- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১৮, ২০২৬
২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির অনুমোদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার। ৭ বছরে হার সর্বনিম্ন
প্রত্যাশার পারদ ছুঁতে পারল না কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির হার। শনিবার ২ শতাংশ হারে ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স বৃদ্ধির প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মূল্যস্ফীতির বর্তমান প্রবণতা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি। যদিও, সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিগত সাত বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন ডিএ বৃদ্ধি। নতুন কাঠামো কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। অর্থাৎ বিগত কয়েকমাসের বকেয়া ভাতাও যুক্ত হবে বেতনে।
মহার্ঘ ভাতা মূলত মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বছরে ২ বার— জানুয়ারি ও জুলাই মাসেসংশোধিত হয়। ‘কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স’-এর ভিত্তিতে এই হার নির্ধারিত হয়, যা শ্রম মন্ত্রকের অধীনস্ত ‘লেবার ব্যুরো’ নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে। তবে এ বার ডিএ ঘোষণা নিয়ে অস্বাভাবিক দেরি ঘিরে ইতিমধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল কর্মচারী মহলে। অবশেষে ঘোষণা হলেও তা প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় একাংশ কর্মচারী ও পেনশনভোগীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই বৃদ্ধির ফলে বর্তমান ডিএ হার ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশে দাঁড়াল। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এতে দেশের প্রায় এক কোটি কেন্দ্রীয় কর্মচারী ও পেনশনভোগী উপকৃত হবেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যাঁদের বেসিক বেতন ৫০ হাজার টাকা, তাঁদের মাসিক আয় প্রায় ১০০০ টাকা বৃদ্ধি পাবে। একইভাবে বেসিক পে ১৮ হাজার টাকা হলে মোট মাসিক বেতন দাঁড়াবে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা। ২৮,২০০ টাকা বেসিক পে-র ক্ষেত্রে বেতন পৌঁছতে পারে প্রায় ৪৬,৭২০ টাকায়। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ক্ষেত্রে, যাঁদের বেসিক পে ২.৫ লক্ষ টাকা, তাঁদের মোট বেতন ৪ লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলেও সরকারি সূত্রের দাবি।
নয়া ডিএ হার ঘোষণার দেরি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি মানা হয়নি, এমন অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে ক্ষোভ বাড়ে। ‘কনফেডারেশন অফ সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ অ্যান্ড ওয়ার্কার্স’-এর পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভার সচিবকে চিঠি পাঠিয়ে অসন্তোষ জানানো হয়। এমনকি মধ্যাহ্নভোজের সময় দফতরগুলিতে ধর্নায় বসার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার পর থেকে সাধারণত ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা নিয়মিত ও সময়মতো হয়ে আসছিল। কিন্তু এ বছরের দেরি সেই ধারাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির অভিযোগ, সরকারের এই দেরি প্রশাসনিক অস্বচ্ছতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে সর্বশেষ ডিএ বৃদ্ধি হয়েছিল ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, যখন হার ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছিল। এবার তা আরও ২ শতাংশ বেড়ে ৬০ শতাংশে দাঁড়াল। তবে এই ক্ষুদ্র বৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট নয় কর্মচারীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এ বৃদ্ধি পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে আসন্ন অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে দাবি আরও জোরালো হয়েছে। ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল–জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি’ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছে ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে ন্যূনতম মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৬৯ হাজার টাকায় পৌঁছতে পারে, যা বেতন কাঠামোয় বড়ো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে অবশ্য ডিএ ছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম, ১৩ হাজার কোটি টাকার একটি ‘সার্বভৌম সামুদ্রিক তহবিল’ গঠন। এই তহবিলের মাধ্যমে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ভারত থেকে যাতায়াতকারী জাহাজগুলির জন্য সাশ্রয়ী বীমা পরিষেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ প্রকল্পে অতিরিক্ত ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্তও অনুমোদিত হয়েছে মন্ত্রিসভায়।
❤ Support Us






