Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১৬, ২০২৩

নাম পরিবর্তন নিয়ে হাত -পদ্মের তীব্র বিতর্ক। নেহেরুর ভয়ে ভীত মোদি, কটাক্ষ রমেশের। পালটা জবাবে পরিবারবাদের খোঁচা বিজেপির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নাম পরিবর্তন নিয়ে  হাত -পদ্মের তীব্র বিতর্ক। নেহেরুর ভয়ে ভীত মোদি, কটাক্ষ রমেশের। পালটা জবাবে পরিবারবাদের খোঁচা বিজেপির

পূর্বঘোষণা ছিলই। তাই প্রত্যাশিতভাবেই বদলে ফেলা হল জওহরলাল নেহেরুর স্মৃতি বিজড়িত একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। এবার থেকে নেহেরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম ও লাইব্রেরি-কে প্রাইম মিনিস্টারস মিউজিয়াম ও লাইব্রেরি নামে চিনবে সারা বিশ্ব। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,  সমস্ত দিক বিচার করে, নতুন নামকরনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শাসক শিবিরে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও বিরোধীরা বিশেষত কংগ্রেস সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

মধ্য-দিল্লির তিন মূর্তি মার্গে অবস্থিত এই ভবনটি ব্রিটিশ আমলে প্রধান সেনাপতির বাসভবন রূপে পরিচিত ছিল। ইংরেজরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ভারতের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এখানে থাকা শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর এটি গ্রন্থাগার ও সংগ্রহশালায় পরিণত হয়। পাঁচ দশক পরে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এই ভবনের অদূরেই তৈরি হয় প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহশালা। গত বছর তাঁর উদ্বোধন হয়। এবার এই দুই বিল্ডিং সামগ্রিকভাবে পরিচিত হবে প্রাইম মিনিস্টারস মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি- হিসেবে। সংস্থার এক্সজিকিউটিভ কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান টুইট বার্তায় বলেছেন, স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৪ আগস্ট থেকে প্রচলিত হচ্ছে নতুন নাম।

বিষয়টিকে ভালোভাবে নিতে পারেনি কংগ্রেস। বুধবা দলীয় সাংসদ জয়রাম রমেশ টুইট বার্তায় বলেছেন, ভারতের আরো একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হল।  বিশ্বখ্যাত নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরির নাম বদলে প্রাইম মিনিস্টারস মোমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি-তে পরিণত হল । মাননীয় মোদীর অনেক ভয় রয়েছে, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন বিশেষ করে আমাদের প্রথম ও সবথেকে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে। নেহেরু ও তাঁর উত্তরাধিকারীদের অপমান করার কোনও সুযোগ ছাড়েননি। এন সরিয়ে পি বসিয়ে দিয়েছেন। এই পি-এর অর্থ হল সংকীর্ণ মানসিকতা ও অবজ্ঞা।

তিনি আরও বলেম, আজকের প্রধানমন্ত্রী যতই চেষ্টা করুক না কেন স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ সমাজতান্ত্রিক ভারত গঠনে, বিজ্ঞান চিন্তার প্রসারে জওহরলালা নেহেরু যে অবদান রেখে গেছেন তা সারা বিশ্ব জানে। কোনোমতেই তা ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না। আগামী বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে কেমব্রিজ ফেরত প্রাজ্ঞ ব্যক্তির মনীষা।

রমেশ মন্তব্যের অবশ্য পালটা জবাব দিয়েছে বিজেপি । তাঁদের মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে জানান, কংগ্রেসের কাছে পি মানে হল পরিবার কখনোই দেশের সাধারণ মানুষ নন। তাঁর মতে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত দেশ গঠনে প্রত্যেকের দেশেগোঠন ও বিকাশে অসাধারণ অবদান রয়েছে। তাঁর কালানুক্রমিক সংরক্ষণের জজন্যই এ উদ্যোগ। হার শিবিরের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরিবারতন্ত্রে যাদের গভীর আস্থা, তাঁরা অবশ্যই চাইবেন নিজের পরিবার থেকে হওয়া প্রধানমনন্ত্রীকে বড়ো করে দেখাতে। কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও সে একই অবস্থা। তাঁরা নিজেদের পরিবারকেই সর্বাগ্রে রাখতে চায় দেশের জনগণকে নয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!