- প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ৬, ২০২২
চিন-ভারতের একই দাবি, বুচা গণহত্যার বস্তুনিষ্ঠ নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।
আমেরিকা ও মিত্রজোট বলল, চাই আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা। রাশিয়ায় বন্ধ হোক সব ধরনের বিনিয়োগ।
বুচা গণহত্যা নিয়ে বিশ্ব তোলপাড় । আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো রাশিয়ার উপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । বিশ্বের অন্তত ৪০ টি দেশ রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে । মার্কিন জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি রাশিয়ায় বিনিয়োগ বন্ধ করে দেওয়ার অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ। চিনের মতো রাষ্ট্র, যে কিনা এই মুহূর্তে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতম বন্ধু, সেও বুচা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে বলেছে, তথ্যভিত্তিক তদন্ত দরকার। এখানে নয়াদিল্লির সঙ্গে বেইজিং-এর বার্তা মিলে যাচ্ছে । রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারত বুচা হত্যাকান্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেছে, যুদ্ধরত দুই দেশ ছাড়া তূতীয় পক্ষের তদারকিতে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে জড়িত তা খতিয়ে দেখতে হবে। চিন মস্কোর পাশ থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয় নি । গতকালই বলেছে, আমরা পুতিনকেই সমর্থন করছি । বুচা হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে বিশ্বে তার ভাবমূর্তিকে চিন কালিমালিপ্ত হতে দিতে চায় না বলেই ঘটনার নিন্দা করেছে । বস্তু নিষ্ঠ তদন্তের দাবিও তুলেছে ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, যুদ্ধ অপরাধ আইনের আওতায় রুশ সেনার বিচার করতে হবে । বিশ্বের অধিংকাশ দেশের ধারণা, সজ্ঞানে আগ্রাসী রুশ সেনারা বুচা শহরে গণহত্যা সংগঠিত করেছে ।বুচা হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ ।
ইউরোপিয়ান কমিশনের দাবি, রাশিয়া থেকে কয়লা আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়াতে হবে ।রাশিয়া বস্তুত কোণঠাসা । ধীরে ধীরে ইউক্রেনের আক্রান্ত শহরগুলি থেকে সেনা সরাচ্ছে কিন্তু ফৌজি অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করেনি । গত চব্বিশ ঘন্টায় রুশ সেনার আক্রমনে ১৬৭ শিশু প্রাণ হারিয়েছে । আহতের সংখ্যা ২৭৯ । রুশ হামলার অধিকাংশ ঘটনাই ইউক্রেনের দক্ষিণে অবস্থিত ডোনেটস্ক অঞ্চলে সংগঠিত হয়েছে । এসব এলাকা আংশিকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং রুশ সেনার নিয়ন্ত্রনে । পূর্বাঞ্চলের কিয়েভ ও খারকিভে মূতের সংখ্যা যথাক্রমে ৭৮ ও ৮১ । এপি জানিয়েছে, স্তূপিকূত লাশ পড়ে আছে বুচায় । এর মধ্যে শিশুদের মূতদেহের সন্ধান মিলেছে । অধিকাংশ লাশই শনাক্ত করা যায় নি । কখন, কোন পরিস্থিতিতে গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে পরিস্কার নয় । তবে এটা যে রুশ সেনার অপকাণ্ড, এ ব্যাপারে গোটা বিশ্ব যেমন নিশ্চিত, তেমনি স্তম্ভিত ।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা দপ্তর বলেছে, লাগাতার রুশ বিমান হামলা ও দৃষ্টান্তহীন একপেশে আক্রমণে মারিউপোলে এখনও অবরুদ্ধ । ১লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দা পুরোপুরি আলোহীন, যোগাযোগহীন,। শহরে ওষুধ নেই, জল নেই । প্রবেশ পথ বন্ধ, ঢুকতে গেলেই সাংবাদিকদের বাঁধা দিচ্ছে রুশ সেনা। পরিস্থিতিকে আরো অসহনীয় করে তুলে তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের আত্মসমর্পনে বাধ্য করতে চাইছে ।
রাশিয়ার ইউক্রেন দখলের স্বপ্ন তার দু্ঃস্বপ্ন ডেকে আনতে পারে । স্বৈরতান্ত্রিক পুতিনের দূষ্টান্তহীন আধিপত্য এবং দেশের বাইরে মানবিকতাহীন কর্মকান্ড তাঁকে হিটলারের সমতুল্য করে তুলছে । নিজেকে আমৃত্যু প্রেসিডেন্ট করে রাখার খোয়াব অচিরে নড়বড়ে হয়ে উঠবে । কেননা, এ পর্যন্ত দুনিয়ার কোথাও স্বৈরশাসকের কর্তৃত্ব স্থায়ী হয়নি । জনশক্তি রশি ধরে মারে টান, রাজা হয় খান খান ।
তথ্যসূত্র : সংবাদ সংস্থা।
❤ Support Us









