- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১৬, ২০২৬
মাতৃশক্তি কার্ড বিলি করে বিতর্কে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী
কালনায় বিজেপির হস্তচালিত তাঁতশিল্পী ও শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সম্মেলন উদ্বোধন করতে এসে মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড বিলি করে বিতর্কে জড়ালেন দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এছাড়াও এক তাঁতি বউয়ের পাশে বসে নির্মলার তাঁত বোনার চেষ্টা করে তৃণমূলের কটাক্ষের শিকার হন তিনি।
কালনার শ্রীরামপুর আশ্রমপাড়ায় আয়োজিত বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ হ্যান্ডলুম ও উইভার সেলের রাজ্য সম্মেলনে এসে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা এলাকার তাঁতি পরিবারের বধূ শ্যামলী মণ্ডল, সবিতা মণ্ডল-সহ ১৫ জনকে বিজেপির মাতৃশক্তি কার্ড বিলি করেন। কার্ড পেয়ে ওই বধূরা বললেন, ‘বিজেপি জিতলে এই কার্ডের সুবাদে মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাব।’ মঞ্চে ছিলেন কালনার পদ্মপ্রার্থী সিদ্ধার্থ মজুমদার, বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি স্মৃতিকণা বসুরা। এই কার্ড বিলিকে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে দাবি তৃণমূলের। দলের প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বললেন, ‘মহিলাদের ভোট টানতে ভোটবিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাসে তিন হাজারি টোপ দেওয়া শুরু করেছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিক।’
এলাকার তাঁতিদের মন জয় করতে তাদের বাড়ি যান নির্মলা। সবিতা গাইন নামে এক বধূকে তাঁত বুনতে দেখে তার পাশে বসে খানিকক্ষণ তাঁতযন্ত্র, টানাপড়েনের কাজ দেখেন। তাঁতযন্ত্রের সুতো নাড়াচাড়া করেন। ‘দিল্লি থেকে মন্ত্রী এসে পাশে বসে তাঁত বোনা শেখা’য় খুশি সবিতা অবশ্য বলেন, ‘আমার তাঁত বোনার রোজগার আর কতটুকু। সেই টাকায় কি সংসার চলে? সেই কষ্ট কীভাবে ঘুচবে, তা বললেন না উনি।’
শুধু সবিতাই নয়, নির্মলার বক্তব্যে রাজ্য সরকারের কঠোর সমালোচনা ছাড়া রাজ্যের কয়েকলক্ষ তাঁতির জীবনের মানোন্নয়নে তেমন কোনও দিশা না থাকায় হতাশ সভায় যোগ দেওয়া বহু তাঁতি। তাঁত বুনে দিন গুজরান করা কয়েকজন বিজেপি কর্মী নাম না প্রকাশের শর্তে বললেন, ‘নির্মলাজিতো ভুলেই গেলেন তিনি তাঁত সম্মেলনে এসেছেন। তাঁতিদের সুরক্ষায় কেন্দ্র কী ভাবছে, কী পরিকল্পনা, তার রূপায়ণ কীভাবে হবে, সেসব না বলে ভোট প্রচার করে গেলেন।’ নির্মলার তাঁত বিষয়ক বক্তব্যজুড়ে ছিল পাওয়ারলুমের দাপটে হস্তচালিত তাঁতশিল্পীদের দুর্দশার কথা, বাংলায় বাংলাদেশের শাড়ির বাজার দখলের কথা, শাড়ি বোনা ছেড়ে বহু তাঁতির লুঙ্গি, গামছা বোনার কথা, তাঁত পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের তাঁত বোনার প্রতি অনীহার কথা, রোজগার নেই বলে তাঁত বোনা ছেড়ে বহু তাঁতির অন্য পেশায় চলে যাওয়ার কথা। কেন্দ্র সরকারের তাঁতিদের পাশে থাকার নানা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করলেও ‘বাংলার তাঁতিদের সেসব প্রকল্পের সুবিধা কীভাবে মিলবে তা নির্মলা উল্লেখ না করা’য় হতাশা ছড়িয়েছে এলাকার তাঁত বুনে দিন গুজরান করা পরিবারগুলিতে।
অবশ্য বিজেপি জিতলে তাঁতবস্ত্র রপ্তানি ও রাজ্যের জেলায় জেলায় মল তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন নির্মলা। বলেন, ‘সেখানে তাঁতিরা সরাসরি তাঁদের উৎপাদিত বস্ত্রসামগ্রী বিক্রি করতে পারবেন।’ ‘ভোটের সময় কেন একথা মনে পড়ল’ জানতে চাইলেন তন্তুজর চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। জানালেন, ‘মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাম জমানায় ধুঁকতে থাকা তাঁতশিল্পে জোয়ার এসেছে। তাঁতসাথী প্রকল্প চালু হয়েছে। কালনা মহকুমার ধাত্রীগ্রাম ও শ্রীরামপুরে তাঁত কাপড়ের হাট চালু হয়েছে। সেখানে বছরভর তাঁতিরা তাঁদের উৎপাদিত বস্ত্র সামগ্রী বিক্রি করেন। সুতো-সহ তাঁত বোনার উপকরণ সংগ্রহ করেন।’ আরও বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের আকর্ষণ বাড়াতে আধুনিক ডিজাইনের শাড়ি বানানোর জন্য রাজ্য সরকারের মদতে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ শিবির হচ্ছে। তাঁতিদের উৎপাদিত বস্ত্রসম্ভার দেশ-বিদেশের বিশ্ববাংলার শোরুমে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রাজ্য তাঁতিদের তাঁতযন্ত্র দেয়।’ যোগ করেন, ‘তন্তুজ প্রতি বছর উৎসবের মরশুমে তাঁতিদের কাছ থেকে সরাসরি কোটি কোটি টাকার শাড়ি কেনে।’ কেন্দ্রের বস্ত্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন স্বপনবাবু। বলেন, ‘সুতো, রং-সহ তাঁত বোনার যাবতীয় সরঞ্জামের দর বাড়ছে। আর কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিজেপির মিথ্যাচার বাংলা জানে।’
❤ Support Us






