- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫
কুকিদের হাতে নিহত নেতা, গুয়াহাটিতে বিক্ষোভ থাড়ু উপজাতির, মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি
নেতা নেহকাম জোমহাওয়ের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে অসমের গুয়াহাটিতে বিক্ষোভ দেখাল থাডু উপজাতির সদস্যরা। বুধবার এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। আগস্টে এই থাড়ু নেতাকে কার্বি আংলংয়ে কুকি বিদ্রোহীরা চরম নির্যাতন করে হত্যা করেছিল। কুকি রেভোলিউশনারি আর্মি হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
সমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে লেখা এক স্মারকলিপিতে বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন যে, সমস্ত কুকি জঙ্গী সংগঠনকে প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং তাদের ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করতে হবে। থাডু উপজাতির প্রধান সংগঠনগুলির দাবি, কুকিরা জোর করে অসম এবং মণিপুরে থাডু উপজাতিকে নিজেদের ছাতার নীচে রাখতে চায় এবং তাদের ভাষা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক মূলধন চুরি করতে চায়।
থাডু স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘শান্তিপ্রেমী এবং আইন মেনে চলা সম্প্রদায় হিসেবে থাডু জনগণ আইনের শাসন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। আমরা খুবই সীমিত সংখ্যক। আমাদের নিজস্ব কোনও সশস্ত্র গোষ্ঠী নেই। আমরা ভারত সরকার এবং অসম সরকারের ওপর চরম আস্থা যে, তারা দেশের আইনের অধীনে সকল নাগরিককে রক্ষা করবে। আমরা সরকারের কাছে সেই আবেদন রাখছি।’
থাডু উপজাতির নেতা নেহকাম জোমহাও কুকি বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন। কুকিরা স্বীকার করেছে যে, তাদের পাঁচজন বিদ্রোহী ৫৯ বছর বয়সী থাডু নেতার হত্যার সঙ্গে জড়িত। তবে কুকিদের দাবি, সংগঠনের অজান্তেই নিজেরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অসম পুলিশ তদন্তে সহায়তা করতে সম্মত হয়েছে। থাড়ু উপজাতি সংগঠনগুলির দাবি, নেহকাম জোমহাও হত্যার পিছনে মূল পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং অসম সরকারকে রাজ্যে কুকি বিদ্রোহীদের সঙ্গে অপারেশন স্থগিতাদেশ চুক্তি বাতিল করতে হবে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘আশা করি সরকার আমাদের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। আমরা শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সন্ত্রাস, নিপীড়ন এবং সাংস্কৃতিক ধ্বংসের মুখে আমরা চুপ করে থাকতে পারি না। তাই আমরা আপনার সম্মানিত অফিসের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আবেদন করছি।’
থাডো সাহিত্য সমিতির চেয়ারম্যান ৫৯ বছর বয়সী নেহকাম জোমহাও ৬ আগস্ট মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে এক শান্তি সভায় যোগ দিয়েছিলেন এবং মেইতেই সম্প্রদায়ের নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলির সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছিলেন। ঘৃণা এবং ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে, মণিপুরে মেইতেই-কুকি জাতিগত উত্তেজনার মধ্যে কুকি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি এই ঘটনাকে বিশ্বাসঘাতকতা বলে সমালোচনা করেছিল। নেহকাম জোমহাও অসমে ফিরে আসার কয়েকদিন পর কুকি বিদ্রোহীরা তাঁকে হত্যা করে।
❤ Support Us






