Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ১৭, ২০২৬

শিল্পে জোর দিচ্ছে সরকার, আগ্রহী ৪২ শিল্পপতি : ঘোষণা শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শিল্পে জোর দিচ্ছে সরকার, আগ্রহী ৪২ শিল্পপতি : ঘোষণা শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের

পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, রাজ্যে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে তাঁর সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছেন অন্তত ৪২ জন শিল্পপতি। তাঁদের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে এবং সরকার বিনিয়োগকারীদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বাজেট অধিবেশনে শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্প প্রকল্প এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে। রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার শিল্পোন্নয়ন এবং অর্থনীতির পুনর্গঠনের উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। সে লক্ষ্যেই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ‘নীতি আয়োগ’কে রাজ্যের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্লুপ্রিন্ট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘নীতি আয়োগ’-এর উপাধ্যক্ষ অশোক লাহিড়ির নেতৃত্বে সে কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এক সময় দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল পশ্চিমবঙ্গ। স্বাধীনতার সময় জিডিপির নিরিখে রাজ্য ছিল ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি। তবে পরবর্তী কয়েক দশকে ধারাবাহিক অবনতির ফলে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ দেশের ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, অতিরিক্ত ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকলাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিল্পবিরোধী পরিবেশ এবং প্রশাসনিক কিছু ভুল সিদ্ধান্ত এই অবনতির অন্যতম কারণ।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে বিজেপি বারবার তৎকালীন তৃণমূল সরকারের শিল্পনীতি নিয়ে সমালোচনা করেছিল। পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ক্ষমতায় এলে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধা কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের নতুন পথ খুলে দেওয়া হবে। সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের ইঙ্গিত হিসেবেই শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে।

আগামী ২২ জুন রাজ্য বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা হবে। দুপুর ১২টায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি উপস্থাপন করবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হওয়ায় তা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাজেটেই রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষি উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত সরকারের আগামী পাঁচ বছরের রূপরেখার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে পারে। ফলে শিল্প বিনিয়োগ ও উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ঘোষিত পদক্ষেপগুলির দিকে এখন নজর রাজ্যের শিল্পমহল থেকে সাধারণ মানুষের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!