর্যন্ত এসএসসি ভবনের পরিবর্তে শহীদ মিনার চত্বরে অপবস্থান করবে চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা মঞ্চের সদস্যরা। সেখান থেকে তাঁরা আন্দোলনের পরবর্তী অভিমুখ ঠিক করবেন।

২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল বাতিলের পর, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি খারিজ হয়ে যায়। যোগ্যদের তালিকা প্রকাশের দাবিতে সল্টলেকের-এ এসএসসি অফিসের সামনে অবস্থানে বসেন ‘চাকরিহারা’ শিক্ষকরা। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই অযোগ্য শিক্ষকরাও সেই আন্দোলনে যোগ দিলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাক্রমে ‘অযোগ্য’ বা ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত নন এমন শিক্ষকরা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যাওয়া ও বেতন পাওয়ার সুযোগ পাবেন, এমন নির্দেশ দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে, ‘অযোগ্য’ নয় এমন শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। জেলায় জেলায় ডিআই অফিসে সে তালিকা পাঠানো হয়েছে। ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা আগের মতো বেতনও পাবেন। এখবর সামনে আসতেই ‘যোগ্য’ তালিকায় থাকা আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলমুখী হয়েছেন। আবার আন্দোলনের তেজও কমেছে। ফাঁকা হয়ে গিয়েছে আন্দোলন চত্বর। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার কারা যোগ্য কারাই বা অযোগ্য, এসএসসির পাঠানো তালিকা নিয়ে জোর বিবাদ শুরু হয়। জানা যাচ্ছে, রীতিমতো হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ‘যোগ্য-অযোগ্য’ চাকরিহারারা।

অভিযোগ, স্কুল শিক্ষা দফতর ইতিমধ্যেই ডিআই অফিসগুলিতে যে ১৭ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার তালিকা পাঠিয়েছে, তাতে ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকারদের অনেকে বাদ পড়েছেন। উঠে এসেছে একাধিক ত্রুটির কথা। চাকরিহারা শিক্ষকদের অভিযোগ, বহু যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকার নাম বাদ গিয়েছে। কেউ বদলি হয়েছেন, কেউ বিশেষভাবে সক্ষম, তাঁদেরও নাম তালিকায় নেই। এমনকি আন্দোলনের অন্যতম নেতা চিন্ময় মণ্ডলের নামও প্রথম তালিকায় ছিল না। চিন্ময় জানান, ‘এসএসসি-র সার্ভার ২০১৮ সালের পর আপডেট না হওয়ায় এই ভুল হয়েছে। ফলে অনেকের চাকরিতে যোগ দেওয়ার তথ্য কমিশনের কাছে পৌঁছায়নি। পরে চাকরিহারারা নিজ উদ্যোগে একটি নতুন তালিকা প্রস্তুত করে কমিশনের হাতে তুলে দেন। কমিশন ভুল স্বীকার করে নতুন তালিকা পাঠানোর আশ্বাস দেয়।’ আন্দোলন ক্ষেত্র পরবর্তন বিষয়ে চিন্ময় মণ্ডল বলেন, ‘আমরা এখন একে অপরকে প্রতিপক্ষ মনে করছি। এসএসসি অফিসে হাতাহাতি করে কোনো লাভ নেই। আসল লড়াই সুপ্রিম কোর্টেই। আমরা চাই না মিডিয়া আমাদের এই বিভাজন দেখাক। তাই আমরা অবস্থান তুলে নিচ্ছি।’ আরেক চাকরিহারা শিক্ষক মেহবুব মণ্ডল জানান, তাঁদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য তালিকা প্রকাশ হলেও, নানান ভুলভ্রান্তিতে তা আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে। তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই তালিকা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি হয়নি। অনেক যোগ্য শিক্ষকের নাম বাদ পড়েছে।’ যে দাবি নিয়ে এই আন্দোলন, তা ‘আংশিক’ পূরণ হওয়ায় এ বার স্কুলে ফিরছেন চাকরিহারাদের একাংশ, না কি এর পিছনে কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে? প্রশ্ন থাকছেই।

তবে যাঁরা এখনও তালিকা থেকে বাদ রয়েছেন, তাঁদের পক্ষে আন্দোলনই এখন একমাত্র ভরসা। এই প্রেক্ষিতে চাকরি হারানো শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তারা পুরোপুরি আন্দোলন প্রত্যাহার করছেন না, আপাতত শহিদ মিনারে তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যাবেন। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন বা পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা দেওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী ২ দিনের মধ্যে এসএসসি যদি ভুল সংশোধন করে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করে, তাহলে আন্দোলনকারীরা সোমবার থেকে স্কুলে ফিরে যাবেন বলে জানান। অন্যদিকে, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ভবনের সামনে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মচারীদের আন্দোলন অব্যাহত। তাঁদের কোনো দাবিই এখনো পূরণ হয়নি, তাই তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!