Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ১৮, ২০২৬

শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রধানমন্ত্রীর। কী বলবেন ? তুঙ্গে জল্পনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রধানমন্ত্রীর। কী বলবেন ? তুঙ্গে জল্পনা

লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল –এর অপ্রত্যাশিত ধাক্কার পরদিনই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার রাত সাড়ে আটটায় তাঁর এই ভাষণ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চড়তে শুরু করেছে উত্তেজনার পারদ। কী বলবেন তিনি? কোনো নতুন ঘোষণা, না কি সংসদে ব্যর্থ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়েই অবস্থান স্পষ্ট করবেন, বিরোধীদের তীব্র নিশানা করবেন, এসব প্রশ্নেই এখন জল্পনা তুঙ্গে।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে ভাষণের সময় নিশ্চিত করা হলেও, বিষয়বস্তু নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। সংবাদসংস্থা পিটিআই-ও জানিয়েছে, শনিবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন মোদি। তবে তিনি ঠিক কী বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন, সে বিষয়ে সরকারি স্তরে কোনো স্পষ্ট বার্তা মেলেনি। ফলে রাজনৈতিক শিবিরে জোর চর্চা, এ ভাষণ কি শুধুই প্রতিক্রিয়া, না কি বড়োসড়ো কোনো নীতিগত ঘোষণা সামনে আনতে চলেছে কেন্দ্র ?

যাবতীয় জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে সদ্যসমাপ্ত সংসদের বিশেষ অধিবেশন। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া ৩ দিনের এই অধিবেশনে কেন্দ্রের লক্ষ্য ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানো। কিন্তু দ্বিতীয় দিনেই ব্যাপক ধাক্কা খায় শাসক জোট এনডিএ। সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, যার মাধ্যমে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রস্তাব ছিল, তা প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়। শুক্রবার বিকেলের ভোটাভুটিতে ৫২৮ জন সাংসদ অংশ নেন। এর মধ্যে ২৯৮ জন বিলের পক্ষে ভোট দিলেও, ২৩০ জন বিরোধিতা করেন। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে দরকার ছিল ৩৫২ ভোট। ফলে সংখ্যায় এগিয়েও শেষরক্ষা হয়নি সরকারের। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০১৪ সালের পর সংসদে এই প্রথম এমন ধাক্কার মুখে পড়ল মোদি সরকার।

বিলটির তাৎপর্য বহুমাত্রিক। শুধু মহিলাদের জন্য সংরক্ষণই নয়, এর সঙ্গে জুড়ে ছিল লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ করার প্রস্তাব। পাশাপাশি, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের বিষয়টিও এ প্রস্তাবের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, সমস্ত পদক্ষেপ ‘অন্তর্নিহিতভাবে সংযুক্ত’ এবং একসঙ্গে বাস্তবায়ন করাই লক্ষ্য। তবে বিরোধীদের আপত্তিও ছিল সমান তীব্র। তাঁদের অভিযোগ, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এ স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে নতুন জনগণনার পরেই আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। সে প্রক্রিয়া এড়িয়ে গিয়ে কেন্দ্র রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে বলেই অভিযোগ বিরোধীদের। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ এবং বিজেপির জন্য ‘কালো দিন’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, শাসক শিবিরের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, বিরোধীরা আসলে মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধী বলেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ আটকে দিয়েছে। সূত্রের খবর, শনিবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর কথায়, বিরোধীরা ‘মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে এবং এর রাজনৈতিক মূল্য তাদের দিতে হবে। এমনকি তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, এ বার্তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে। এই মুহূর্তে পাঁচ রাজ্যে ভোটের মরশুম, ফলে বিরোধীদের কোণঠাসা করতে, তাদের ‘মহিলাবিদ্বেষী’ প্রমাণ করতে তৎপর হবে পদ্মশিবির।

বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্র মোট ৩টি বিল পাশ করাতে চেয়েছিল। প্রথমটি ছিল ‘১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল’, যা মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের পাশাপাশি লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। দ্বিতীয়টি ছিল ‘ডিলিমিটেশন’ সংক্রান্ত বিল, যেখানে আসন পুনর্বিন্যাসের কাঠামো নির্ধারণের কথা বলা হয়। তৃতীয়টি ছিল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল, যার মাধ্যমে বিভিন্ন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রথম বিলটিই পাশ না হওয়ায়, বাকি ২টি বিল আর ভোটাভুটির মুখ দেখেনি।   এই পরিস্থিতিতে আজ রাতের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। অনেকের ধারণা, মহিলা সংরক্ষণ বিলের ব্যর্থতা নিয়ে সরাসরি বার্তা দিতে পারেন তিনি। আবার একাংশের মতে, এর আড়ালে বড়ো কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ঘোষণা আসতেও পারে। সব মিলিয়ে, তৈরি হয়েছে এক অনিশ্চয়তার আবহ।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!