Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • আগস্ট ৬, ২০২৫

উত্তরকাশীর পরে কিন্নরেও মেঘভাঙা প্লাবন। কৈলাস যাত্রা স্থগিত, আটকে বহু তীর্থযাত্রী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উত্তরকাশীর পরে কিন্নরেও মেঘভাঙা প্লাবন। কৈলাস যাত্রা স্থগিত, আটকে বহু তীর্থযাত্রী

উত্তরকাশীর মর্মান্তিক মেঘভাঙার রেশ কাটতে না কাটতেই হিমাচলের কিন্নর জেলায় ফের প্রকৃতির প্রলয় তাণ্ডব। বুধবার সকালে প্রবল বর্ষণের জেরে রালডাং খাড়ে ধেয়ে আসে হঠাৎ বন্যা। জলের তলায় পুহ ব্লকের রিব্বা নাল্লা অঞ্চল। জাতীয় সড়ক ০৫ যান চলাচল বন্ধ। দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কৈলাস যাত্রা স্থগিতের ঘোষণা প্রশাসনের, আটকে রয়েছেন শতাধিক তীর্থযাত্রী।

মঙ্গলবার আকস্মিক হরপা বানে তলিয়ে যায় উত্তরকাশীর একাধিক গ্রাম। ক্ষীরনদীর স্রোতে প্রাণ হারান অন্তত ৫ জন, নিখোঁজ ৬০-এর বেশি, তছনছ হয়ে যায় শতাব্দী প্রাচীন এক মন্দির, বহু ঘরবাড়ি এবং পর্যটন পরিকাঠামো। বিপর্যয়ের শোক কাটেনি, বুধবারও অবিশ্রান্ত বর্ষণ অব্যাহত হিমাচলের বহু এলাকায়। কিন্নর অঞ্চলের পরিস্থিতি ভয়াবহ। কাণ্ডস্থলে জেলা প্রশাসন এবং ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত রক্ষা বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকাজ ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার জন্য ৪টি হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেগুলিকে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সেনার এক উচ্চপদস্থ কর্তা। কিন্নর জেলার ডিসি ডঃ অমিত কুমার শর্মা জানিয়েছেন, ‘পূর্ববানী রুট দিয়ে আটকে পড়া তীর্থযাত্রীদের উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে।’ তাংলিপ্পি ও কাঙ্গরাং ঝোরা পারের সেতুগুলি ইতিমধ্যেই ভেসে গিয়েছে বলে খবর।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় আগামী ১২ ঘণ্টায় অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। চাম্বা, কাংগ্রা, হামিরপুর, লাহৌল-স্পীতি, মাণ্ডি, এ সমস্ত জেলায় জারি করা হয়েছে ‘লাল সতর্কতা’। আগামী দিনের ৩ জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে সিমলা, সোলান, বিলাসপুর, উনা, কাংগ্রায়। চলমান বিপর্যয়ে মাণ্ডি জেলা সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৯৫টির বেশি রাস্তা ইতিমধ্যেই বন্ধ। রেকর্ড করা হয়েছে ১৭৯ মিমি-রও বেশি বৃষ্টি। বন্ধ রয়েছে মাণ্ডি-ধরমপুর রাস্তা এবং অট-সেইঞ্জ রাস্তা। উদ্ধারকাজে মোতায়েন করা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী । যুক্ত রয়েছে ভারতীয় সেনা ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। হরসিল অঞ্চলের সেনা ক্যাম্প থেকে ৮-১০ জন জওয়ান এখনো নিখোঁজ।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে, বর্ষা শুরুর পর থেকে হিমাচল প্রদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খতিয়ান আশঙ্কাজনক। রাজ্য সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনো পর্যন্ত রাজ্যে ক্ষতির পরিমাণ ১,৮৫২ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১০০-রও বেশি মানুষের। নিখোঁজ ৩৬ জন। ক্ষতিগ্রস্ত ১,৭০০-রও বেশি ঘরবাড়ি। বিদ্যুৎ পরিষেবা বিঘ্নিত। প্রায় ৩৬০টি ট্রান্সফর্মার জলের তলায়, ব্যাহত ২৫৭টি জল সরবরাহ প্রকল্পও। ৭টি রাজ্য সড়ক, ৫টি জাতীয় সড়ক, ২টি সীমান্ত সড়ক-সহ রাজ্যে মোট ১৬৩টি রাস্তা ধসের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যসচিব আরকে সুধাংশু জানিয়েছেন, দুর্যোগে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে খোঁজখবর নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন তিনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র থেকে সব রকম সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রশ্ন উঠছে, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়ে পাহাড়ি রাজ্যগুলোর পরিকাঠামো কতটা প্রস্তুত? প্রতিবছর ধ্বংসের মুখোমুখি কেন হচ্ছে ভারতের পাহাড়-পর্বতবেষ্টিত রাজ্যগুলি? পাহাড়ের বুক চিরে রাস্তা, বহুতল নির্মাণ কি বিপদকে আরো বাড়িয়ে তুলছে?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!