- দে । শ
- আগস্ট ২২, ২০২৩
র্যাগিং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই হয়, রুখতে হবে সিনিয়রদের, মন্তব্য ব্রাত্য বসুর
যাদবপুরের ছাত্র মৃত্যু নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। হস্টেলে প্রথম বর্ষের ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার পরে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই জুনিয়াদের উপর সিনিয়রদের র্যাগিং রুখতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঠিক সেই সময় দাঁড়িয়ে এই বিষয়ে সিনিয়র পড়ুয়াদের এগিয়ে আসার পরামর্শ দিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ব্রাত্যর পরামর্শ, সরকার বা রাষ্ট্র র্যাগিং নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। র্যাগিংয়ের মতো ঘটনা বন্ধ করতে গেলে সিনিয়র পড়ুয়াদেরই এগিয়ে আসতে হবে। জুনিয়রদের ভালোবাসতে হবে। একই সঙ্গে স্বাধীনভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর পরামর্শও দিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী।
বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে সোমবার শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারতের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে র্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা আটকাতে পারে না কর্তৃপক্ষ বা রাষ্ট্র। র্যাগিংয়ের ফলে যদি কোনও মৃত্যু হয় বা নির্মম ঘটনা ঘটে সেক্ষেত্রে নিশ্চয় মানুষ প্রতিবাদ করবে। তবে যখন সিনিয়র ছাত্ররা জুনিয়াদের ভালোবাসতে শিখবে তখনই র্যাগিংয়ের মতো ঘটনা বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর মতে, ছাত্ররাই একমাত্র পারে র্যাগিং রুখতে। যখন সিনিয়ার পড়ুয়ারা এই ধরনের উপলব্ধি করবে তখন এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।
অন্যদিকে, বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কাশ্মীরের মতো ঠান্ডা করার নিদান দিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে ব্রাত্য বলেন, “বিজেপি যেভাবে গৈরিকীকরণের চেষ্টা করছে সাধারণ মানুষ তা কোনওভাবেই সমর্থন করবে না। আগামী বছর লোকসভাতে তা বোঝা যাবে। সেখানে দেখা গেল হয়তো দিলীপ ঘোষ আর সংসদ থাকবেন না।”
প্রসঙ্গত, ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর দাবি উঠেছে। যাদবপুর ইউনিটের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভানেত্রী রাজন্যা হালদার দায়িত্ব পাওয়ার পরদিনই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে এই দাবি জানিয়ে এসেছেন রেজিস্টার স্নেহমঞ্জু বসুর কাছে। তবে ব্রাত্য বসুর মতে, আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন পাঠন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক। পাচাপাশি তিনি চাইছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে চলুক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউও সিসিটিভি বসানোর পক্ষে নন। তিনি জানিয়েছিলেন, সিসিটিভি বসিয়ে লাভ নেই। তিনি বলেছেন, সুস্থমানের চিন্তাভাবনার প্রয়োজন। এদিকে, পড়ুয়াদের নিরাপত্তার স্বার্থে যাদবপুর হস্টেলে লগ বুক চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে প্রবেশ এবং বের হওয়ার সময় লগ বুকে সই করতে হচ্ছে। মূলত বহিরাগত এবং প্রাক্তনীদের আটকাতেই এই পদক্ষেপ করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এর আগেও এখানকার প্রাক্তন উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ- নির্গমনে নিয়ম চালু করেছিলেন তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
❤ Support Us





