Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২৫, ২০২৪

রাজ্যকে না জানিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে কেন্দ্রের জল বণ্টন চুক্তি ! ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, চিঠি মোদিকে, কী জবাব কেন্দ্রের?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্যকে না জানিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে কেন্দ্রের জল বণ্টন চুক্তি ! ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, চিঠি মোদিকে, কী জবাব কেন্দ্রের?

গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তি নিয়ে কেন্দ্র- রাজ্য সংঘাত চরমে উঠল। ফরাক্কা জলচুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গকে অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবাদ-পত্র তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠিয়েছেন।

যদিও কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা জল চুক্তির পর্যালোচনার বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও কেন্দ্রের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল ।
এপ্রিল মাসে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ ও জলপথ বিভাগের যুগ্ম সচিব ফারাক্কা ব্যারাজের ডাঊন্সট্রিম সম্প্রসারণ থেকে পরবর্তী ৩০ বছরের জন্য রাজ্যের মোট চাহিদা জানিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ফরাক্কা জল বণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২৬ সালে সে তিরিশ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর চলাকালীন দুই দেশ নিজেদের বক্তব্যে বলেছে যে, ফরাক্কা চুক্তির নবীকরণ নিয়ে তারা টেকনিক্যাল আলোচনা শুরু করবে।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লেখা চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চুক্তির নবায়নের জন্য আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্তকে “একতরফা” বলে অভিহিত করেছেন। পশ্চিমবঙ্গকে এ ধরনের আলোচনা থেকে বাদ না দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আর্জি জানিয়েছেন।

কেন্দ্র, গত বছরের ২৪জুলাই, ফারাক্কায় গঙ্গার জল বণ্টন নিয়ে “১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ চুক্তির পর্যালোচনা করার জন্য গঠিত প্যানেলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন মনোনীত প্রার্থী চেয়েছিল। গত বছরের আগস্টে, পশ্চিমবঙ্গ ওই কমিটিতে সেচ ও জলপথ অধিদপ্তরে চিফ ইঞ্জিনিয়ার মনোনীত করার বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ।

কেন্দ্রের দাবি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর তরফে যে দাবি করা হচ্ছে তা মোটেও ঠিক নয়। গতকাল নবান্নে বৈঠকে এ বিষয়ে তিনি সরব হন। বিজেপি শাসিত জোট সরকারকে সরাসরি ‘বাংলা বিরোধী’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, ‘বাংলার মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারত-বাংলাদেশ ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। এটি কেন্দ্রের বাংলা-বিরোধী মানসিকতার একটি নিদর্শন।’

বিদেশ মন্ত্রকের সচিব বিনয় কুয়াত্রা বলেছেন, দুই দেশের একটি যৌথ কারিগরি কমিটি গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তি পুনর্নবীকরণের জন্য আলোচনা শুরু করবে। তিনি বলেন, ভারতীয় সহায়তায় বাংলাদেশেও ‘তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা’ করা হবে।

তবে কেন্দ্রের তরফে মমতার দাবি নস্যাৎ করা হলেও নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেছেন যে, ‘আমি বাংলাদেশের বিপক্ষে নই। ঢাকার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। তবে আমি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। আমাকে বাংলার স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। ‘ কেন্দ্র সরকারের তরফে সরাসরি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, তোমরা বাংলাদেশের জল মজুদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, অথচ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে না জানিয়ে। একেই কি ফেডেরাল ঐক্য বলে?’ বস্তুত, বাংলা ও কেন্দ্রের এ জল সংঘাতের মাঝে ফরাক্কা চুক্তি নবীকরণ করা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হলে তা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাসিনার অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সেক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে তাতে দুই দেশের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!