Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৭, ২০২৬

সীমান্ত সুরক্ষায় ১.৪৪ বর্গমাইল জমি দান ! মায়ানমারের সঙ্গে ভূমি-বিনিময়ের ভাবনা কেন্দ্র সরকারের ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সীমান্ত সুরক্ষায় ১.৪৪ বর্গমাইল জমি দান ! মায়ানমারের সঙ্গে ভূমি-বিনিময়ের ভাবনা কেন্দ্র সরকারের ?

ভারত-মায়ানমার সীমান্তে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমারেখা নির্ধারণের জট কাটাতে কি জমি অদলবদলের পথে হাঁটতে চলেছে নয়াদিল্লি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনের পর এ প্রশ্ন ঘিরে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কেন্দ্র সরকার এখনো পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা না করলেওবিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সীমান্তের কিছু অমীমাংসিত অংশ নিয়ে দুদেশের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। আর সে আলোচনার অন্যতম সম্ভাব্য সমাধান হিসেবেই উঠে এসেছে প্রায় ১.৪৪ বর্গমাইল বা ৩.৭২ বর্গকিলোমিটার জমি অদলবদলের প্রস্তাব।

গত ৫ গস্ট নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেনদুদেশের সীমান্তে কয়েকটি অংশ এখনো চূড়ান্ত ভাবে নির্ধারিত হয়নি। সেসব অঞ্চল নিয়ে ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে আলোচনা চলছে। তিনি জমি বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনা চলছে বলে নিশ্চিত করেন। ফলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য ভূমি বিনিময়ের খবরকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সূত্রের দাবিআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মণিপুরের চান্দেল জেলার মোলচাম সেক্টরযেখানে ৬৫ থেকে ৬৮ নম্বর সীমান্তস্তম্ভের মধ্যবর্তী অংশ এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি। প্রায় ২.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই অংশে সীমান্ত চিহ্নিতকরণ সম্পূর্ণ না হওয়ায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজও থমকে রয়েছে। অচলাবস্থা কাটাতেই প্রায় ১.৪৪ বর্গমাইল এলাকা অদলবদলের  অভ্যন্তরীণ প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত অরুণাচল প্রদেশনাগাল্যান্ডমণিপুর এবং মিজ়োরামের মধ্যে দিয়ে বিস্তৃত। এর মধ্যে অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে ৫২০ কিলোমিটারমিজোরামের সঙ্গে ৫১০ কিলোমিটারমণিপুরের সঙ্গে ৩৯৮ কিলোমিটার এবং নাগাল্যান্ডের সঙ্গে ২১৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ওই সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি ভারত। কারণসীমান্তের দুপাশে একই জনজাতির মানুষের বসবাস এবং তাঁদের ঐতিহাসিক যাতায়াত ছিল স্বাভাবিক সামাজিক বাস্তবতা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। মাদক পাচারঅস্ত্র চোরাচালানজঙ্গি সংগঠনের সীমান্তপারের যাতায়াত এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বাড়তে থাকায় কেন্দ্রের উদ্বেগও বৃদ্ধি পায়। ২০০৩ সালে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু হলেও, নানা জটিলতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন গতি পায়নি। ২০২৩ সালের পর সে কাজে গতি আনার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র সরকার। বর্তমানে অসম রাইফেলসের তত্ত্বাবধানে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা  টহলপথ তৈরির কাজও চলছে

২০২১ সালে মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গণতান্ত্রিক সরকারের পতনের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ভারতের সীমান্তঘেঁষা কাচিনসাগাইং এবং চিন প্রদেশের বিস্তীর্ণ অংশ বর্তমানে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। ফলে সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। উদ্বাস্তুদের ঢলসীমান্তপারের জঙ্গি তৎপরতামাদক এবং অস্ত্র চোরাচালান— সব মিলিয়ে ভারত-মায়ানমার সীমান্ত আজ দেশের অন্যতম স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক সীমান্তে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ২০২৪ সালে ভারত-মায়ানমার সীমান্তে চালু থাকা ফ্রি মুভমেন্ট রেজিম (এফএমআর) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এতদিন সীমান্তবর্তী জনজাতিরা বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে ভিসা ছাড়াই ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত দু দেশে যাতায়াত করতে পারতেন। এ ব্যবস্থা বাতিল করে মোদি সরকার জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা  উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনবিন্যাস রক্ষা করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেনগোটা ১,৬৪৩ কিলোমিটার সীমান্তে ধাপে ধাপে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যেই মণিপুরের মোরেহ এলাকায় ১০ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া দেওয়া হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ ও মণিপুরে হাইব্রিড সার্ভেল্যান্স সিস্টেম’-এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলক প্রকল্পও চলছে। তবে সীমান্তের অমীমাংসিত অংশে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরার কাজ এখনো সম্ভব হয়নি। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ীভারত-মায়ানমার সীমান্তের প্রায় ১,৪৭২ কিলোমিটার ইতিমধ্যেই সীমান্তস্তম্ভের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখনো প্রায় ১৭১ কিলোমিটার অংশে সীমান্ত নির্ধারণ বাকি রয়েছে। এর অধিকাংশই মণিপুরের কাবাও উপত্যকা ও চান্দেল জেলার সংলগ্ন এলাকা এবং অরুণাচল প্রদেশের লোহিত সেক্টরে।

কেন এই সীমান্ত নির্ধারণ এত জটিল? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ইতিহাসে। বর্তমান ভারত-মায়ানমার সীমান্তের ভিত্তি ঔপনিবেশিক আমলে। ১৮২৪ থেকে ১৮৮৫ সালের মধ্যে একাধিক অ্যাংলো-বর্মিজ যুদ্ধের মাধ্যমে ব্রিটিশরা ধাপে ধাপে সমগ্র বর্মা দখল করে। ১৮২৬ সালের ইয়ান্ডাবু চুক্তি’-র মাধ্যমে অসমমণিপুরআরাকান এবং তেনাসেরিমের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশ শাসকরা। এরপর ১৮৩০ সাল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত জরিপ শুরু হয়। সম্পূর্ণ বর্মা দখলের পরও সে জরিপ চলতে থাকে প্রায় একশো বছর পরে১৯৩০ সালের মধ্যে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য একটি সীমারেখা টানা হয়।  তবে সে সীমারেখা কখনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে নির্ধারিত হয়নি। কারণতখন ভারত ও বর্মা উভয়ই ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল।

 ১৯৩৭ সালে প্রশাসনিক ভাবে বর্মাকে ব্রিটিশ ভারত থেকে আলাদা করা হলেও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে তার জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে। অন্যদিকে১৯৪৯ সালে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয় মণিপুর। এরপরই প্রকৃত আন্তর্জাতিক সীমান্ত নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ঘন অরণ্য এবং সীমান্তের দুই পাশে একই জনজাতির বসবাসের কারণে কাজটি সহজ হয়নি। ষাটের দশকের শেষদিকে ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণ নিয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়। তার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে সীমান্তস্তম্ভ বসানোর কাজ শুরু হয়। কিন্তু কয়েকটি অংশ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে ৬৫ থেকে ৬৮ নম্বর সীমান্তস্তম্ভের মধ্যবর্তী এলাকা নিয়ে সমস্যা রয়ে গিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতেআন্তর্জাতিক সীমান্ত নির্ধারণে প্রতিটি সীমান্তস্তম্ভের আইনগত গুরুত্ব রয়েছে। জিপিএস সমন্বয়আন্তর্জাতিক নথিভুক্তি  দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ক্ষেত্রে স্তম্ভগুলির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ওই অংশের প্রতিটি ইঞ্চি জমির অবস্থান নিশ্চিত না করে সীমান্তে বেড়া নির্মাণ করতে চাইছে না দিল্লি

এদিকে, মণিপুরের চান্দেল জেলা বর্তমানে সীমান্ত নিরাপত্তার অন্যতম বড়ো উদ্বেগের কারণ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মোলচাম এলাকায় সদ্য নির্মিত সীমান্ত বেড়ার একটি অংশ কেটে ফেলার ঘটনা সামনে আসে। সে ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়। সীমান্তে বেড়া নির্মাণের সামগ্রী চুরিলোহার খুঁটি উপড়ে ফেলা ও বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও একাধিক বার ঘটেছে। মণিপুর থেকে নির্বাচিত বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ মহারাজা সানাজাওবা লেইশেম্বা জানিয়েছেনসীমান্ত চিহ্নিতকরণ সম্পূর্ণ না হওয়ায় বেড়া নির্মাণের কাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চান্দেল জেলায়। তাঁর দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশমাদক পাচার  জঙ্গি চলাচল রুখতে দ্রুত সীমান্তে বেড়া নির্মাণ প্রয়োজন। কিন্তু বারবার ভাঙচুর ও নিরাপত্তা সমস্যার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহও সীমান্ত প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে কেন্দ্রীয় তথ্য প্রকাশ করেন। তাঁর দাবিঅনুমোদিত ৩৯০.৩৯ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ৪৩.৭৫ কিলোমিটার অংশে বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়েছে। আরও ৩৪৬.৬৪ কিলোমিটার অংশে কাজ চলছে। সীমান্তে নিয়ন্ত্রিত যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত ৪৩টি প্রবেশদ্বারের মধ্যে ২০টি ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। তবে সম্ভাব্য ভূমি বিনিময়ের প্রস্তাব মণিপুরে প্রবল আপত্তির মুখে পড়েছে। মেইতেই সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টিগ্রিটি’ জানিয়েছেমণিপুরের এক ইঞ্চি জমিও অন্য দেশের হাতে তুলে দেওয়া চলবে না। সংগঠনের দাবিস্বাধীনতার আগে কাবাও উপত্যকা ঐতিহাসিক ভাবে মণিপুরের অংশ ছিল। সে জমি ফেরত চাওয়ার পরিবর্তে নতুন করে কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া হলে তা রাজ্যের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত নিলে তীব্র গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তাঁরা।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতেভূমি বিনিময়ের পথে আরও একাধিক বাস্তব বাধা রয়েছে। প্রথমতমায়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা। গৃহযুদ্ধের মধ্যে থাকা দেশটির সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলির বড়ো অংশ এখনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। ফলে কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়ন কতটা সহজ হবেতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দ্বিতীয়তগোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল অঞ্চলের মাদক পাচার এবং অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র সীমান্তে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তৃতীয়তভারতের অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির ক্ষেত্রে মায়ানমারের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজ়িট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প এবং ভারত-মায়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপাক্ষিক মহাসড়ক প্রকল্প— দুক্ষেত্রেই মায়ানমার গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। ফলে সীমান্ত সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিতে হবে দিল্লিকে।

উল্লেখ্য, অতীতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভূমি বিনিময়ের নজির রয়েছে। ২০১৫ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কার্যকর হওয়া ঐতিহাসিক স্থলসীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের ১৬২টি ছিটমহলের বিনিময় হয়েছিল। ভারত ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়, বদলে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সীমান্ত সমস্যার অবসান হয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়েও কিছু এলাকায় সীমান্তে বেড়া নির্মাণকে ঘিরে সমস্যা দেখা গিয়েছে।  ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— মায়ানমারের সঙ্গে যদি শেষ পর্যন্ত ভূমি বিনিময় চুক্তি হয়ওতাতে কি সীমান্তের সব সমস্যা মিটবে না কি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাস্থানীয় জনজাতির আপত্তি আর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নতুন জটিলতার জন্ম দেবে ?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!