- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৫
প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব? রাজ্যের সাংগঠনিক নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা ছিল, দলের অভ্যন্তরীণ সমস্ত নির্বাচন স্বচ্ছতার সঙ্গে করাতে হবে। বিভিন্ন জেলা থেকে অস্বচ্ছতার অভিযোগ এসেছে। সেই কারণেই রাজ্য সংগঠনের বুথ, মণ্ডল এবং জেলা স্তরের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবার কি তৃণমূলের মতো বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসছে? একের পর জেলা থেকে বিগত কয়েকদিনে, বিজেপির রাজ্য সংগঠনের বুথ, মণ্ডল এবং জেলা স্তরের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঘিরে অন্তর্ঘাতের খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা ছিল, দলের অভ্যন্তরীণ সমস্ত নির্বাচন স্বচ্ছতার সঙ্গে করাতে হবে। অথচ নেতাকর্মীদের অভিযোগ ছিল, যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা নির্বাচনে নিজের পছন্দের লোককে জায়গা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যার ফলে রাজ্য বিজেপির সমস্ত স্তরের সাংগঠনিক নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এমনকি যে জায়গাগুলিতে আগে নির্বাচন হয়েছে, সেগুলিকেও বাতিল করা হতে পারে।
বুধবার সাংগঠনিক নির্বাচন নিয়ে ধুন্ধুমার ঘোটে নদীয়ায় দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির কার্যালয়ে। অফিসে ভাংচুর চালায় দলের কর্মীরাই। দলের একাংশের অভিযোগ, উচ্চ নেতৃত্ব টাকার বিনিময়ে অস্বচ্ছতার সঙ্গে মণ্ডল সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। বারবার এবিষয়ে তাঁদের বলা হলেও তাঁরা কর্ণপাতই করেননি। কর্মীদের কথার গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো লোকের নাম ঢুকিয়ে দিয়ে তালিকা তৈরি করে দিয়েছেন। মণ্ডল সভাপতির নির্বাচন ঘিরে প্রথম থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। এরপর তালিকা প্রকাশ হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীদের একটি বড় অংশ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। রাণাঘাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পার্থ সারথী চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের ‘ইলেকশন’ হয়েছিল কিন্তু রাজ্য নেতৃত্ব ‘সিলেকশন’ করে দেয়। আমরা সেটা মেনে নিয়েছি।’ দলে বেশ কিছু বেনজল ঢুকেছে, তারা বিষয়টি না জেনেই আন্দোলন করছে, বলেন জেলা নেতৃত্ব। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটাভুটিতে যাদের নাম এক নম্বরে ছিল তাঁদের নাম তিন বা চার নম্বরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার তিন বা চার নম্বরের নাম তুলে নিয়ে আসা হয়েছে এক নম্বরে। নতুন করে তালিকা তৈরি করতে হবে এই দাবি নিয়ে দুপুর থেকেই সরগরম ছিল বিজেপি অফিস। শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্য হারিয়ে একদল সমর্থক অফিসের চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। কর্মীরা হুঁশিয়ারি দেন যদি ঠিকভাবে নির্বাচন না হয়, সমস্ত জায়গায় স্বচ্ছতার সঙ্গে মণ্ডল সভাপতি নির্বাচিত না হয়, তাহলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে উঠবে দলের মধ্যেই।
এই ঘটনায় বিজেপি কোণঠাসা করতে মাঠে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল বিধায়ক ড.মুকুট মণি অধিকারী ব্যঙ্গচ্ছলে বলেছেন, মন্ডল সভাপতি থেকে নির্বাচনের টিকিট সমস্তটাই টাকার বিনিময়ে করে বিজেপি। যার টাকা আছে তাঁর পাশেই থাকে ওঁরা। সাধারণ সদস্য, যুব মোর্চা কাউকেই ধর্তব্যে আনে না গেরুয়া শিবিরের নেতারা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই দলকে আতস কাচ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে বলে দাবি করেছেন মুকুট মণি অধিকারী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
রাজ্য সংগঠনের এ হেন দশা দেখে, চুপ থাকেনি ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি। কর্মীদের অভিযোগের সারবত্তা রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। সেই কারণেই অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত সাংগঠনিক নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু মণ্ডল স্তরের নির্বাচন নয়, জেলা সভাপতি, জেলা কমিটির নির্বাচনও আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কোনো কমিটির নাম এখন ঘোষণা হবে না, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়পত্র দিলে তবেই নাম ঘোষণা। সামনে বাংলার মসনদ দখলের নির্বাচন, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে একাধিকবার কড়া বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি, এখন অন্তর্দ্বন্দ্বে জেরবার। এ মত অবস্থায় রাজ্য বিজেপির গোটা সাংগঠনিক নির্বাচন প্রক্রিয়া এখন প্রশ্নের মুখে। এই স্থগিতকরণের কারণে, দলের কর্মীরা এবং সাধারণ সমর্থকরা কিছুটা হতাশ। এর ফলে দলের অভ্যন্তরে বিভাজন ও অস্থিরতা আরো বাড়বে বলে মত একাংশের।
তবে, এরকম সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শক্তি ও সংগঠন পরিচালনায় গুরুত্ব দেওয়া নির্দেশের একরকম প্রতিফলন। এ নিয়ে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব মুখ খোলেন নি।
❤ Support Us






