Advertisement
  • দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫

সকালে ফোর্ট উইলিয়ামে সেনা কৌশল ঘিরে ঘিরে আড়াই ঘণ্টার ‘ব্রেনস্টর্মিং’, বিকেলে বিহারে রাজনৈতিক কটাক্ষবাণ প্রধানমন্ত্রী মোদির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সকালে ফোর্ট উইলিয়ামে সেনা কৌশল ঘিরে ঘিরে আড়াই ঘণ্টার ‘ব্রেনস্টর্মিং’, বিকেলে বিহারে রাজনৈতিক কটাক্ষবাণ প্রধানমন্ত্রী মোদির

সকাল সাড়ে ৯ টা। ফোর্ট উইলিয়ামের বিজয় দুর্গে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। শুরু হলো দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তরের ‘ব্রেনস্টর্মিং’। সেনা প্রধান থেকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সামরিক ও কূটনৈতিক মহলের হেভিওয়েটদের উপস্থিতিতে ঘণ্টা তিনেক ধরে চলল বৈঠক। আড়াই ঘণ্টা পর বেরিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল হতেই মেজাজে বদল, রণনীতি ছেড়ে রাজনীতি। পা রাখলেন বিহারে। পূর্ণিয়ার সভা থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধীদের দিকে।

সোমবার সকালে বিজয় দুর্গে শুরু হয়েছে ‘কম্বাইন্ড কমান্ডার্স কনফারেন্স ২০২৫’। দেশে প্রতি ২ বছর অন্তর একবার এই সম্মেলন বসে। সামরিক স্তরের এই সর্বোচ্চ স্তরের আলোচনায় এ বার উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, সেনা, নৌ ও বায়ুসেনা-সহ চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ আমলারা। সূত্রের খবর, আলোচনায় সীমান্তে উত্তেজনা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের বাস্তবতা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে ভারতীয় সেনার রোডম্যাপ। চলতি বৈঠকে আগামী ২ বছরের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনা, যৌথ বাহিনীর সংহতি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সম্মেলনে সেনাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা— আজকের যুদ্ধ শুধু বুলেটের নয়, ব্রেনেরও। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যৌথ কার্যক্ষমতা ছাড়া আধুনিক যুদ্ধজয় সম্ভব নয়। সেনাবাহিনীর সম্মিলিত প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতের যুদ্ধে জয় পেতে হলে আত্মনির্ভরতা ও উদ্ভাবনই হবে আমাদের আসল অস্ত্র।’ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর উল্লেখ করে সেনাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন নরেন্দ্র মোদি। বলেন, জলদস্যু দমন হোক বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিদেশে বিপদে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধার বা আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা, সর্বত্র ভারতীয় সেনার ভূমিকা অনস্বীকার্য। পাশাপাশি ঘোষণা, ২০২৫ সালকে ‘প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সংস্কারের বছর’ হিসেবে পালন করবে কেন্দ্র। তাঁর মতে, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে এখনই প্রয়োজন সংস্কার, রূপান্তর এবং আধুনিকীকরণ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশও দেন তিনি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বাংলাদেশ সীমান্তে অস্থিরতা, চিনের আগ্রাসী অবস্থান এবং নেপালে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে ফোর্ট উইলিয়ামে মোদীর এ সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, যেহেতু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত, তাই গোটা পূর্ব ভারতে এ সম্মেলনের প্রতিফলন সুদূরপ্রসারী বলেই মত কূটনৈতিক মহলের। ফোর্ট উইলিয়ামে সেনা সম্মেলন চলবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তী দিনে বক্তব্য দেবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সম্মেলনের শেষ দিনে সেনা, নৌ ও বায়ুসেনা প্রধানরা নিজেদের বক্তব্যে তুলে ধরবেন আগামী দিনের কর্মপন্থা।

রবিবার রাতেই কলকাতায় এসে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। রাজভবনে রাত্রিবাসের পর সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ পৌঁছন বিজয় দুর্গে। সম্মেলন শেষে দুপুর ১টায় বেরিয়ে যান। রেসকোর্সে অস্থায়ী হেলিপ্যাডে ওঠেন হেলিকপ্টারে। সেখান থেকে সোজা কলকাতা বিমানবন্দর, গন্তব্য বিহার। কলকাতায় ছিল কৌশল, পূর্ণিয়ায় রাজনীতি। বিকেলে বিহারে সভামঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রীর সুর পাল্টে যায়। তাঁর নিশানায় কংগ্রেস ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল। সদ্যসমাপ্ত ‘বিড়ি-বিহার’ বিতর্ক টেনে বিরোধীদের কটাক্ষ করেন মোদী। প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের কেরল ইউনিট সম্প্রতি জিএসটি নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করে একটি পোস্ট করে। যেখানে বলা হয়, ‘‘বিড়ি আর বিহার— দুটোই ‘বি’ দিয়ে শুরু হয়। এখন এগুলিকে আর পাপ বলা যাবে না!’ যা ঘিরে বিতর্ক বাঁধে। পরে ক্ষমা চেয়ে পোস্টটি মুছে দেয় কংগ্রেস। এ প্রেক্ষিতেই মোদী সভায় বলেন, ‘বিহার যখনই উন্নয়নের পথে এগোয়, তখনই কংগ্রেস-আরজেডি রাজ্যকে অপমান করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই দলগুলো বিহারকে ঘৃণা করে।’

ভোটমুখী বিহারে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘পরিবারতন্ত্র’ প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ‘ওদের কাছে সবচেয়ে বড়ো চিন্তা ওদের পরিবারের ভবিষ্যৎ। আমার কাছে আপনারাই পরিবার।’ সঙ্গে আরো সংযোজন, ‘আমি ভাবি আপনাদের খরচ ও সঞ্চয়ের কথা। তাই জিএসটি হ্রাসের সিদ্ধান্তে উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ। সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, ঘি— সবকিছুর দাম কমবে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!