Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ১৮, ২০২৬

জঙ্গলমহলে মূলনিবাসী ভোটে নজর, রবিবার একদিনে চার সভা প্রধানমন্ত্রী মোদির। তৃণমূলের হয়ে প্রচারে হেমন্ত সোরেন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জঙ্গলমহলে মূলনিবাসী ভোটে নজর, রবিবার একদিনে চার সভা প্রধানমন্ত্রী মোদির। তৃণমূলের হয়ে প্রচারে হেমন্ত সোরেন

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার এই মুহূর্তে তুঙ্গে। সমস্ত রাজনৈতিক দল নিজেদের সবটুকু উজার করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে নিজেদের দিকে আমজনতার আস্থা টানতে। গেরুয়া শিবিরের প্রচারে, প্রথম থেকেই বারবার বাংলায় আসছেন মোদি-শাহ-যোগীর মতো শীর্ষ নেতারা। জনসভা-মিছিল-মিটিং সবই চলছে পুরদমে। ধারবাহিকতা রেখে আবারও বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবারে মোদির লক্ষ্য জঙ্গলমহল অঞ্চলের মূলনিবাসী মানুষের ভোটব্যাঙ্ক।

আগামী রবিবার, রাঢ়বঙ্গ জুড়ে একাধিক জনসভা করবেন তিনি। একই দিনে ৪টি সভা করার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সূত্রের খবর, শনিবার রাতে অন্ডাল বিমানবন্দরে পৌঁছে দুর্গাপুরে রাত্রিযাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার সকাল থেকেই শুরু হবে তাঁর ব্যস্ত কর্মসূচি। প্রথম সভা বাঁকুড়ার বড়জোড়ায়, সকাল ১১টা নাগাদ। সেখান থেকে তিনি যাবেন পুরুলিয়ার বলরামপুর বিধানসভায়, যেখানে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে দ্বিতীয় সভা করার কথা রয়েছে। দিনের তৃতীয় সভা হবে ঝাড়গ্রামে, দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে। এরপর মেদিনীপুরে চতুর্থ তথা শেষ জনসভা করবেন তিনি।

এতেই শেষ নয়, ২৩ এপ্রিলও বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। ওইদিন হাওড়ার বেলুড়মঠে যাওয়ার পাশাপাশি শালকিয়া পর্যন্ত একটি রোড শো করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই দিনে নদিয়ার কৃষ্ণনগরেও জনসভা করার কথা রয়েছে। প্রথম দফার ভোটের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ আবহে বারবার বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। একদিনে ৩ থেকে ৪টি সভা করে কার্যত নজির গড়ছেন তিনি।

অন্যদিকে, প্রচারে নতুন কৌশল নিতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেন-কে সামনে রেখে পশ্চিমাঞ্চলের মূলনিবাসী অধ্যুষিত জেলাগুলিতে প্রচার জোরদার করতে চাইছে শাসকদল। শনিবার থেকেই তাঁদের প্রচার কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনই বাঁকুড়া থেকে প্রচার শুরু করতে পারেন হেমন্তরা। এরপর তাঁরা যাবেন পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার শীর্ষ নেতৃত্ব তৃণমূলের সমর্থনে আদিবাসী এলাকাগুলিতে ভোটের আবেদন জানাবেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জঙ্গলমহল অঞ্চলের মূলবাসীদের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক যোগসূত্র দীর্ঘদিনের। সে কারণেই ভারতীয় জনতা পার্টি-র বিরুদ্ধে প্রচারে বাড়তি প্রভাব ফেলতে হেমন্ত সোরেনকে ব্যবহার করতে চাইছে তৃণমূল। উল্লেখ্য, গত কয়েকটি নির্বাচনে পশ্চিমাঞ্চলে তৃণমূল প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। যদিও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খেলেও, ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে দল। বিশেষ করে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং মেদিনীপুর আসন বিজেপির কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয় তারা।

তৃণমূলের অন্দরেই এ কথা স্বীকার করা হচ্ছে যে, পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে। যে কারণে এ বার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। কোথাও জয়ী বিধায়ককে সরানো হয়েছে, কোথাও বিদায়ী বিধায়ক টিকিট পাননি। এমনকি রাজ্যের মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার ক্ষেত্রেও আসন পরিবর্তন করা হয়েছে— ঝাড়গ্রাম থেকে তাঁকে পাঠানো হয়েছে বিনপুরে।রাজনৈতিক মহলের মতে, হেমন্ত সোরেনকে সামনে এনে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি বিজেপিবিরোধী প্রচারে নতুন গতি আনাই তৃণমূলের লক্ষ্য।

উল্লেখযোগ্যভাবে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে হেমন্ত সোরেনের সুসম্পর্ক আগে থেকেই পরিচিত। গত জানুয়ারিতে বীরভূম সফরের সময় হেলিকপ্টার ব্যবহারে অনুমতি না পেয়ে অভিষেক হেমন্তের সহায়তায় সেখানে পৌঁছেছিলেন। এবার সেই সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবেই হেমন্ত সোরেন নিজেই তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নামছেন পশ্চিমবঙ্গে। সব মিলিয়ে, ‘সোনার বাংলা’ গড়ার বার্তা সামনে রেখে জঙ্গলমহলের মূলনিবাসী ভোট নিজেদের দিকে টানার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি-তৃণমূল দুই দলই।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!