Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫

২০৫০ সালের মধ্যে দেশের অধিকাংশ জলাধার হারাবে ৫০% ধারণক্ষমতা, আইআইএসইআর -এর রিপোর্টে সতর্কবার্তা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
২০৫০ সালের মধ্যে দেশের অধিকাংশ জলাধার হারাবে ৫০% ধারণক্ষমতা, আইআইএসইআর -এর রিপোর্টে সতর্কবার্তা

ভারতের বাঁধ এবং জলাধারগুলো নিয়ে চালানো এক নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ সামনে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ব্যাপকভাবে পলি জমে যাওয়ায় দেশের বহু জলাধারের ধারণক্ষমতা ইতিমধ্যেই ৫০% কমে গেছে। আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে আরো অনেক বাঁধ এবং জলাধারের ধারণক্ষমতা ৫০ শতাংশের বেশি হারাতে পারে। বিশেষ করে হিমালয় অঞ্চল, নর্মদা-তাপী অববাহিকা, পশ্চিমঘাট এবং গাঙ্গেয় সমভূমির নদীগুলির জলাধারগুলির প্রতি গভীর মনোযোগ প্রয়োজন।

ভোপালের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইআইএসইআর) পরিচালিত ওই সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ভারতে প্রায় ৩০০টি বড়ো জলাধার (যাদের ধারণক্ষমতা ১০ কোটি কিউবিক মিটার বা তার বেশি) বর্তমানে নিজেদের ধারণক্ষমতার প্রায় অর্ধেক হারিয়ে ফেলেছে। সরকারি রিপোর্ট এবং হাইড্রোগ্রাফিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই সমীক্ষাটি করা হয়েছে, যার ফলাফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘স্টোকাস্টিক এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, দেশের বেশ কিছু জলাধারে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা পলি অ সংস্কারের অভাবে কারণে তাদের জলধারণ ক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমেছে। মূলত কৃষি কাজের জন্য মাটি কাটা, বন উজাড়, অতিবৃষ্টি এবং বন্যার কারণে নদীগুলিতে পলি জমে গিয়ে জলাধারের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে হিমালয়, নর্মদা-তাপী, পশ্চিমঘাট এবং গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের জলাধারগুলির ওপর পলির প্রভাব বেশি পড়েছে।

গবেষণা অনুসারে, ২০৫০ সালের মধ্যে আরো অনেক জলাধার তাদের ধারণক্ষমতার ৫০% হারাতে পারে। এর ফলে জলাধারের মূল কার্যক্রম, যেমন জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে মারাত্মক সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষত, এসব জলাধারগুলো যেসব নদী অববাহিকায় অবস্থিত, সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল কৃষি, শিল্প এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে। আইআইএসইআর-এর অধ্যাপক সোমিল স্বর্ণকর এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের বাঁধ সুরক্ষা আইন (২০২১) অনুযায়ী, দেশের ৫,৭০০টি বাঁধের পরিকাঠামোর প্রতি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে, আমাদের গবেষণা বলছে যে, শুধু বাঁধের দেওয়াল বা লকগেট ঠিক থাকলেই তা যথেষ্ট নয়। জলাধারের ধারণক্ষমতা যদি অর্ধেকেরও কমে যায়, তাহলে সেগুলি আর কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে না, যদিও সেগুলি ভেঙে পড়বার সম্ভাবনা নেই।’ তিনি জানিয়েছেন, ‘পলি জমে যাওয়ার কারণে একটি জলাধারের কার্যকারিতা যেভাবে কমে যাচ্ছে, তা দেখতে পাওয়ার পরেও যথাযথভাবে সংস্কার না করা ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত।’

আইআইটি কানপুরের ভূ-বিজ্ঞানের অধ্যাপক রাজীব সিনহা এই গবেষণাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, ‘এই গবেষণা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। এটি সাহায্য করবে বাঁধ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব, পলি জমে যাওয়ার সমস্যা সমাধান করতে হবে। বিশেষত নদীর পলি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু করা এবং জলাধারগুলোর নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন।’ আইআইএসইআর-এর গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এখন থেকে যদি উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাঁধের কার্যকারিতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিরাট বিপর্যয় ঘটবে, তাই না, জল সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দেবে। এমনকি, কিছু অঞ্চলে অতিরিক্ত পলি জমে বন্যা বা জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা দেশের কৃষি ও নগরাঞ্চলের জন্য মারাত্মক বিপদ সৃষ্টি করবে। উল্লেখ্য, ভারতের বাঁধ এবং জলাধারের সুরক্ষা নিইয়ে জাতীয় স্তরে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে। নয়া এ গবেষণা দেশের জল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাঁধের সুরক্ষায় শুধু গঠনগত সংস্কার নয়, তার সঙ্গে সঙ্গে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাঁধ ও জলাধার সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!