Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুলাই ১৭, ২০২৩

বিজেপি বিরোধী জোটের শক্তিবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন গেরুয়া শিবির? বেঙ্গালুরুতে বৃহত্তর জোটের দুদিনের মেগা বৈঠকের পাল্টা ১৮ জুলাই এনডিএর সভা দিল্লিতে। পৌরোহিত্য মোদি-নাড্ডা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিজেপি বিরোধী জোটের শক্তিবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন গেরুয়া শিবির? বেঙ্গালুরুতে বৃহত্তর জোটের দুদিনের মেগা বৈঠকের পাল্টা ১৮ জুলাই এনডিএর সভা দিল্লিতে। পৌরোহিত্য মোদি-নাড্ডা

চিত্র: সংবাদ সংস্থা

সোম ও মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হবেন রাহুল গান্ধি, সোনিয়া গান্ধি । এই বৈঠক নিয়ে বিজেপির যে চিন্তা বাড়ছে তা ধরা পড়ল বিজেপির আইটি সেলের নেতা অমিত মালব্য ও বিজেপির জাতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে ।
মঙ্গলবার কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে বিজেপি বিরোধী  মহাজোটের দ্বিতীয় মেগা বৈঠক । ১৭ ও ১৮ দু’দিনের সেই বৈঠকে যোগ দিতে সোমবারই কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু গেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । বৈঠকে যোগদান করতে তাঁদের সঙ্গেই যাবেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন । সন্ধ্যায় ২০ দলের বিরোধী জোটের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন তৃণমূলের এই তিন নেতৃত্ব ।

অমিত মালব্য সোমবার টুইট লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৫০ জনেরও বেশি লোক মারা গেছে, যার মধ্যে কংগ্রেস কর্মীও রয়েছে । রাহুল গান্ধি কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হবেন এবং সহিংসতার নিন্দা করবেন নাকি আত্মসমর্পণ করবেন ? রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট রক্তপাত, কাপুরুষতা এবং আরও খারাপ ধরনের রাজনৈতিক সুবিধাবাদের প্রতি তাঁর এখন পর্যন্ত নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”

এ প্রসঙ্গে এক তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী জোট গঠনে তৃণমূল বরাবরই আন্তরিকতা দেখিয়ে এসেছে । আমাদের নেত্রী বরাবরই যে যেখানে শক্তিশালী সে সেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার কথা বলে এসেছেন । তাই বেঙ্গালুরুর বৈঠকেও আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ।’’ মমতার মতামতের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে ওই সাংসদ বলেছেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আর কোনও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেই । পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে পরপর তিন বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন । সঙ্গে সাত বার সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি, তিন বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কাজ করেছেন তিনি । জাতীয় রাজনীতিতে এমন একজন রাজনীতিকের মতামতের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে ।’’ গত পটনার বৈঠকে অর্ডিন্যান্সের প্রশ্নে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল আপ ও কংগ্রেসের । তাই এই বৈঠকে আপ আদৌ সামিল হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল । তবে রবিবার সেই বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে । কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রিয় কাঠামোতে আঘাত করতে পারে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সব কাজে আগের মতোই এখনও কংগ্রেস সংসদের বাইরে ও ভেতরে যেমন বিরোধীতা করে এসেছে, তেমনই করবে । এক্ষেত্রেও তূণমূল নেত্রীর মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা ।

পাটনার বৈঠকের আগে, বৈঠকে এবং বৈঠকের পরে দিল্লির আমলাদের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছিলেন আপ নেতৃত্ব । কংগ্রেস বৈঠকের আগে অবস্থান স্পষ্ট না করলে বেঙ্গালুরুতে মহাজোটের বৈঠক বয়কট করা হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছিল আপ । কংগ্রেস ছাড়া বাকি বিজেপি বিরোধী সব রাজনৈতিক দল কেজরীওয়ালকে সমর্থনও জানিয়েছিল এই ইস্যুতে । আর শনিবারই কংগ্রেসের সংসদীয় রণকৌশল সংক্রান্ত গোষ্ঠীর বৈঠকে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে । ওই বৈঠকে ঠিক হয়েছে, অন্যান্য বিরোধী দলের মতোই আপের পাশে থাকবে কংগ্রেসও। রবিবার দলের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, ‘‘কংগ্রেস কেন্দ্রের ওই অধ্যাদেশকে সমর্থন করে না । বেণুগোপাল অবশ্য অধ্যাদেশের বিরোধিতা নিয়ে বলতে গিয়ে একবারও আপের নাম করেননি । সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আপ সাংসদ রাঘব চড্ডা জানান, দলের সিনিয়র নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, ১৭ এবং ১৮ জুলাই বেঙ্গালুরুতে বিরোধী দলগুলির বৈঠকে আপ হাজির থাকবে । আপের হয়ে আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরীওয়াল, ভগবন্ত মান এবং সঞ্জয় সিংহ বৈঠকে অংশ নেবেন বলে এখনও পর্যন্ত খবর ।

২৩ জুনের পটনার বৈঠকে ১৫টি দল সামিল হয়েছিল । কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, বেঙ্গালুরুর বৈঠকে ২৭টি বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে তাদের আশা ।

প্রশ্ন হচ্ছে মমতার বিরোধিতা করতে গিয়ে কী বিজেপির কংগ্রেসের প্রতি হঠাৎ সহানুভূতির উদয় হল ? না  কি মমতা-সোনিয়া-রাহুলের বিজেপি বিরোধিতায় একত্রিত হওয়ায় বিজেপি চিন্তায় পরে গেছে ? আর তার জেরেই কি অমিত মালব্যের এই টুইট ? রাহুল গান্ধীর সব কিছুকে যাঁরা সমালোচনা করছে সর্বত্র, সব সময়, সেখানে কংগ্রেস কর্মীদের বাংলার পঞ্চায়েতে মৃত্যুর জন্য চোখে জল আসছে কেন অমিত মালব্যের ? প্রশ্ন সেটাই ।
এদিকে দিলীপ ঘোষ সোমবার সকালে বেঙ্গালুরুর বিজেপি বিরোধী জোটের দ্বিতীয় মেগা বৈঠক নিয়ে মুখ খুলেছেন দিলীপ ঘোষ । তিনি বলেন, “পাটনায় পিকনিক হয়েছে, বেঙ্গালুরুতে ব্যাঙ্কোয়েট হবে ।”

এদিকে রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি বিরোধী জোটের এই দ্বিতীয় বৈঠক দেখে কী বিজেপি শীর্ষ নেত্রীরও আতংকিত? কেননা বিজেপি বিরোধীরা যখন তাদের শক্তি বাড়াচ্ছে, একই সময়ে পাল্টা শক্তি দেখাতে চলেছে কেন্দ্রের এনডিএ জোট । মঙ্গলবারই , ১৮ জুলাই, এনডিএ-র বৈঠক । বিরোধীরা যেখানে বেঙ্গালুরুর বৈঠকে তাদের পারস্পরিক বিরোধ মেটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তেমনই বিজেপি তাদের জোটে কিছু নতুন ও পুরোনো শরিককে সামিল করতে চলেছে । বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এনডিএ-র বৈঠকটির সভাপতিত্ব করবেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লির অশোক হোটেলে এই বৈঠক হবে । বর্তমানে এনডিএ-র সদস্য যে ২৪টি দল, তাদের প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন । এছাড়াও, বৈঠকে যোগ দেবে এনসিপির অজিত পওয়ার গোষ্ঠী, লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস), হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা, রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টি, বিকাশশীল ইনসান পার্টি এবং সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি। বিহার থেকে যোগ দেবেন চার নেতা – লোক জনশক্তি পার্টির (রাম বিলাস) চিরাগ পাসওয়ান, হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চার জিতন রাম মাঝি, রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টির উপেন্দ্র সিং কুশওয়া এবং বিকাশশীল ইনসান পার্টির মুকেশ সাহানি। রবিবারই সপা ছেড়ে তাঁর সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি নিয়ে ফের এনডিএ-তে যোগদান করেছেন ওমপ্রকাশ রাজভর। তাই বলা যায় বিরোধী জোটের এক হওয়ায় বিজেপি কিছুটা হলেও শঙ্কিত ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!