- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫
বীরভূমে নিহত ছাত্রী। ধৃত শিক্ষকের ওপর ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মৃতার পরিবার
২০ দিন ধরে নিখোঁজ ছিল সপ্তম শ্রেণীর একছাত্রী। অবশেষে খাল থেকে তিন টুকরো অবস্থায় ওই আদিবাসী ছাত্রীর বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার করল পুলিশ৷ ছাত্রীকে খুনের অভিযোগে তার স্কুলেরই এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাটে। পুলিশের দাবি, খুনের কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত শিক্ষক। ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।
২৮ আগস্ট সকালে স্কুলেরই শিক্ষক মনোজকুমার পালের কাছে টিউশন পড়তে গিয়েছিল সপ্তম শ্রেণীর ওই ছাত্রী ৷ তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। মেয়ে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজখবর শুরু করে। স্থানীয়রাও খোঁজাখুজি শুরু করে ৷ মেয়ের কোনও সন্ধান না পেয়ে রামপুরহাট থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন ছাত্রীর বাবা। শিক্ষক মনোজ কুমার পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এরপর ১ সেপ্টেম্বর ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় লোকজন স্কুলে গিয়ে পুরুলিয়ার বাসিন্দা ওই শিক্ষকের খোঁজ করে। তাঁর কাছে ছাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে জানতে চায়। স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধোরও করে। পুলিশ গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তাঁকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু কোনও প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে ছেড়ে দেয়। এরপর শিক্ষকের গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করেন তদন্তকারীরা পুলিশ কর্তারা৷
নিয়মিত নজরদারির পর ৮ দিন আগে মনোজ কুমারকে আবার আটক করে পুলিশ। ৮ দিন ধরে আটকে রেখে শুরু হয় ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ ৷ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের সামনে অবশেষে নতিস্বীকার করে করেন অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক। পুলিশ জানতে পারে ওই স্কুল ছাত্রীকে খুন করে তার দেহ তিন টুকরো করে বস্তায় ভরে রামপুরহাটের কালিডাঙা সংলগ্ন একটা খালের ব্রিজের নীচে ফেলে দেন মনোজ কুমার পাল৷ মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ছাত্রীর বস্তাবন্দী মৃতদেহ দেহ উদ্ধার করে।
মৃত ছাত্রীর পরিবারের তরফে মেয়েকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ নিয়ে আসা হয়েছে। ছাত্রীর বাবা–মা বলেন, তাঁদের মেয়ের ওপর শিক্ষক মনোজ কুমারের কুনজর ছিল। মেয়ের মা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার মেয়ের ওপর কুনজর ছিল মনোজ কুমারের। আমার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলও। সেকথা মেয়ে আমাকে বলেছিল। মেয়ে যেদিন নিখোঁজ হয়, সেদিন ওই শিক্ষক স্কুলে যায়নি। তার পর থেকেই ওর ওপর সন্দেহ তৈরি হয়। আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে ৷ আমি চাই ওই শিক্ষকের ফাঁসি হোক।’
বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং বলেন, ‘ধৃত পুলিশের কাছে খুনের কথা স্বীকার করেছে। খুনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে কিনা, তাও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে আরও বিষয়টা স্পষ্ট হবে বিষয়টা।’
❤ Support Us





