Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫

রুশ সেনার হয়ে যুদ্ধে লড়ছে ভারতীয় যুবকরা! ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি, শুরু কূটনৈতিক তৎপরতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রুশ সেনার হয়ে যুদ্ধে লড়ছে ভারতীয় যুবকরা! ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি, শুরু কূটনৈতিক তৎপরতা

কাজের খোঁজে রাশিয়ায় গিয়ে সে দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন ভারতীয় যুবকরা — সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হতেই তৎপর নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার সকালে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিবৃতি দিয়ে জানান, রাশিয়ায় থাকা ভারতীয় নাগরিকদের প্রতি সরকারের কঠোর সতর্কবার্তা: রাশিয়ান বাহিনীতে যোগদান করবেন না, এটি একটি বিপজ্জনক ও প্রতারণাপূর্ণ পথ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন খবরে উঠে এসেছে যে কিছু ভারতীয় নাগরিককে প্রতারণা করে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে ভর্তি করানো হয়েছে। তাঁরা কাজ বা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় গেলেও শেষমেশ তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য। সরকার জানিয়েছে, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এ বিষয়ে বারবার সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ভারতীয় নাগরিকদের এমন বিপজ্জনক পথে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে। সেখানে বলা হয়, ২ ভারতীয় নির্মাণ শ্রমিক, কাজের আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতিশ্রুত চাকরির বদলে রুশ সেনাবাহিনীতে ঠেলে দেওয়া হয়। ওই দুই যুবক বর্তমানে ডোনেৎস্ক অঞ্চলের সেলিদোভে শহরে রয়েছেন, যা ২০২৪ সালের নভেম্বরে রাশিয়া দখল করে। তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের মতো আরো অন্তত ১৩ জন ভারতীয় একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন এবং সকলে যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে নিযুক্ত রয়েছেন।

এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই নয়াদিল্লিতে নড়াচড়া শুরু হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, রাশিয়ার দিল্লি দূতাবাস এবং মস্কোতে ভারতীয় দূতাবাস, দু-স্তরেই এ বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভারত সরকার পরিষ্কার ভাষায় বলেছে, এমন অনভিপ্রেত ও অনৈতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করা হোক এবং যাঁরা ইতিমধ্যেই ফাঁদে পড়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক। পাশাপাশি, যাঁদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রকের তরফে।

এই ঘটনাকে শুধু মানবিক সংকট নয়, কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাশিয়া বিভিন্ন দেশের দরিদ্র ও কর্মহীন যুবকদের লক্ষ্য করে যেভাবে সেনায় টেনে নিচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানও যথেষ্ট জটিল। রাশিয়া দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ। ঠান্ডা যুদ্ধের যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে পশ্চিমি দেশগুলি যেখানে রাশিয়ার উপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে, সেখানে ভারত ওই চাপকে উপেক্ষা করেই রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে। এর জেরে আমেরিকা ভারতের বহু পণ্যের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে, যা ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবু ভারত তার অবস্থানে অনড় থেকেছে। সম্প্রতি চিনে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আন্তরিকতা ও পারস্পরিক সম্মানের ছবি ‘ঘনিষ্ট সম্পর্ক’কেই আরো একবার প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক সম্পর্কে জটিলতাও তৈরি হয়েছে। এ আবহে ভারত সরকারের তরফে প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিবৃতিটি শুধু ভারতীয়দের সতর্ক করা নয়, কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টাও বটে। একদিকে বন্ধুত্ব অটুট রাখার কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে নাগরিকদের জীবনরক্ষার দায়িত্ব—দুইয়ের মাঝেই ভারতকে চালাতে হচ্ছে তার অবস্থান। একদিকে, নয়াদিল্লি বন্ধুত্ব বজায় রাখছে, অন্যদিকে, নিজ দেশের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে না দেওয়ার ব্যাপারেও অবিচল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!