- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১৮, ২০২৬
সংসদে বিরোধীদের ঐক্যে আটকে গেল মহিলা সংরক্ষণ বিল। ‘ইন্ডিয়া’ শরীকদের ‘নারীবিদ্বেষী’ তকমা বিজেপির। গণতন্ত্রের জয়, মন্তব্য কংগ্রেসের
সংখ্যার হিসেবে এগিয়েও শেষরক্ষা হলো না। লোকসভায় আসন বৃদ্ধি ও নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে আনা সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল পাস করাতে ব্যর্থ হলো নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। শুক্রবার বিকেলের ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৯৮ এবং বিপক্ষে ২৩০ ভোট পড়ে। মোট ৫২৮ জন সাংসদের অংশগ্রহণে সংখ্যাগরিষ্ঠতা মিললেও, সংবিধান সংশোধনের জন্য আবশ্যিক দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের সীমা অর্থাৎ ৩৫২ ছোঁয়া গেল না। ফলে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল মোদি সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা।
লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করতে কেন্দ্রের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পরই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানাচ্ছে, শুক্রবার রাতে ফোনে দুই নেতার কথা হয়েছে। তৃণমূলের ওই সূত্রের খবর, আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণের বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাহুল গান্ধি। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট শুরুর এক সপ্তাহ আগে দুই শীর্ষ নেতার এই কথোপকথন যথেষ্ট ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। প্রসঙ্গত, গত সোমবার বিধানসভা ভোটের প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তার প্রতিবাদে বুধবার লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশের কেন্দ্রীয় উদ্যোগের মোকাবিলায় ডাকা বিরোধী জোটের বৈঠকে গরহাজির ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তার পর তৃণমূলের এই বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া ও রাহুলের অভিষেককে ফোন করে বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান বঙ্গ রাজনীতিতে ভোটের মুখে নতুন রসায়ন সৃষ্টি করল। আর রাহুলের অভিষককে ফোন করার পরেই পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার আবেগ সংবরণ করতে না পেরে বলে ফেলেছেন, ‘প্রয়োজনে কংগ্রেস তৃণমূলকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।’ এর ফলে কংগ্রেসের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরী হবে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।
সংবিধান সংশোধন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ৫৪ টি ভোট বিজেপির কম রয়েছে। কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে ছেড়ে দিলেও এনডিএর বাইরে যেসব দল তাদের ভাঙিয়ে নিলেও যে ৩৫২ সংখ্যায় পৌঁছানো অসম্ভব এবং অলীক কল্পনা, তা নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ অবশ্যই জানতেন, তাঁরা এতটা রাজনৈতিক ভাবে অযোগ্য নয় যে তাঁরা এটা জানতেন না, বা বোঝেননি, তাই এসব অলীক কল্পনা করা অর্থহীন। তাহলেও কেন এই ভোটের বাজারে বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মহিলা সংরক্ষণ বিল সংসদে পেশ করলো কেন এন ডি এ ? দশকের পর দশক ধরে ঝুলে থাকা সংসদে মহিলা সংরক্ষণের মতো স্পর্শ কাতর প্রসঙ্গ বিধানসভা ভোটের আবহে তড়িঘড়ি সামনে নিয়ে আসার নেপথ্যে বিজেপির সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ভাবনা ছিল। ভোটাভুটিতে সংরক্ষণের পক্ষে বিপক্ষের বিভাজনের ছবিটা স্পষ্ট তুলে ধরাই ছিল বিজেপির মূল উদ্দেশ্য। বিজেপি প্রমাণ করতে চেয়েছে দেশের বিজেপি বিরোধীরা মহিলা সংরক্ষণ বিরোধী অর্থাৎ নারী স্বাধীনতা বিরোধী, নারীবিদ্বেষী। এই ভাবনাকে সম্বল করেই তামিলনাড়ু এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারের আর যে কটা দিন বাকি আছে, সেই কটা দিন রাজনৈতিক ময়দানে নির্ঘাত ঝাঁপাবে মোদি-শাহের দল। তাই বলা যায়, এই বিলের পরিণতির কথা অবশ্যই জানতো বিজেপি এবং মোদি-শাহ। সবটা জেনেবুঝেই একটা গাণিতিক ঝুঁকি নিয়েছিল কেন্দ্রের শাসক জোট। এখন প্রশ্ন তাহলে বিরোধীরা নারীবিদ্বেষী এই ন্যারেটিভ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কি দাগ ফেলতে পারবে বিজেপি? পারবে কি রাজ্যের মহিলা ভোট ব্যাঙ্ককে তুষ্ট করতে?
উত্তরটা খুব সহজেই এক কথায় বলা যায় না। কারণ, তৃণমূলের হাতে ইতিমধ্যে রয়েছে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো সফল ও জনপ্রিয় প্রকল্প। রাজ্যের বহু মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা আর্থিক ভাবে পাচ্ছেন। কাজেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মহিলাদের জন্য নির্ধারিত ও রূপায়িত প্রকল্পকে টপকে মহিলাদের মন জয় করে তৃণমূলকে মোকাবিলা করা বিজেপির পক্ষে অবশ্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ। তা ছাড়া নারী শক্তিকে আর্থিক অনুদান দিয়ে পক্ষে আনতে গিয়ে বিজেপি বস্তুত মমতার পথই অনুসরণ করেছে, অনুদানের প্রতিশ্রুত দিতে গিয়ে টাকার অঙ্ক বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনও উপায় খুঁজে পায়নি। একদিকে মমতার মহিলাদের জন্য প্রদেয় অনুদানকে ভিক্ষা বলে তাচ্ছিল্ল করে আবার সেই অনুদানের পথেই বিজেপি হেঁটেছে। তাই আর্থিক অনুদানের এই পরিচিত প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে মহিলা সংরক্ষণকে নির্বাচনী প্রচারে ইস্যু করতেই ভোটের মরশুমে সংসদে বিশেষ অধিবেশনে বিল আনার এমন তৎপরতা গেরুয়া শিবির দেখিয়েছে। তবে বিজেপির এই আশা পূর্ণ হবে বলে মনে হয় না। পশ্চিমবঙ্গে শহুরে সুবিধাভোগী সমাজের বাইরে সংসদীয় স্তরে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারবে বলে মনে করা ঠিক নয়। কেননা লক্ষীর ভাণ্ডারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে সুবিধাভোগী আছে তাদের কাছে সংসদীয় সংরক্ষণ ব্যবস্থা দুর্বোধ্য শব্দ ছাড়া কিছু নয়।
তবে সংসদে মোদি সরকারের আনা বিল আটকে দিয়ে ইন্ডিয়া জোটের আত্মবিজয় আছে বলে অটুট বলে পরস্পর পিঠ চাপড়াবে। বাস্তবে হয়েছে সেটাই। সংসদের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ঝটিকা প্রচারে এসে বিজেপির সঙ্গে এক বন্ধনীতে ফেলে তৃণমূলকেও একহাত নিয়েছেন। তবে সংসদে মহিলা সরক্ষণ বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য রাহুল গান্ধিই তৃণমূলের সংসদীয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে, বিল রুখতে তাঁর দলীয় সাংসদদের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। রাহুল গান্ধির বার্তা নিমেষে সমাজ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে তৃণমূলের মাধ্যমে। এমনিতে রাহুলকে গুরুত্ব দেননা অভিষেক। তবে রাহুলকে গুরুত্ব না দেওয়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের তরফে রাহুলের অভিষেককে ফোন করার বার্তা প্রচারের বহর দেখে বোঝা যাচ্ছে এই সুযোগে কেন্দ্রীয় স্তরে নিজেদের গুরুত্ব জাহির করতে তৃণমূলের সেনাপতি কতটা আগ্রহী।
এদিকে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এই ভরা ভোটের বাজারে সংসদে তড়িঘড়ি মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বিষয়ক বিলটি অধিবেশনে উত্থাপন করা যে বিজেপির পরিকল্পিত গাণিতিক উদ্যোগ তা নিয়ে কোনো সংশয় কারোর থাকার কথা নয়। তবে এখন দেখার পশ্চিমবঙ্গের ভোটে সংসদের মধ্যেকার হিসেবনিকেশ কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের আদৌ নারীবিদ্বেষী প্রমাণ করে বিজেপি বঙ্গজয়ে সফল হয় কি না। যদিও এর জন্য ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই বিল নিয়ে বিরোধীরা কি করতে যাচ্ছে সেই ‘মুড’ আঁচ করে ভোটাভুটির আগে সরকারপক্ষের শেষ বক্তা অমিত শাহ সরাসরি বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সে সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির যুক্তি দিয়ে সাংসদ সংখ্যা বাড়ানোর জন্য জোরদার সওয়ালও করেছেন । অমিত শাহ বলেন, ‘এমন লোকসভা আসন আছে, যেখানে ভোটারের সংখ্যা ৪৮ লক্ষ। কী ভাবে সেখানকার সাংসদ ভোটদাতাদের প্রত্যাশা পূরণ করবেন?’ বিরোধীদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের উপর ভরসা রাখুন। বিল পাশ করতে দিন।’
কিন্তু শাহের আবেদন সত্ত্বেও সরকারপক্ষের রাজনৈতিক কৌশল আঁচ করে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদরা। ধৈর্যচ্যুত শাহ একসময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধিকে আক্রমণ করতে গিয়ে কংগ্রেসের বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘রাহুল গান্ধির উচিত সংসদে কী ভাবে কথা বলতে হয়, তা তাঁর বোন প্রিয়ঙ্কার থেকে শেখা।’ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে ৩ টি বিল পাশ করাতে সক্রিয় ছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের পেশ করা তিনটি বিলের প্রথমটি— লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল ( পোশাকি নাম, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার বিষয়টি এরই অন্তর্গত), দ্বিতীয়টি— লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত বিল। তৃতীয়টি— কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসনবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে)।
প্রথম বিলটি পাশ না হওয়ায়, পরের ২ টি নিয়ে ভোটাভুটির পথে হাঁটেনি কেন্দ্র। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিলকে শিখণ্ডী করে আসলে লোকসভার আসন বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি। লোকসভায় ২ দিনের বিতর্কে প্রিয়ঙ্কা গান্ধি, অখিলেশ যাদবরা অভিযোগ তুলেছিলেন, জনগণনার আগেই সুবিধামতো আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির প্রভাব খর্ব করে উত্তর ভারতে আসনের অনুপাত বাড়িয়ে নেওয়াই মোদি সরকারের উদ্দেশ্য, যেখানে বিজেপির প্রভাব অনেক বেশি। অভিযোগ, সে কারণেই সংবিধান সংশোধনী বিলে লোকসভার আসন বৃদ্ধির সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, জনগণনার আগে এই সংরক্ষণ কার্যকর হলে অনগ্রসর গোষ্ঠীর (ওবিসি) মহিলার বঞ্চিত হবেন।
শুক্রবার বক্তৃতাপর্বে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি হুঁশিয়ারি দেন যে, সমস্ত বিরোধী দল একজোট হয়ে সরকারের এই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করবে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের ( পড়ুন বিজেপি) ক্ষমতা কমে আসছে। সেই জন্য দেশের ভোট মানচিত্র বদলের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। যেমন অসমে করেছেন। কিন্তু আমরা আপনাদের এই চেষ্টা সফল হতে দেব না। সব বিরোধী দল আপনাদের হারাবেই। আমরা ওবিসিদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে দেব না। আপনারা ওবিসি এবং দলিতদের হিন্দু বলেন। কিন্তু দেশে ওঁদের কোনও অধিকার দেন না। সত্যি কথা আপনাদের খুব খারাপ লাগে।’ অন্য দিকে, ভোটাভুটি শুরুর আগেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে লোকসভার সমস্ত সদস্যের উদ্দেশে ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ করার জন্য আবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন, ‘দেশের নারীশক্তির সেবা করার ক্ষেত্রে এটি বড় সুযোগ। তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না!’ তাঁর আবেদন ছিল, ‘চার দশক ধরে নারী সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে প্রচুর রাজনীতি হয়েছে। এখন সময় এসেছে, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে অবশ্যই তাদের অধিকার দিতে হবে।’ তবে তার কিছুক্ষণ পরেই ভোটের ফল বলে দেয়, নরেন্দ্র মোদির আবেদনে সাড়া দিল না লোকসভা।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল (১০৬ নম্বর সংবিধান সংশোধন বিল) পাশ হয়েছিল লোকসভা এবং রাজ্যসভায়। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের ওই বিলে বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তার পর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু মোদি সরকার জনগণনা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দু’টি পৃথক বিষয়কে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় যে চেষ্টা করেছিল, তা শুক্রবার ব্যর্থ হয়েছে লোকসভায়। ঘটনাচক্রে, লোকসভায় সংশোধনী নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে মহিলাদের আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত পুরনো আইন কার্যকর করে দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক এই আইন কার্যকরের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকেই কার্যকর হয়ে যাচ্ছে ১০৬তম সংবিধান সংশোধনী আইন।
মহিলা সংরক্ষণ, লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল শুক্রবার লোকসভায় ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট। বিপক্ষে ২৩০টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে যোগ দেন। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিল পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। তা পেতে ব্যর্থ হয় মোদি সরকার। কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম-সহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র দলগুলি বিলের বিরোধিতায় ভোট দেয়। শুক্রবার লোকসভায় বিতর্ক পর্বে জনগণনার আগেই তড়িঘড়ি বিল পাশের উদ্যোগ নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন রাহুল গান্ধি। তাঁর অভিযোগ ছিল, বর্তমান খসড়া কার্যকর হলে অনগ্রসর (ওবিসি) মহিলারা বঞ্চিত হবেন। শেষ পর্যন্ত সংসদে রাহুলের জয় হল। এখন দেখার মোদি বিরোধীদের নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে বাঁধা হিসেবে তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ফায়দা তুলতে পারেন কি না।
❤ Support Us






