Advertisement
  • দে । শ পা | র্স | পে | ক্টি | ভ
  • অক্টোবর ১৬, ২০২২

‘নরখাদক–এর অনন্য ভয়াবহতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘নরখাদক–এর অনন্য ভয়াবহতা

উডকাটে নরবলীর চিত্র।১৮৬০ সালে এই খোদাই চিত্রটি নির্মাণ করেন চিত্রি সি ক্রুল।

কিছুদিন আগে কেরালার পাথানামথিট্টা জেলার এলানখুর গ্রামে ‘‌কালো জাদু’‌ আচারের অংশ হিসেবে দুজন মহিলাকে হত্যা করা হয়েছিল। একজনের নাম লায়লা রোজালিন, বয়স ৪৯। অন্যজন ৫২ বছর বয়সী পদ্মা। এই দুই মহিলাকে হত্যা করে তাঁদের দেহের বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলা হয়েছিল। তারপর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রোজালিনের মাংস রান্না করে খায়। এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হয়ে উঠেছে কেরালা। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চিকিৎসক দম্পতি ভগবান সিং এবং তাঁর স্ত্রী লায়লা গ্রামে একটা আয়ুর্বেদিক ম্যাসাজ থেরাপি সেন্টার চালাতেন। এরপর মহম্মদ শফি নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে শ্রীদেবী নামে একটা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে ভগবান সিংয়ের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি স্থাপন করেন। শফি চিকিৎসক দম্পতিকে বোঝান যে, মানব বলিদান তাঁদের সংসারে সমৃদ্ধি ও সম্পদ নিয়ে আসবে এবং রান্না করা মানুষের মাংস যৌবন রক্ষা করবে। সেই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, একজন মহিলাকে তিনি নিয়ে আসবেন বলি দেওয়ার জন্য।

এরপর শফি কালাডিতে লটারির টিকিট বিক্রেতা রোজানিলকে পর্নোগ্রাফির ভিডিও শ্যুটের প্রস্তাব দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে এলানথুরে নিয়ে যায় এবং তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
প্রথমবার বলি দেওয়ার পরই চিকিৎসক দম্পতির সংসারে কোনও সমৃদ্ধি আসেনি। এরপর মহম্মদ শফি আরও একজনকে বলি দেওয়ার কথা বলেন। ওই চিকিৎসক দম্পতি তাতেও রাজি হয়ে যান। এরপর পদ্মা নামে আর একজন লটারি টিকিট বিক্রেতাকে ওই চিকিৎসক দম্পতির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পদ্মার বোন পালানিয়াম্মার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপর শফি ও চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন জনই অভিযোগের কথা স্বীকার করেছে।

মঙ্গলবার ভগবান সিংয়ের বাড়ি থেকে পুলিশ নিহতের কাটা শরীরের অংশগুলি বার করেছে। পদ্মাকে শ্বাসরোধ করে শিরচ্ছেদ করা হয়েছিল। তারপর শফি পদ্মার শরীরকে ৫৬ টুকরো করে একটা বালতিতে রেখেছিল। লায়লা রোজলিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। তারপর তাঁর স্তন কেটে ফেলা হয়েছিল।

ভারতে মানব বলিদান এবং মানুষের মাংস খাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০০৫ ও ২০০৬ সালে নিঠারির এক বাংলোতে ধারাবাহিক হত্যাকান্ড গোটা দেশে তোলপাড় ফেলেছিল। বাংলোর মালিক মনিন্দর সিং পান্ধে ও সাহায্যকারী সুরিন্দর কলিকে অপহরন, খুন এবং ধর্ষনের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যখন নিথারি গ্রামের দুটি মেয়ে নিখোঁজ হয় এবং বাসিন্দারা জানায় যে তাদের দেহাবশেষ বাংলোর পিছনে একটি পৌরসভার জলের ট্যাঙ্কে রয়েছে। কলি বেশ কয়েকটি শিশু এবং যুবতীকে হত্যা করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। কলি যে বাড়িতে কাজ করত সেখানে ১৯ জনের মতো মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একজন কথিত নরখাদক, রাজা কোলান্দার ১৫ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছিল। উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে একজন সাংবাদিককে হত্যার পর তার আগের অপরাধগুলি প্রকাশ্যে এসেছিল। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে লুধিয়ানায় ১৬ বছর বয়সী একজনকে হত্যা এবং নরখাদক করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি দীপুর হৃদপিণ্ড বের করে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং একটি স্কুল কম্পাউন্ডে ফেলে দেয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করে, যে সে ছেলেটিকে হত্যার পর মাটিতে ছিটকে পড়া রক্ত পান করেছিল এবং মাংস খেয়েছিল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!