Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ১৬, ২০২৬

অনলাইনে ভোটের লড়াই, ‘মেটা’য় প্রচারে খরচ ১৪ কোটি !

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অনলাইনে ভোটের লড়াই, ‘মেটা’য় প্রচারে খরচ ১৪ কোটি !

সমাজ মাধ্যমকে ভোট প্রচারে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি মানুষের কাছে পৌঁছয়। এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ভোট হবে, প্রচার হবে না, এটা ভাবাই যায় না। একটা সময় ছিল যখন প্রার্থীরা মাঠে-ময়দানে নেমে প্রচার করতেন। সেটা যে এখন নেই তা নয়। তবে তথ্যপ্রযুক্তির নাগাল পাওয়ার পর গত বেশ কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলি নজর দিয়েছে অনলাইন প্রচারে। সেই খাতে বিপুল টাকা খরচও হয়েছে। মেটা এবং গুগল অ্যাডস-এর ডেটা থেকে জানা যাচ্ছে কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ুর বিধানসভা ভোটের জন্য শুধু অনলাইন খাতে ২০০ কোটি টাকার উপরে রাজনৈতিক দলগুলি খরচ করেছে। গত তিন মাসে পশ্চিমবঙ্গে শুধু মেটা-র প্ল্যাটফর্মগুলিতে অর্থাৎ ফেসবুক, ইনস্টা, থ্রেডস-এ মোট খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা।

অনলাইন প্রচার দৌড়ের ক্ষেত্রে প্রথমে রয়েছে বিজেপি। তারা বিগত তিন মাসে মেটা প্ল্যাটফর্মগুলিতেই শুধু ৩ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা খরচ করেছে। দু’নম্বরে থাকা দলটি হচ্ছে তৃণমূল, এই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেজ এবং অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস পেজ মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৪ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গুগল অ্যাড। অর্থাৎ ইউটিউব-সহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট খুললে যে বিজ্ঞাপন দেখা যায়, তার খরচ। তাতেও এগিয়ে পদ্ম–শিবির। তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে তৃণমূল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, তৃণমূলের মতো একটি আঞ্চলিক দল অনলাইন প্রচারে সর্বভারতীয় দল বিজেপির পরেও থাকছে কি ভাবে ? তাদের এই খরচের উৎস কি ? তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের উচিত সব দলের এই অনলাইন প্রচারের খরচের জন্য কথা থেকে টাকা আসছে তার খোঁজ নেওয়া।

শুধু অনলাইন দলের বা নেতার নিজস্ব পেজ নয়, রয়েছে বেশ কিছু শ্যাডো পেজের বিজ্ঞাপনও, যা আড়াল থেকে কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলেরই প্রচার করে চলেছে। যেমন বিজেপি–র প্রচারের কাজ করা পেজ ‘নির্মমতা’। তারা গত তিন মাসে ২৬ লক্ষের বেশি ফেসবুক-ইনস্টায় বিজ্ঞাপন দিয়েছে। ‘বাংলার গর্ব মমতা’ নামে একটি পেজ ৭০ লক্ষের বেশি টাকা খরচ করেছে সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের কন্টেন্ট বুস্ট করতে।

এমনই রয়েছে ‘আবার জিতবে বাংলা’, ‘চলো পাল্টাই’, ‘বজ্র কণ্ঠে’র মতো একাধিক শ্যাডো পেজ। যারা জানুয়ারি থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ টাকা এই খাতে খরচ করেছে। শুধু গত এক মাসে ‘আঁতে ঘা’, ‘বজ্র কণ্ঠে’র মতো পেজ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার বেশি মেটা অ্যাড দেওয়া হয়েছে। এই পেজগুলি মূলত তৃণমূলের পক্ষে এবং বিজেপির বিপক্ষে প্রচার করে।

এ বছর পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিক এলাকা বেছে ফেসবুক-ইনস্টায় ব্যাপক বিজ্ঞাপন চালিয়েছে বিজেপি অসম এবং বিজেপি তেলঙ্গানা পেজগুলি। মেটার অ্যাড লাইব্রেরি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে অসম বিজেপির তরফে পশ্চিমবঙ্গে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার এবং তেলঙ্গানা বিজেপির খরচ হয়েছে ১৯ লক্ষ ৭২ হাজার টাকারও বেশি। গুগল অ্যাড ট্রান্সপেরেন্সি সেন্টারের তথ্য বলছে, বিজেপি সরাসরি গুগল অ্যাডসে সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনদাতা। জানুয়ারি থেকে এপ্রিলে বাংলায় বিভিন্ন ভিডিয়ো এবং ইমেজ ক্যাম্পেনে তারা কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করেছে। মূলত রাজ্য সরকারের দুর্নীতি ইস্যু এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন স্কিমের প্রচারে এই টাকা খরচ করা হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত এই তালিকায় দূর–দূরান্তে নেই বাম-কংগ্রেস। সর্বভারতীয় স্তরে তবু কংগ্রেস মেটা এবং গুগল তালিকায় নীচের দিকে রয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এখনও তারা এত টাকা খরচ করেনি যে, এই তালিকায় তাদের নাম উঠবে।

এরই মধ্যে অবশ্য উত্তর দমদমের সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছেন, কন্টেন্ট ক্রিয়েটাররা যদি উত্তর দমদমের ইস্যু নিয়ে রিলস, ভিডিয়ো এবং পোস্টার বানান তা হলে ইনস্টায় তাঁকে কোলাবোরেশন রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারেন। অর্থাৎ, তাঁর সঙ্গে যৌথ ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা পোস্ট করার সুযোগ পাবেন ক্রিয়েটররা। এর ফলে দীপ্সিতার ফলোয়াররাও যেমন সেই কন্টেন্ট দেখতে পাবেন, তেমনই সেখান থেকে অর্জিত ভিউজ, লাইক, শেয়ারের স্বাদ পাবেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটাররা। পেতে পারেন নতুন ফলোয়ারও। বাম শিবির মনে করছে, এর ফলে তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারে সাধারণ মানুষের কন্ট্রিবিউশন অনেকটা বাড়বে। যদিও টাকা খরচের বিষয়ে তারা পিছিয়েই।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!