Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ৩, ২০২৫

উচ্চ মাধ্যমিকের পুরনো পাঠক্রমে অকৃতকার্য হলে, সেমিস্টারে দেওয়া যাবে ফের পরীক্ষা, সিদ্ধান্ত শিক্ষা সংসদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উচ্চ মাধ্যমিকের পুরনো পাঠক্রমে অকৃতকার্য হলে, সেমিস্টারে দেওয়া যাবে ফের পরীক্ষা, সিদ্ধান্ত শিক্ষা সংসদের

২০২৪ সালে সেমিস্টার পদ্ধতি চালুর পর, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে যে, পুরনো পদ্ধতিতে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীরা সেমিস্টার পদ্ধতিতে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে পারবেন। ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে হবে, তবে নতুন সিলেবাস অনুযায়ী তাদের সাবজেক্ট কম্বিনেশন পরিবর্তন করতে হবে।

২০২৪ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের সিমেস্টার পদ্ধতি চালু হয়েছে, ২০২৫ সালে শেষ বারের মতো পড়ুয়ারা পুরনো পাঠ্যক্রমে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, চলতি বছরের টেস্টে যাঁরা উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁদের জন্য নতুন পাঠ্যক্রমে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। শিক্ষামহলের প্রশ্ন ছিল, যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি তাঁরা তো সিমেস্টার পদ্ধতিতে পড়াশোনা করেননি। তাহলে কি তাঁদের আবার নতুন করে, নতুন পদ্ধতিতে পড়াশোনা করে উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে হবে? তবে, এবার যাবতীয় জল্পনা ও সংশয় কাটিয়ে দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে, যারা পুরনো পদ্ধতিতে অকৃতকার্য হয়েছে, তারা নতুন সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা নিয়মিত প্রার্থী হিসাবেই পরীক্ষা দিতে পারবে। সুতরাং, ২০২৫ সালে নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে এবং পুরনো পদ্ধতিতেও পরীক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ থাকবে। সে সমস্ত পড়ুয়াদের জন্য সেমিস্টার পদ্ধতিতে প্রবেশের ঐচ্ছিক ফর্ম পূরণের জন্য ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

বুধবার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ থেকে প্রকাশিত বিবৃতি-নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে সমস্ত পড়ুয়া একাদশ শ্রেণির পুরনো পদ্ধতিতে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁরা সেমিস্টার পদ্ধতিতে নথিভুক্তিকরণ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে, এই পড়ুয়ারা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সেমিস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য পড়াশোনা করতে পারবেন। নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করার পর, তাঁরা ২০২৪ সালের নিয়ম অনুযায়ী সেমিস্টার পদ্ধতির আওতায় আসবেন। এই পরীক্ষার্থীদের দ্বাদশ শ্রেণির প্রজেক্ট আর প্র্যাকটিক্যাল নম্বরও কাউন্সিলের পোর্টালে আপলোড করা হবে।

উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে পড়ুয়াদের হাতে। তারা চাইলে সেমিস্টার পদ্ধতিতে ‘মাইগ্রেট’ করতে পারবে, আবার চাইলে পুরনো পদ্ধতিতেও পরীক্ষা দিতে পারবে। পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সহজেই সম্পন্ন করা যাবে। তবে, যারা সেমিস্টার পদ্ধতিতে যেতে চান, তাদের পরীক্ষার নম্বর নতুন পদ্ধতির সাথে সঙ্গতি রেখে আপলোড করতে হবে কাউন্সিলের পোর্টালে।’ তবে, সংসদ জানিয়েছে, যে বিষয়ে অকৃতকার্য পড়ুয়া পড়াশোনা করছিলেন, সেই পুরনো সাবজেক্ট কম্বিনেশন আর বৈধ থাকবে না। সেমিস্টার সিস্টেমের নতুন সাবজেক্ট কম্বিনেশনে পড়াশোনা শুরু করতে হবে। নতুন কম্বিনেশন থেকে বিষয় বাছতে হবে, যদি কোনো পড়ুয়া পুরনো সাবজেক্ট বাতিল করতে চান, তাদের অবশ্যই সংসদকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে। এছাড়াও সংসদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যারা পুরনো পদ্ধতিতেই পরীক্ষা দিতে চান, তাদের সেমিস্টার পদ্ধতির ফর্ম পূরণ করার প্রয়োজন নেই। তারা পুরনো পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন, তবে এজন্য সংশ্লিষ্ট নথিভুক্তির ফর্ম পূরণ করতে হবে। ওই ফর্মের সময়সীমা পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। এ বছর যেসব পড়ুয়া একাদশ শ্রেণির পুরনো সিস্টেমের ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাদের অবশ্যই সেমিস্টার সিস্টেমের জন্য নথিভুক্তিকরণ করতে হবে, তা না হলে তাদের পুরনো ‘রেজিস্ট্রেশন’ বাতিল হয়ে যাবে।

এই প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষক মহলের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষত, নতুন সেমিস্টার পদ্ধতির সঙ্গে একাধিক নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে, যেমন বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যক্রমে বেশ কিছু নতুন গদ্য ও পদ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে, যেসব পড়ুয়া পুরনো পাঠ্যক্রমের অংশ ছিলেন, তাদের নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সিলেবাস পড়তে হবে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ যে, সংশ্লিষ্ট পাঠ্যপুস্তক এখনও স্কুলে পৌঁছায়নি।এ বিষয়ে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেছেন, ‘আমরা বহু আগে থেকেই সংসদের কাছে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর বিষয়ে জানিয়েছিলাম। সংসদ কর্তৃপক্ষও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, যথাসময়ে বই পৌঁছে যাবে, কিন্তু এখনো তা না পৌঁছানোর কারণে শিক্ষকরা ক্লাস শুরু করতে সমস্যায় পড়ছেন। দ্রুত পাঠ্যপুস্তক স্কুলে পৌঁছানোর জন্য পুনরায় দাবি জানাচ্ছি।’ অধিকাংশ শিক্ষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হলেও, এতে বেশ কিছু সমস্যাও রয়েছে। কলেজিয়াম অফ অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপশি উদ্বেগের প্রসঙ্গও তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সব সিদ্ধান্ত এত দেরিতে নেওয়া হচ্ছে কেন ? এতে নতুনভাবে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের জন্য সময়সীমা আরো কমে যেতে পারে।’ এই প্রসঙ্গে, কাউন্সিল জানিয়েছে যে, পুরনো আর নতুন পাঠ্যক্রমের মধ্যে যাতে বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে জন্যই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাতে পরীক্ষার্থীরা তাঁদের সুবিধা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!