- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১৮, ২০২৬
‘অধীর আমার গুরু, আমিই বিশ্বাঘাতকতা করেছি’ : ভোটের প্রাকমুহূর্তে বেসুরো সাগরদীঘির তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস
ভোটের ঠিক আগে হঠাৎ সুর বদল তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস-এর। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী-কে নিজের ‘গুরুদেব’ বলে উল্লেখ করে প্রকাশ্যে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র স্বীকারোক্তি করলেন তিনি। তাঁর এহেন মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে মুর্শিদাবাদে।
২০২৩ সালের সাগরদিঘি উপনির্বাচনে বাম-সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বাইরন। নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীকে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। তবে জয়ের পরই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে সাগরদিঘি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল তাঁকেই প্রার্থী করেছে। আগামী ২৩ এপ্রিল ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। ভোটের আগে বাইরনের এ মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন তিনি বলেছেন, ‘সারা দেশ জানে, অধীর চৌধুরীর হাত ধরেই আমি রাজনীতিতে এসেছি। মহম্মদ সেলিম-এর হাত ধরে প্রার্থী হয়েছিলাম। সত্যিটা তো বলতেই হবে। শুধু কংগ্রেস বা সিপিএমের ভোটে আমি জিতিনি, বিজেপি ও তৃণমূলের ভোটও পেয়েছি।’
এমনকি নিজের আচরণকে ‘স্বার্থপরতা’ বলে মেনে নিয়ে বাইরন বলেন, ‘আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, তা অস্বীকার করব না। কংগ্রেস থেকে টিকিট পেয়েছিলাম। অধীর চৌধুরী আমার রাজনৈতিক জীবনের গুরুদেব। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তাঁকে মনে রাখব। আমার কাছে ভগবানের পরেই তাঁর স্থান।’ এরপর। সাগরদিঘির ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘যদি মনে করেন অন্য কোনো প্রার্থী আপনাদের বেশি পরিষেবা দিতে পারবেন, তাঁকেই ভোট দিন। যদি মনে হয় অন্য কেউ সবসময় পাশে থাকবে, তবে আমাকে জেতানোর দরকার নেই।’
অন্যদিকে, ‘শিষ্য’-এর স্বগতোক্তি শুনে বহরমপুর কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিশ্বাসঘাতকতা স্বীকার করেছেন, ভালো কথা। বিশ্বাসঘাতক মানুষের যা করার কথা, আশা করি মানুষ সেটাই করবেন।’ রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, ভোটের আগে হঠাৎ অধীর-স্তুতি কি কংগ্রেসের ভোট টানার কৌশল? নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক বার্তা?
❤ Support Us






