- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১৬, ২০২৬
ভোটে নজরদারিতে কমিশনের কড়াকড়ি, ইভিএম , ওয়েবক্যাম-এ কারসাজি করলে রিপোল
ইভিএমে নির্দিষ্ট দলকে ভোট দিলে তা জেনে নেওয়া যাবে—এমন ভয় দেখানো বা বুথে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ বাংলার নির্বাচনে নতুন নয়। কখনও অভিযোগ উঠেছে, ক্যামেরা অচল করতে ওয়েবক্যামের উপর চুইংগাম আটকে দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের অনিয়ম রুখতেই এবার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের সময় কোনও বুথে এই ধরনের অভিযোগ উঠলেই সেখানে পুনর্নির্বাচন বা রিপোল করা হবে। এমনকি টানা আধঘণ্টা ওয়েবকাস্টিং বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট বুথে রিপোলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়ানোর দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লোডশেডিং বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যাতে ওয়েবকাস্টিং ব্যাহত না হয়, তার জন্য অতিরিক্ত জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা), কলকাতার পুলিশ কমিশনার, বিদ্যুৎ সচিব এবং বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভোটের আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। ঝড়-বৃষ্টি বা অন্য কোনও কারণে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হলে দ্রুত মেরামতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় প্রতিটি বুথে একটি করে জেনারেটর রাখা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি সেক্টর অফিসেও জেনারেটর মজুত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে তা দ্রুত ব্যবহার করা যায়।
নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা মাথায় রেখে কমিশন রাজ্যের ৬৪২টি এলাকাকে ‘শ্যাডো জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো পাহাড়ি এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাই টেলিকম সংস্থাগুলিকে ওই এলাকাগুলিতে পরিষেবা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ওয়েবকাস্টিং এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ না হয়।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের সাত দিন আগে থেকেই বুথে ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু করতে হবে এবং ভোটের দু’দিন আগে থেকেই ওয়েবকাস্টিং চালু করতে হবে।
প্রথম দফার নির্বাচনে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হচ্ছে মোট ২,৪০৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদে সবচেয়ে বেশি, ৩১৬ কোম্পানি বাহিনী থাকবে। এছাড়া মালদায় ১৭২, কোচবিহারে ১৪৬, উত্তর দিনাজপুরে ১৩২ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে। পূর্ব মেদিনীপুরে ২৭৩, পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৭২, বীরভূমে ১৭৬ এবং বাঁকুড়ায় ১৯৩ কোম্পানি বাহিনী থাকবে।
প্রতিটি বুথেই সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি একজন লাঠিধারী পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকবে, যাতে ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।
❤ Support Us





