- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২, ২০২৫
ওড়িশার কিআইআইটি-তে ফের নেপালি পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু। তিন মাসের মধ্যে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুবনেশ্বরের কালিঙ্গ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের ঘর থেকে এক নেপালি ছাত্রীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার একই ঘটনা ঘটল। ভুবনেশ্বর পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত ছাত্রী কম্পিউটার সায়েন্সে বিএটেক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দূরে বীরগঞ্জের বাসিন্দা তিনি। এদিন তাঁর দেহটি হোস্টেলের ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। রাত ৮টা নাগাদ পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ ও ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
ভুবনেশ্বর-কটক পুলিশের কমিশনার সুরেশ দেব দত্ত সিংহ জানান, ‘ঘটনাটিকে আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না এলে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘কিআইআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা এক নেপালি ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করেছি। ফরেনসিক দলও এসে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। নিহত পড়ুয়ার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য এইমস-এ পাঠানো হয়েছে।’ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নেপাল থেকে আগত ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ৩ মাসে এ নিয়ে কিআইআইটি-তে একইরকমভাবে দ্বিতীয়বার পড়ুয়ার মৃত্যু ঘটল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি, প্রকৃতি লামসাল নামের তৃতীয় বর্ষের বিএটেক ছাত্রী, যিনি নেপালেরই নাগরিক ছিলেন, তাঁকে হোস্টেলের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। সেই ঘটনায় নেপালি ছাত্রছাত্রীরা প্রবল প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিলেন। আন্দোলনরত ছাত্রদের জোর করে হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। দেশজুড়ে ও আন্তর্জাতিক মহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেপাল সরকার দিল্লিতে নেপালি দূতাবাসের প্রতিনিধিদের অবস্থা পরিদর্শন ও পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভুবনেশ্বর পাঠিয়েছিল। ওই ঘটনায়, কিআইআইটি-র প্রতিষ্ঠাতা ও বিজু জনতা দল নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ অচ্যুত সামন্তের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রকৃতি লামসালের মৃত্যুর পরে জানা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অফিসে এক সহপাঠীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এই অবহেলাকে ‘চূড়ান্ত গাফিলতি’ বলে মন্তব্য করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। পরে অভিযুক্তকে তাঁর মৃত্যুর পরদিন গ্রেপ্তার করা হয়।
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে নড়েচড়ে বসেছে ওড়িশা সরকার। সে রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, শোকপ্রকাশ করেছে। পূর্ণ-তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহত পড়ুয়ার অভিভাবকদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করেছে। এই দুঃসময়ে রাজ্য সরকার মৃতার পরিবারের পাশে আছে। তাঁদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।’ নেপালের বিদেশমন্ত্রী অর্জু রানা দেবা ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, কূটনৈতিক স্তরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, ওড়িশা সরকার ও দিল্লিতে নেপাল দূতাবাসের মাধ্যমে স্বচ্ছ তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই পররাষ্ট্র মন্ত্রক ভারত সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে। পড়ুয়ার মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে। আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি। শোকস্তব্ধ পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানাই।’
অন্যদিকে, ভারতে বসবাসকারী নেপালি ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সংগঠন এই ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের প্রতি অবহেলার উদ্বেগজনক নিদর্শন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অখিল ভারত নেপালি একতা সমাজের মুখপাত্র সমর বাহাদুর বলেন, ‘আমরা একটি নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একই হোস্টেলে ৩ মাসের মধ্যে দুজন নেপালি ছাত্রী মারা গেলেন। এর বিষদে তদন্ত হওয়া দরকার। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নেওয়া প্রয়োজন।’ বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালে বহু ছাত্রছাত্রী হোস্টেলের সামনে জড়ো হয়ে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, অভিযোগ জানাবার কার্যকর ব্যবস্থা আর নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানায়। ক্যাম্পাসে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এভিবিপি স্বতন্ত্র, স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। যদিও, কেআইআইটি বিশ্ববিদ্যালয় এ পর্যন্ত এই মৃত্যু নিয়ে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
❤ Support Us






