Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২৯, ২০২৫

বাংলার শিক্ষকদের জাতীয় সম্মান, শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলার শিক্ষকদের জাতীয় সম্মান, শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রীর

শিক্ষক দিবসে আরো একবার জাতীয় মঞ্চে বাংলার গৌরব। ‘ন্যাশনাল টিচার্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এ সম্মানিত হতে চলেছেন দুর্গাপুরের গভর্নমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের দুই প্রশিক্ষক, সুকান্ত কোনার এবং ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায়। রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্র থেকেও জাতীয় স্তরে সম্মান পাচ্ছেন দুই শিক্ষিকা। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর, শিক্ষক দিবসে, দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে তাঁদের হাতে এই সম্মান তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এখবর সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে শিক্ষা মহলে উচ্ছ্বাস। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বঙ্গ গৌরবের কথা জানিয়ে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন পুরস্কৃত শিক্ষকদের।

শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি, দুর্গাপুরের সরকারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের দুই প্রশিক্ষক, শ্রী সুকান্ত কোনার এবং শ্রী ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায়, সারা দেশের ১৬ জন পুরস্কারপ্রাপকের সঙ্গে জাতীয় শিক্ষক সম্মান পাচ্ছেন। এ স্বীকৃতি রাজ্য সরকার গঠিত বিশ্বমানের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রবাহের প্রতিফলন।’ শুধু প্রশিক্ষকদ্বয় নয়, রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্র থেকেও জাতীয় স্তরে সম্মান পাচ্ছেন দুই শিক্ষিকা — খড়গপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তনুশ্রী দাস। দীর্ঘ ২৬ বছরের শিক্ষকজীবনে গ্রামীণ পরিসরে দাঁড়িয়ে শিশুদের সর্বাঙ্গীন বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য বলেই মত শিক্ষা মহলের। দ্বিতীয়জন, কলকাতার ডিপিএস নিউটাউনের কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষিকা মধুরিমা আচার্য। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচলিত পঠন-পাঠনের বাইরে পড়ুয়াদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির নানান বিষয়ে জ্ঞানের আলো দিয়ে চলেছেন। পাশাপাশি, কচিকাঁচাদের দিয়ে যাচ্ছেন সমাজ- সচেতনার পাঠ।

দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায় আধুনিক প্রযুক্তিকে পাঠ্যপদ্ধতির সঙ্গে মিশিয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছে পড়াশোনাকে করেছেন সহজ ও আকর্ষণীয়। শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামের সাধারণ প্রেক্ষাপটেও তাঁর পাঠদানের পদ্ধতি পেয়েছে সাড়া। শুধু পাঠদানেই নয়, ছাত্রদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার দিকেও সমান নজর তাঁর। অন্যদিকে, সুকান্ত কোনার বরাবরই পরিচিত তাঁর সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও বিকল্প শিক্ষাদানের পন্থার জন্য। ছাত্রদের পরীক্ষার বাইরে চিন্তাশীল করে তোলাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য। তাঁর উদ্যোগেই বহু স্কুলে বিজ্ঞানচর্চার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। বহু ছাত্র তাঁর অনুপ্রেরণায় জাতীয় স্তরের বিজ্ঞান মেলায় পুরস্কৃত হয়েছে।

খড়গপুর ১ নম্বর ব্লকের গোপালী অঞ্চলের কুচলাচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৯ সালে শিক্ষকতা শুরু করেন তনুশ্রী দাস। তখন স্কুল বলতে ছিল শুধু চার দেওয়াল আর কয়েকটি বেঞ্চ। বইয়ের বাইরেও যে শিক্ষা হতে পারে, সেটা ছাত্রদের শেখাতে চেয়েছেন শুরু থেকেই। তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে শুধু আমি নই, গোটা গ্রাম, সহকর্মী এবং অভিভাবকরাই আমার শক্তি।’ খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষাদান, নিজে হাতে অল্প খরচে শিক্ষণসামগ্রী তৈরি করা, শ্রেণিকক্ষে বিষয়ভিত্তিক দেয়ালচিত্র— সব মিলিয়ে এক অনন্য শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘শিক্ষক হিসেবে কাজ শেষ হয়নি, পুরস্কার পাওয়ার পর দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!