- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে দুর্গাপুজোর সূচনা, ১০ হাজার ঢাকের তালে বাংলার লোকসংস্কৃতির মহামিলন
মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন উদ্যানে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সূচনা হতে চলেছে এবারের দুর্গাপুজোর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে হবে মা দুর্গার চক্ষুদান। শারদ আকাশে ড্রোনের উজ্জ্বল আলোকসজ্জায় ফুটে উঠবে দেবীর মুখ, আর চারপাশ মুখরিত হবে মাতৃবন্দনায়। বিশেষ আয়োজনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে অনুষ্ঠানের ব্লু-প্রিন্ট।
ইডেনে প্রবেশের আগে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে রোড শো-ও হবে। আলোকসজ্জায় সেজে ওঠা রেড রোড ধরে বেরোবে পুজোর শোভাযাত্রা। সেখানে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে অংশ নেবে ২৩টি জেলার ২৩ ধরনের নৃত্যকলা। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইডেন উদ্যানে প্রবেশের সময় এক হাজার মহিলার উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে গোটা এলাকা। একইসঙ্গে বেজে উঠবে ১০ হাজার ঢাক। এই বিরাট আয়োজন গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
স্টেডিয়াম পরিক্রমার সময় পুজোর গান পরিবেশন করবেন শ্রেয়া ঘোষাল। পাশাপাশি থাকছে অত্যাধুনিক থ্রি-ডি প্রোজেকশন ম্যাপিং শো— ‘মা আসছে-উমা স্টোরি’। এই বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে দেবী দুর্গার আগমন ও বাংলার শারদোৎসবের আবহ। নবান্ন সূত্রে খবর, ইডেনের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। শেষ মুহূর্তে সামান্য কিছু পরিবর্তন হতে পারে, তবে অনুষ্ঠানের মূল পরিকল্পনা বা ব্লু-প্রিন্ট ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত।
২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইডেন গার্ডেনসের নিরাপত্তার দায়িত্ব চলে যাবে স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজির হাতে। ইডেনের এই অনুষ্ঠান থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১০ হাজার দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী। বিকেল ৪টের সময় শুরু হবে ইডেনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলার বিভিন্ন জেলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাকে তুলে ধরা হবে এই আয়োজনে। পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও লোকনৃত্য পরিবেশন করবেন।
অনুষ্ঠানে দার্জিলিঙের তামাং সেলো, কালিম্পঙের লেপচা নাচ এবং জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজবংশী লোকনৃত্য পরিবেশিত হবে। থাকবে মালদহের গম্ভীরা, বীরভূমের বাউল, পূর্ব বর্ধমানের রাইবেশে এবং পশ্চিম বর্ধমানের সাঁওতালি নাচ। এছাড়াও নদিয়ার গৌড়ীয় বৈষ্ণব নাচ, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার ছৌ, ঝাড়গ্রামের সাঁওতালি নাচ, পূর্ব মেদিনীপুরের পটুয়ার গান, হুগলির রামপ্রসাদী, হাওড়ার লোকনাট্য এবং উত্তর ২৪ পরগনার বনবিবি পালা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী নানা শিল্পরূপ এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হবে।
অর্থাৎ মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন শুধু দুর্গাপুজোর সূচনার মঞ্চই নয়, হয়ে উঠতে চলেছে বাংলার বৈচিত্র্যময় লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক মহামিলনক্ষেত্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে দেবীর চক্ষুদান, হাজার মহিলার উলুধ্বনি, ১০ হাজার ঢাকের বাদ্যি, শ্রেয়া ঘোষালের গান এবং ২৩ জেলার লোকশিল্পের সমাহারে মহালয়ার এই সন্ধ্যা নজিরবিহীন হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
❤ Support Us







