- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ১৭, ২০২৫
সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও গোষ্ঠীর নতুন তালিকা প্রকাশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তালিকায় ৪৫টি সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন আর ২২টি গোষ্ঠীকে বেআইনি সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাদের পুনঃসংযোজন করা তালিকায় মোট ৬৭টি সন্ত্রাসী সংগঠন আর ২২ টি গোষ্ঠীকে বেআইনি সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত, দেশের নিরপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি কাজকর্মে যুক্ত এমন সংগঠন ও গোষ্ঠীগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। প্রকাশিত তালিকায় ৪৫টি সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যা ইউএপিএর ৩৫ ধারার অধীনে প্রথম শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত। বাকি ২২টি গোষ্ঠীকে অবৈধ সমিতি হিসেবে ইউএপিএর ৩(১) ধারায় চিহ্নিত করা হয়েছে।
চিহ্নিত সংগঠনগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ভারতের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ আর সহিংস কার্যক্রমে জড়িত। গৃহ মন্ত্রক নিয়মিতভাবে এ ধরনের তালিকা আপডেট করে। এই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা ভারতের সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা। ইউএপিএ-র অধীনে চিহ্নিত সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়, দলের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়, তাঁদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়।নতুন তালিকায় যে সব সংগঠন, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তা হল বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল, খালিস্তান কমান্ডো ফোর্স, খালিস্তান জিন্দাবাদ ফোর্স, ইন্টারন্যাশনাল শিখ ইয়ুথ ফেডারেশন; লস্কর-ই-তইবা , পাশবান-এ-আহলে হাদিস , দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট , জইশ-এ-মুহাম্মদ ব, তেহরিক-এ-ফুরকান, পিপলস অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট-ফ্রন্ট, হরকত-উল-মুজাহিদিন , হরকত-উল-আন্সার বা হরকত-উল-জেহাদ-ই-ইসলামী, আনসার-উল-উম্মাহ, হিজবুল মুজাহিদিন , জম্মু ও কাশ্মীর ইসলামিক ফ্রন্ট, ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অফ বোদোল্যান্ড আসাম, পিপলস লিবারেশন আর্মি, ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট, পিপলস রেভল্যুশনারি পার্টি অফ কাংগেলিপাক, কাংগেলিপাক কমিউনিস্ট পার্টি, কাংগেলি ইয়াওল কানবা লুপ, মণিপুর পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট, অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স, ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা, লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম, স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া, দিন্দর আঞ্জুমান, কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসিস্ট-লেনিনিস্ট)-পিপলস ওয়ার,মাওইস্ট কমিউনিস্ট সেন্টার, আল বদর, জামিয়াত-উল-মুজাহিদিন, আল-কায়দা সহ তাদের শাখা সংগঠন। ডুখতরান-এ-মিলাত, তামিলনাড়ু লিবারেশন আর্মি , তামিল ন্যাশনাল রিট্রিভাল ট্রুপস, আখিল ভারত নেপালি একতা সমাজ, ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট, জামা’ত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ ও জামা’ত-উল-মুজাহিদিন ইন্ডিয়াকে অপরাধমূলক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও এ তালিকায় আরো কিছু সন্ত্রাসী সংগঠন যুক্ত হয়েছে যেমন ইসলামিক স্টেট, ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড, এবং হিজব-উত-তাহরির। অবৈধ গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে — স্টুডেন্টস ইসলামী মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া, ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম, লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম, জামাত-এ-ইসলামি, জম্মু ও কাশ্মীর, মুসলিম কনফারেন্স সহ আরো অনেকগুলি গোষ্ঠী।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী আইন শক্ত করতে ও কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা অবৈধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা পেতে ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট’ বা ইউএপিএ আইন আনা হয়। আইনটি বহুবার সংশোধিত হয়েছে, বিশেষ করে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার পর এই আইন সংশোধন করে আরো শক্তিশালী করা হয়। ফলে নানা সময়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। ভারত সরকার নিয়মিতভাবে ইউএপিএর আওতায় সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা আপডেট করে, যাতে সন্ত্রাসী, বিদ্রোহী এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যায় এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করা যায়। দেশের অভ্যন্তরীণ আর আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টায় এই আইন বিশেষভাবে প্রয়োগ করা হয়।
❤ Support Us






