- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৪
বিচার নয় চেয়ার চাইছেন ওরা, নবান্ন থেকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী । চেয়ারের ওপর ভরসা করেই কথা বলতে এসেছিলাম, বললেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা
৯তারিখ শীর্ষ আদালত জানান, ডাক্তারদের কর্মবিরতির কারণে বহু রোগী চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন, তাই ১০ তারিখ বিকেল পাঁচটার মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে। নাহলে রাজ্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও আদালতের কিছু বলার থাকবে না। এই অভিযোগ, সরকারের তরফ থেকেও আসতে থাকে বারংবার।
কিন্তু, এই বক্তব্যের পর জুনিয়র চিকিৎসকেরা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আর্তদের চিকিৎসা না করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়, অক্লান্তভাবে সেই পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন সিনিয়র চিকিৎসকেরা। এবং তাঁরা রাজ্যে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা, সেখানে পরিসংখ্যান জুনিয়র চিকিৎসকের সংখ্যার একটি পরিসংখ্যানও দেখান। এই প্রেস কনফারেন্স থেকেই তাঁরা স্বাস্থ্যভবন অভিয়ানের ডাক দেন এবং তাঁরা এও জানান সেই নির্দিষ্ট দাবি পূরণ না হওয়া অবধি তাঁরা অবস্থানেই থাকবেন।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ৩টের পর ধর্নায় বসেছিলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে তার পর থেকে টানা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। পেয়েছেন সাধারণ মানুষের বিপুল সমর্থন। দফায় দফায় স্বাস্থ্যভবনের সাথে হয়েছে ইমেল চালাচালি। কোনো কিছুই ফলদায়ী হয়নি।
এরপর, জুনিয়র ডাক্তারদের ফের বৈঠকে ডাকল নবান্ন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নবান্ন সভাগৃহে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। রাজ্যের তরফে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জুনিয়র ডাক্তারদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, বৈঠকে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিকিৎসকদের ১৫ জন প্রতিনিধি বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন। তবে বৈঠকের সরাসরি সম্প্রচার হবে না বলে জানিয়েছে নবান্ন। তার পরিবর্তে হবে রেকর্ডিং। এবং কোনো নির্দিষ্ট দাবি নিয়ে আলোচনা করা হবে না। আলোচনা করতে হবে ‘খোলা মনে’-ই।
কিন্তু, আন্দোলনকারীদের প্রথম থেকে দাবি ছিল, বৈঠকে বসা নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আলোচনায় বসার জন্য চারটি শর্ত দিয়েছিলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। প্রথমত, অন্তত ৩০ জনের প্রতিনিধিদল থাকবে বৈঠকে। দ্বিতীয়ত, নবান্নে যে বৈঠক হবে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তার লাইভ সম্প্রচার করতে হবে। তৃতীয়ত, আন্দোলনকারীরা যে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছিলেন আগে, সেই দাবিগুলির উপরেই বৈঠকে আলোচনা হতে হবে। চতুর্থত, নবান্নে যে বৈঠক হবে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে উপস্থিত থাকতে হবে।
তাঁদের আ়জ বিকেল ৪ টে ৪৫ এর সময় বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। জুনিয়র চিকিৎসকদের ৩০ জনের প্রতিনিধি দল ৫ টা নাগাদ নবান্নের সামনে পৌঁছান এবং নিজেদের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকেন।
এই বৈঠক হবে কি না, এই দোলাচল চলতে থাকে। তারপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকেই একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে সন্ধে সাড়ে ছটা নাগাদ মমতা বলেন, ‘‘দুঘন্টা অপেক্ষা করে আছি বৈঠক করার জন্য। ওরা আমার ছোটো ছোটো ভাইবোন। ওদের সাথে আমি খোলা মনে, কোনো শর্ত ছাড়া কথা বলতে চেয়েছিলাম। তিন দিনেও সমাধান করতে পারলাম না। বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চাইছি। যাঁরা নবান্নের সামনে এসেও বৈঠকে এলেন না, তাঁদের আমি ক্ষমা করলাম। আমাকে অনেক অসম্মান করা হয়েছে। আমার সরকারকে অসম্মান করা হয়েছে। অনেক ভুল বোঝাবুঝি, কুৎসা হয়েছে। সাধারণ মানুষ রঙ বোঝেনি। আমি পদত্যাগ করতে রাজি আছি। কিন্তু ওরা বিচার চায় না। চেয়ার চায়। আশা করি মানুষ সেটা বুঝবেন।’’
নবান্নের বৈঠক থেকে মমতা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা তুলে বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, সময় পেরিয়ে গিয়েছে। আমি যত দূর জানি, সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, রাজ্য পদক্ষেপ করলে তারা বাধা দেবে না। কিন্তু আমি কিছু করব না। বহু মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাত লক্ষ মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। আমার হৃদয় কাঁদছে। ওরা ছোট, আমি ওদের ক্ষমা করছি। ’’
এই প্রেস কনফারেন্সের পর জুনিয়ার চিকিৎসকরা বলেন, ‘‘ এই আন্দোলন কেবল আমাদের আন্দোলন নয়। তাই এই আলোচনা সকলকে শোনানোর দায় আমাদের আছে। এর আগেও বিভিন্ন অফিশিয়াল মিটিং লাইভ সম্প্রচারিত হয়েছে। এই বৈঠকটা লাইভ করতে ঠিক কী সমস্যা এ কথার আমরা কোনো সঠিক জবাব পাইনি।’’
তাঁরা জানান,‘‘আমরা এই বৈঠক শুরুর প্রক্রিয়াতেও ঢুকে পড়ে ছিলাম কিন্তু তারপরেই আমাদের জানানো হয়, আমাদের শর্ত মানা যাবে না।’’
‘‘ আমরা মাননীয়াকে বিনিতভাবে এও জানাতে চাই, আমরা চেয়ার চাই না। এই চেয়ারের ওপর ভরসা করেই আমরা কথা বলতে এসেছিলাম। আমরা চেয়ার চাইনা, বিচার চাই।’’
❤ Support Us





