Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ২৮, ২০২৪

আপৎকালীন সহায়তায় তৈরি রক্তের ডেটা ব্যাঙ্ক। দৃষ্টান্ত গড়ল সীমান্তবর্তী গ্রামের আখারপুর অঞ্চল হাইস্কুল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আপৎকালীন সহায়তায় তৈরি রক্তের ডেটা ব্যাঙ্ক। দৃষ্টান্ত গড়ল সীমান্তবর্তী গ্রামের আখারপুর অঞ্চল হাইস্কুল

স্কুল শুরুর আগে প্রার্থনার লাইন শ্রেণী অনুসারে নয়। ছেলে বা মেয়ে আলাদা করে নয়। পড়ুয়াদের রক্তের গ্রুপ অনুযায়ি সবাই প্রার্থনার লাইনে দাঁড়ায়। হাতে তাদের রক্তের গ্রুপ লেখা বোর্ড। এভাবেই ওরা সবাই প্রতিদিন জেনে যাচ্ছে বন্ধুদের কার রক্তের গ্রুপ কী। এবং সেটা মনে গেঁথে যাচ্ছে সব পড়ুয়ার। রক্তের জন্য ব্লাড ব্যাঙ্কের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা নয়। দরকারে গ্রামের ছেলেমেয়েরা এগিয়ে আসবে রক্তের প্রয়োজন মেটাতে। সেই রকমই সচেতনতা তৈরি করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ১ ব্লকের গাছা–‌আখারপুর অঞ্চল হাইস্কুল।

বসিরহাটের সীমান্তবর্তী গ্রামের স্কুলটি সবেমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পঠনপাঠনের অনুমোদন পেয়েছে। প্রধান শিক্ষক মুরশিদুল ইসলাম সাহিন বলেন, স্কুলে এখন ৭৮৬ জন ছাত্রছাত্রী। সবার রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করা হয়েছে স্কুলের উদ্যোগে। সবার পরিচয় পত্রে রক্তের গ্রুপ লেখা আছে। এখানেই শেষ নয়, স্কুলের সহপাঠীদের কার কোন গ্রুপে রক্ত তা যা সবাই অবহিত হতে পারে, সে জন্য অভিনব পন্থা নিয়েছেন স্কুলের শিক্ষকরা। প্রতিদিন স্কুল শুরুর আগে প্রার্থনার লাইন হয় ক্লাস অনুযায়ি নয়, রক্তের গ্রুপ অনুসারে। অর্থাৎ ‘‌এ পজিটিভ’‌, ‘‌এ নেগেটিভ’‌, ‘‌বি পজিটিভ’‌ , ‘‌বি নেগেটিভ’‌ এই রকম প্লাকার্ড হাতে প্রার্থনার লাইনে দাঁড়ায় ছেলে মেয়েরা। প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‌ও নেগেটিভ’‌–‌র লাইন সব থেকে ছোট। কারণ ওই রক্তের গ্রুপের সংখ্যা কম পাওয়া যায়।‌

স্কুলে তৈরি হয়েছে পড়ুয়াদের রক্তের গ্রুপ অনুযায়ি ডেটা ব্যাঙ্ক। ক্লাসে ক্লাসে রক্তের গ্রুপ ভিত্তিক ক্যুইজ, পাঠ্য বিষয়ে প্রশ্নোত্তর, বিতর্ক সভার আয়োজন করা হয়। স্কুলে কাবাডি, খোখো খেলা হয় একই রক্তের গ্রুপের দল তৈরি করে। এতে কার রক্ত কোন কোন গ্রুপ মনে গেঁথে যাচ্ছে ছেলে মেয়েদের। দশম শ্রেণীর ছাত্র আবু সাঈদ, সোহিনী বিশ্বাস, তানিশা খাতুন, দ্বাদশ শ্রেণীর আবেদা খাতুন, রানা কাহার, মাসুম বিল্লাহ সমস্বরে জানায়, ‘‌রক্ত দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায় তাদের মানসিকতা এমন ভাবে তৈরি হয়ে গিয়েছে। আমাদের বন্ধুদের কার কী গ্রুপের রক্ত তা আমরা বলে দিতে পারি। তারা বলে, ১৮ বছর হলেই মানুষের প্রয়োজনে আমরা রক্ত দিতে পারব।’‌ এই সচেতনতার সুফল হাতেনাতে পেয়েছেন স্থানীয় মানুষ। গত বছর রক্তের আকাল চলছিল বসিরহাট জেলা হাসপাতালে। সেই সময় ওই স্কুলের পড়ুয়ারা রক্ত দিতে চাইলে যেহেতু তাদের বয়স ১৮ হয়নি তাই তারা রক্ত দিতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে থেমে থাকেনি তারা। বাড়িতে বাবা–‌মাদের বুঝিয়ে রাজি করিয়ে এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে পথ চলতি মানুষ, অটো, টোটো চালকদের মধ্যে প্রাচার করার ফলে ৭৭ জন রক্তদান করেন। স্কুলের শিক্ষক মহম্মদ এবাদুল ইসলাম, তুহিন শুভ্র হালদার বলেন, গাছা, আখারপুর, প্রসন্নকাটি সহ স্কুলের ভৌগলিক সীমানার আশপাশের গ্রামে অদূর ভবিষ্যতে চিকিৎসার জন্য কখনও রক্তের প্রয়োজন হলে তা মেটাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ গাছা–‌আখারপুর অঞ্চল হাইস্কুলের ছেলেমেয়েরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!