- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১৭, ২০২৬
আয়কর-ইডির বঙ্গ অভিযান: তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি-অফিসে তল্লাশি, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’-র অভিযোগ মমতার
শুক্রবার কলকাতার একাধিক জায়গায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও ইনকাম ট্যাক্স (আইটি) বিভাগের একযোগে তল্লাশি অভিযান। ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতায় নতুন করে কেন্দ্র–রাজ্য রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার নিয়েছে। মমতা ব্যানার্জির তীব্র প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তৃণমূলনেত্রী এই ঘটনাগুলিকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিজেপির ক্ষমতার অপব্যবহার বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
শুক্রবার সকালে কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়কর বিভাগের একাধিক দল একযোগে তল্লাশি চালায়। দক্ষিণ কলকাতার মনোহরপুকুর রোডে তাঁর বাড়িতে সকাল প্রায় ৬টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে অভিযান শুরু হয়। একই সঙ্গে তাঁর নির্বাচনী অফিস এবং মতিলাল নেহরু রোডে থাকা আরেকটি অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ওই দ্বিতীয় অফিসটি বর্তমানে বালিগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, এই আয়কর অভিযান মূলত একটি জমি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের মামলার সঙ্গে যুক্ত, যা আগে থেকেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তদন্ত করছে। দেবাশিস কুমারকে এর আগে এই মামলায় তিন দফায় ইডি তলব করেছিল—১ এপ্রিল, ৩ এপ্রিল এবং ৯ এপ্রিল। তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হন। কেন্দ্রীয় সংস্থার ধারণা, ব্যবসায়ী অমিত গাঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র থাকতে পারে, যার সম্পত্তিও সম্প্রতি তল্লাশির আওতায় এসেছে।
একই দিনে ইডিও কলকাতায় একাধিক জায়গায় বড়োসড়ো অভিযান চালায়। সল্টলেক ও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একটি নির্মাণ ও রিয়েল এস্টেট সংস্থার একাধিক ঠিকানায় হানা দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এটি একটি বৃহত্তর আর্থিক তছরুপ ও জমি সংক্রান্ত জালিয়াতির মামলার অংশ। এর আগে একই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছিল, এবং সেই অভিযানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নতুন করে অভিযান শুরু হয়েছে। ইডির অভিযোগ, জাল নথি ব্যবহার করে জমি দখল এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ তছরুপ করা হয়েছে, যা মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় তদন্তাধীন।
এ তদন্তের সঙ্গে যুক্ত মেরলিন গ্রুপ সংক্রান্ত মামলাও ইতিমধ্যে রাজনৈতিক আলোচনার শিরোনামে। অভিযোগ রয়েছে, সুশীল মোহতা ও তাঁর ছেলে সাকেত মোহতা-সহ একাধিক ব্যক্তি জালিয়াতি, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জমি ও রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে অনিয়ম করেছেন। ইডির তদন্ত অনুযায়ী, ৩.৬৩ একর জমি ঘিরে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ‘মেরলিন নিয়াসা’ প্রকল্পে জাল নথি ব্যবহার করে মালিকানা দাবি করা হয়েছিল এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা করা হয়েছে। তদন্তে এও দেখা হচ্ছে যে, এই অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে কি না। একই দিনে আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর নির্বাচনী মনোনয়নের সময় প্রস্তাবকদের একজন মিরাজ শাহের এলগিন রোডের বাড়িতেও ইডি পৌঁছে যায়। মমতা তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় চার ধর্মের চারজনকে প্রস্তাবক হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিতে, যার মধ্যে মিরাজ শাহ অন্যতম ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস এ ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ইডি, সিবিআই এবং আয়কর দফতরকে ব্যবহার করে একতরফা চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘তৃণমূলের পার্টি অফিসে হানা দেওয়া হচ্ছে, প্রার্থীর বাড়িতে হানা দেওয়া হচ্ছে, এমনকি আমার প্লেন এবং নিরাপত্তাকর্মীদেরও লক্ষ্য করা হচ্ছে। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া কিছু নয়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, সেন্ট্রাল ফোর্স—সবকিছুকে একপক্ষ করে দেওয়া হয়েছে। আমি একা লড়ছি, কিন্তু আমার সঙ্গে ১০০ শতাংশ মানুষ আছে।’ তিনি কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ভোট এলেই ইডি আছে, সিবিআই আছে, ইনকাম ট্যাক্স আছে। দিল্লি থেকে লোক আসে, আর সঙ্গে মোটা ভাই নিয়ে আসে ইডি-সিবিআই।’ পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে কোচবিহারে লক্ষাধিক নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিজেপি প্রশাসনিক ও কেন্দ্রীয় শক্তিকে ব্যবহার করে নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, মানুষ ভোটের মাধ্যমেই এর জবাব দেবে।
❤ Support Us






