- দে । শ
- জুলাই ২৯, ২০২৫
কেতুগ্রামের ৪ বাংলাদেশি কোথা থেকে এদেশের পরিচয়পত্র তৈরি করিয়েছে, খোঁজ শুরু
মিথ্যা তথ্য পেশ করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও আধার কার্ড-রেশন কার্ড তৈরির অভিযোগে ৪ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিল প্রশাসন। কাটোয়ার মহকুমাশাসক অহিনসা জৈন বলেন, ‘বৈধ নথি দেখাতে না পারায় ৪ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে।’ কেতুগ্রাম ২নং ব্লকের উদ্ধারণপুর মিশ্রপাড়ার ওই ৪ বর্তমান বাসিন্দা কালাচাঁদ মণ্ডল, কালাচাঁদের স্ত্রী তিলোত্তমা, জামাই দুলাল মণ্ডল ও দুলালের ছেলে দুর্জয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগও শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তারা কোথা থেকে এইসব সরকারি পরিচয়পত্র তৈরি করেছে, সে ব্যাপারে খোঁজখবর করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ভুয়ো সরকারি পরিচয়পত্র তৈরির একটি চক্র এলাকায় সক্রিয় বলে অভিযোগ। ভোটার তালিকার ২৪৩নং পার্টে কালাচাঁদের ২ ছেলের নাম নজরে আসতেই সোরগোল পড়ে যায়। কারণ কালাচাঁদের একটিই ছেলে। নাম প্রকাশ। ভোটার তালিকায় কালাচাঁদের ছেলে হিসেবে তার জামাই দুলাল মণ্ডলের নাম দেখে তাজ্জব এলাকার বাসিন্দারা। আদতে বাংলাদেশের শরিয়তপুর জেলার গোঁসাইগঞ্জের বাসিন্দা দুলালের বাবা সেজে আধার কার্ড, ভোটার কার্ডে নাম তোলাই নয়, দুলালের ছেলে দুর্জয়েরও বাবা হিসেবে পরিচয় দিয়ে পরিচয়পত্র তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে কালাচাঁদের বিরুদ্ধে। তোপ দাগেন কেতুগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক শাহনেওয়াজ শেখ। বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে হাত করে দেশজুড়ে বিজেপি এইসব কাজকারবার করছে।’ তবে প্রশাসনের কাছে শুনানিতে এসে ২০০০ সালে বাংলাদেশ থেকে এসে উদ্ধারণপুরে ঘাঁটি গাড়া কালাচাঁদ মণ্ডল কবুল করেন, ‘বাংলাদেশে চরম নিপীড়নের কারণে বাধ্য হয়ে চলে আসি। পরিচয়পত্র তৈরি করি। এখন প্রশাসন যা বলবে মেনে নেব।’ জানা গেল, ২০১৫ সালে কালাচাঁদই বাংলাদেশের দালাল ধরে মাথাপিছু হাজার টাকা দিয়ে পাসপোর্ট ছাড়াই বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকে।
জেলা গোয়েন্দা দপ্তর সূত্রের, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত জাল নথি তৈরির জন্য মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ২১টি জাল জন্ম শংসাপত্র তৈরির অভিযোগ হয়েছে। কিছুদিন আগে কাটোয়া ১নং ব্লকের পানুহাটের ভোটার তালিকায় ৬ জন বাংলাদেশির নাম পাওয়া যায়। এদিকে ভুয়ো তথ্য পেশ করে পরিচয়পত্র তৈরি করার অভিযোগে শুনানির সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের কাজে বাধাদানের অভিযোগ উঠল কাটোয়া মহকুমা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ‘সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা হরণের’ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেস কাউন্সিল, রাজ্যের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, জেলাশাসক ও কাটোয়ার বিধায়ককে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানালেন কাটোয়া মহকুমা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রণদেব মুখার্জি ও সম্পাদক রানা দাস।
❤ Support Us





