- দে । শ
- জুলাই ৮, ২০২৪
৮৭ বছরের পুরনো ঐতিহ্য, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ঘিরে উৎসবের চেহারা মিনাখাঁয়
গ্রামীণ খেলাধুলো এখন অবলুপ্তির পথে। একসময় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে গ্রামের মানুষ জমায়েত হতে দেখা যেত। কিন্তু জমিদারি প্রথা বিলোপের সাথে সাথে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাও বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁর নলফা, ছয়ানি গ্রামের মানুষ। ফি বছর ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে মিনাখাঁর নলফা, ছয়ানি গ্রাম। দূর দূরান্ত থেকে কয়েক লক্ষ মানুষ উপভোগ করেন এই প্রতিযোগিতা। দেশ স্বাধীন হবার আগে থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁর নলফা, ছয়ানি গ্রামে চলে আসছে ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা।
সম্প্রতি এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল। সেখানে প্রায় ৩০ জন প্রতিযোগী ঘোড়া দৌড়ে অংশ নেয়। নলফা–ছয়ানি ঘোড়া দৌড় কমিটির সম্পাদক একরামুল গাজি, সভাপতি কাওসার গাজি বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকে এই প্রতিযোগিতা হয়ে আসছে। ৮৭ বছর ধরে চলছে এই প্রতিযোগিতা। আগে ২৫ বৈশাখ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে ঘোড়া দৌড়ের আসর বসত মিনাখাঁ, বামনপুকুর লাগোয়া ছয়ানি ও নলফা গ্রামে। এখন সেটা ১১ জ্যৈষ্ঠ কাজি নজরুল ইসলামের জন্ম দিনে হয়। এবারে নির্বাচন বিধি থাকায় ওই ২ টো দিনের কোনটাতেই করা সম্ভব হয়নি বলে ভোট মিটে গেলে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিনাখাঁর বাসিন্দা প্রদ্যুৎ রায় বলেন, এটা একটা গ্রামবাংলার প্রাচীন খেলা। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন গ্রামের মানুষ। আজও প্রতিবছর বহু মানুষের সমাগমে খেলার প্রাঙ্গন উৎসবের চেহারা নেয়। নানা জিনিসের পসরা নিয়ে মেলা বসে যায়। নলফা–ছয়ানি ঘোড় দৌড় কমিটির সম্পাদক একরামুল গাজি বলেন, ‘এ সময় মাঠে কোন চাষ থাকে না। ২ কিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে ঘোড়া দৌড় হয়। দু’পাশে কয়েক লক্ষ মানুষ তা উপভোগ করেন।’ তিনি বলেন, ‘এবারে ৩০ টি ঘোড়া নিয়ে সওয়ারিরা প্রতিযোগিতায় নামেন। প্রথম পুরস্কার ১০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৮ হাজার, তৃতীয় পুরস্কার ৬ হাজার ছাড়াও আরও অংশগ্রহন কারীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।’ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার সঙ্গে ২ দিন ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন উদ্যোক্তারা। কমিটির সভাপতি কাওসার গাজি বলেন, এই ঐতিহ্য আজকের নয়। ৮৭ বছর ধরে চলছে। আগে ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম দিন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হত । এখন ১১ জ্যৈষ্ঠ বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের জন্মদিনে আয়োজন করা হয়। এবার ভোটের জন্য পিছিয়ে গেছে প্রতিযোগিতা। তিনি বলেন, ‘আমরা মিলে মিশে গ্রামের সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলার ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে রক্ষা করার অঙ্গীকার নিয়ে এই ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রেখেছি।’
❤ Support Us





