Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুলাই ২৬, ২০২৫

বিহারের কায়দায় বাংলাতেও এবার এসআইআর, বিএলওদের প্রশিক্ষণ শুরু! ‘ষড়যন্ত্র সফল হবে না’, হুঁশিয়ারি তৃণমূলের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিহারের কায়দায় বাংলাতেও এবার এসআইআর, বিএলওদের প্রশিক্ষণ শুরু! ‘ষড়যন্ত্র সফল হবে না’, হুঁশিয়ারি তৃণমূলের

বিহারে ‘ভোটার তালিকার বিশেষ সমীক্ষা’ নিয়ে বিতর্ক যখন চরমে, ঠিক তখনই বাংলায় বুথ স্তরের আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে উঁকি দিচ্ছে নতুন সংশয়। নিছক রুটিন প্রশিক্ষণ? না কি বাংলাতেও ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার পথে দ্রুত পা বাড়াতে চলেছে নির্বাচন কমিশন?

শুক্রবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন, ‘ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন ডিভিশনে বিএলওদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান, শুক্রবার মালদহ, শনিবার মেদিনীপুরে চলছে প্রশিক্ষণ। রবিবার কলকাতা, আর ২৮ জুলাই জলপাইগুড়িতে চলবে কর্মশালা।’ কমিশনের এ প্রশিক্ষণ নিছকই বার্ষিক তালিকা সংশোধনের প্রস্তুতি, না কি বিহারের পথ ধরে বাংলাতেও শুরু হচ্ছে বিশেষ সমীক্ষার আয়োজন? মুখ খুলতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। আগরওয়ালের জবাব, ‘এসআইআর হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আমরা শুধু প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। সেটা আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে।’ শুধু প্রশিক্ষণ নয়, সূত্রের খবর, বিএলও ও সুপারভাইজারদের বার্ষিক ভাতা প্রায় দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। বিএলওদের ক্ষেত্রে বার্ষিক ভাতা ১২ হাজার, আর সুপারভাইজারদের ১৮ হাজার টাকা। তাছাড়া ‘বিশেষ অভিযানে’র জন্য আলাদা করে ২,০০০ টাকা ‘ইনটেনসিভ’ বরাদ্দের নির্দেশ এসেছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ অভিযানটা ঠিক কী? এ নিয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি কমিশন। বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে হেনস্তা, উত্তরবঙ্গে এনআরসি জুজুর আবহে বিএলওদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ায়, সংশয় আরো ঘনীভূত হয়েছে।

কমিশনের তরফে নবান্নকে আগে জানানো হয়েছিল, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে ‘স্বাধীন’ দফতর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আরেকধাপ এগিয়ে, বালমার লরি ভবনে, বর্তমানে যে সিইও দফতর রয়েছে, সেখানে জায়গার অভাব, পার্কিং সমস্যার মতো একাধিক কারণ দেখিয়ে, ভবিষ্যতে তা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো দফতরে স্থানান্তরের কথাও ভাবছে কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সিইও এখন যে ভাবে রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য দফতরের অধীনে কাজ করছে, তা বন্ধ হবে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর হতে হবে ‘স্বশাসিত, নিরপেক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ’। শনিবার নজরুল মঞ্চে এক প্রশিক্ষণ শিবিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক বিএলওকে প্রশিক্ষণ দেব। সব কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতেই হবে। এসআইআর তো একবার না একবার করতেই হবে। আগেও বহু বার হয়েছে। আমাদের সিলেবাসে সব কিছুই থাকছে।’ তাঁর এ মন্তব্যেই জলঘোলা শুরু। প্রশিক্ষণ ‘রুটিন’ হলেও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক যখন বলছেন ‘এসআইআর একদিন না একদিন করতেই হবে’, শাসক দলের চোখে সেটাই ‘বিড়ালের গলায় ঘণ্টা’।

এমন পরিস্থিতিতে পাল্টা সুরে সরব শাসক দল। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘বিহারে যেমনভাবে নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছে, বাংলাতেও সেই চেষ্টা হবে। তবে বাংলায় সফল হবে না। কারণ, বুথে বুথে তৃণমূলের সংগঠন আছে, আর প্রতিটি বৈধ ভোটারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।’ ২১ জুলাইয়ের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে এসআইআরের প্রসঙ্গ তুলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘যদি কেউ বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়, তীব্র আন্দোলন হবে। দরকারে কমিশনকে ঘেরাও করতে হবে।’ কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসআইআর ঘোষণার পথে হাঁটেনি ঠিকই, তবে ভোটার তালিকার নবায়ন ও মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার কাজের অজুহাতে বাংলাতেও বিহারের মতো ‘নিবিড় সমীক্ষা’র প্রস্তুতি যে জোরকদমে চলছে, তা অস্বীকার করছেন না ওয়াকিবহাল মহল। একদিকে প্রশিক্ষণ, অন্যদিকে দফতর স্থানান্তরের প্রস্তুতি, তার সঙ্গে ‘স্বশাসন’ এবং ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত— সব মিলিয়ে বাংলায় ভোট-রাজনীতিতে নতুন ভূমিকায় নির্বাচন কমিশনের আবির্ভাব ঘটতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!