- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৭, ২০২৬
প্রশ্নফাঁস, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিকের জামিন খারিজ আদালতে
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেওয়া শুধু একটি অনিয়ম নয়, এটি লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়। এই কারণেই প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধকে খুনের থেকেও ভয়ঙ্কর বলে মন্তব্য করেছে ছত্তীসগঢ় হাই কোর্ট। প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক জীবনকিশোর ধ্রুবের জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত জানিয়েছে, এই ধরনের অপরাধকে কোনওভাবেই সাধারণ অপরাধ হিসেবে দেখা যায় না।
বর্তমানে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিতর্ক চলছে। নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের তদন্ত করছে সিবিআই। এই মামলায় ইতিমধ্যেই চার্জশিট জমা পড়েছে। অন্যদিকে, ছত্তীসগঢ় ও ঝাড়খণ্ডেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে প্রতিবাদ চলছে। এর মধ্যেই ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ছত্তীসগঢ় পাবলিক সার্ভিস কমিশন (সিজিপিএসসি)-এর ২০২০ থেকে ২০২২ সালের পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগ, ওই সময় সিজিপিএসসি পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল। এই ঘটনায় তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিবিআই ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন সিজিপিএসসি সচিব জীবনকিশোর ধ্রুবকে গ্রেফতার করে। তিনি বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২১ সালের পিএসসি মেনস পরীক্ষার আগে জীবনকিশোর ধ্রুব তাঁর ছেলের হাতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তুলে দিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর ছেলে পরীক্ষায় সফল হয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক পদে নিযুক্ত হন বলে অভিযোগ। সিবিআই আদালতে দাবি করেছে, পরীক্ষায় আসা চারটি প্রশ্ন তাঁর ছেলে বাড়িতে বসে আগে থেকেই অনুশীলন করেছিলেন। এছাড়াও, বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জীবনকিশোর ধ্রুব। তাঁর দাবি, তিনি ওই সময়ে পিএসসির সচিব ছিলেন বলেই তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এই যুক্তিতেই তিনি ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন।
বিচারপতি বিভু দত্ত গুরু এই মামলার শুনানি শেষে ৩১ জুলাই রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন। বুধবার আদালত রায় ঘোষণা করে এবং অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করলে লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর পরিশ্রম, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিচারপতিদের মতে, একজন ব্যক্তিকে হত্যা করলে তার প্রভাব মূলত একটি পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে সমাজের উপর। এতে বহু যোগ্য প্রার্থী সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন এবং তাঁদের কেরিয়ার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
এই কারণেই প্রশ্নফাঁসকে ‘খুনের চেয়েও ভয়ঙ্কর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ছত্তীসগঢ় হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা বিষয়গুলিকে সাধারণ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
❤ Support Us







